সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

হাদির ওপর হত্যাকারীরা কেন চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল, জানাল ডিবি

ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।

 

 

তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিগত দিনের নানা কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রাখতেন। তার এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন।’

 

ডিবি-প্রধান আরও বলেন, ‘হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ফয়সাল ও অপর আসামি আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরণ বিশ্লেষণ করে তদন্তে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

 

এ মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

 

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ হাদির মৃত্যু হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

হাদির ওপর হত্যাকারীরা কেন চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল, জানাল ডিবি

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।

 

 

তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিগত দিনের নানা কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রাখতেন। তার এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন।’

 

ডিবি-প্রধান আরও বলেন, ‘হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ফয়সাল ও অপর আসামি আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরণ বিশ্লেষণ করে তদন্তে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

 

এ মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

 

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ হাদির মৃত্যু হয়।