সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শালুয়াভিটা হাটে হাত ধোয়ার বেসিন ধসে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আস সাদিক জামানকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. নাজরান রউফ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান।
সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শালুয়াভিটা হাটে হাত ধোয়ার বেসিন ধসে তার নীচে চাপা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়। নিহত শিশুরা হলো, খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের চর শৈলাবাড়ি গ্রামের ফরিদুল ইসলামে ছেলে রায়হান (৪) ও সজীব শেখের দেড় বছরের মেয়ে সুমি। আহত শিশুরা হলো, চর শৈলাবাড়ি গ্রামের মেনহাজের ছেলে আবির ও সামিদুলের শিশুকন্যা সানজিদা। আহত শিশুরা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২০২১ সালে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে শালুয়াভিটা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাত ধোয়ার জন্য ইট দিয়ে বেসিন তৈরি করা হয়। কোভিট-১৯ এর প্রকোপ কমে যাওয়ার পর বেসিনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। রোববার বিকেলে উপজেলার ওই বেসিনের ওপরে উঠে খেলছিল চারজন শিশু। হঠাৎ বেসিনটি ধসে চাপা পড়ে রায়হান, সুমি, আবির ও সানজিদা। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক রায়হান ও সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান জানান, করোনকালে হাত ধোয়ার জন্য শালুয়াভিটা হাটের একটি ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত করে বেসিনটি নির্মাণ করা হয়। হাট কমিটি ঘরটি ভেঙে ফেলায় বেসিনটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি পড়ে নিচে গর্ত হয়ে যায়। এ কারণে ধসে পড়েছে।
সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই শিশুর মৃত্যু খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতদের রাতেই দাফন করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















