সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৪৯ বছরের ইতিহাসে বিরল রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের রাজা

ফিফটির পর রাজাউল্লাহর উদযাপন। ছবি: ক্রিকইনফো

ছিল না কোনো পাসপোর্ট, ফোনও ছিল বন্ধ। একজন কোচ গ্রামে গিয়ে খুঁজে বের করেন তাকে। এরপর জরুরিভিত্তিতে বানানো হয় পাসপোর্ট। তারপর ভিসা পেয়েই উড়ে গেলেন ইংল্যান্ড। সেই অভিষিক্ত মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ গড়লেন টেস্ট ইতিহাসের বিরল রেকর্ড।

 

 

 

বল হাতে ইংলিশ ব্যাটারদের সামনে রাজাউল্লাহ রীতিমতো রাজত্ব করেছিলেন। ব্যাট হাতে যেন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। এমনই সব কীর্তি গড়েছেন, যা টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর নেই একটিও।

 

 

 

প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে একে একে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতির ঝড়ের সঙ্গে এমন উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলোচনায় এনেছিল। কে জানত, তিনি আরও বড় বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছিলেন তার ব্যাটের আড়ালে।

 

তিনি যখন ব্যাট হাতে নামছেন দলের দ্বিতীয় ইনিংসে, তখনও পাকিস্তানের ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে চাই ২ রান। এ অবশ্য খুব বড় বিষয় নয়, তবে তখন টেল এন্ডারদের ২টি উইকেট বাকি আছে মাত্র। এ বিষয়টাকে যখন মাথায় রাখবেন তখনই মনে হবে, এ তো স্রেফ দুটো ইয়র্কারের ব্যাপার।

এরপর শুরু হয় তার ‘শো’। সব মিলিয়ে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ৪৩ বলে ফিফটি করেছেন। অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে এরচেয়ে দ্রুততম ফিফটি নেই আর একটিও। অবশেষে তিনি থামেন ৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে। এই ইনিংস পাকিস্তানকে স্রেফ ইনিংস হারের লজ্জা থেকেই বাঁচায়নি, ১২৯ রানের লিড এনে দিয়ে জয়ের ক্ষীণতর একটা আশাও এনে দিয়েছে; তাও কম কীসে।

 

 

পাকিস্তান কী করবে, সেটা পরে দেখা যাবে। তৃতীয় দিনে যা করেছেন রাজা, তাই তাকে তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। অভিষেকে ৯ ছক্কা, এমন কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাস দেখেছে আর একবার মোটে। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি হাঁকিয়েছিলেন সমানসংখ্যক ছক্কা, তবে সেটা ছিল নেপিয়ারে, নিজেদের ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষের মাঠে অভিষেকে এমন কীর্তি ক্রিকেটের ১৪৯ বছরেই আর কখনো দেখা যায়নি।

 

 

 

মজার বিষয় হলো, রাজাউল্লাহর এই কীর্তির সাক্ষী ছিলেন খোদ সাউদি নিজেই। অবসরপ্রাপ্ত এই কিউই পেসার এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে আছেন।

 

 

 

ছক্কার রেকর্ড হয়েছে জুটিতেও। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তার এই জুটিতে এসেছে ১০টি ছক্কা। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনো শেষ তিন ব্যাটার মিলে এই সংখ্যক ছক্কা হাঁকাতে পারেননি।

 

 

 

৯টি ছক্কায় ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে ১৫৫ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই রেকর্ডেও গতকাল ভাগ বসিয়েছেন রাজা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৪৯ বছরের ইতিহাসে বিরল রেকর্ড গড়লেন পাকিস্তানের রাজা

আপডেট টাইম : ১২:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছিল না কোনো পাসপোর্ট, ফোনও ছিল বন্ধ। একজন কোচ গ্রামে গিয়ে খুঁজে বের করেন তাকে। এরপর জরুরিভিত্তিতে বানানো হয় পাসপোর্ট। তারপর ভিসা পেয়েই উড়ে গেলেন ইংল্যান্ড। সেই অভিষিক্ত মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ গড়লেন টেস্ট ইতিহাসের বিরল রেকর্ড।

 

 

 

বল হাতে ইংলিশ ব্যাটারদের সামনে রাজাউল্লাহ রীতিমতো রাজত্ব করেছিলেন। ব্যাট হাতে যেন সেটাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। এমনই সব কীর্তি গড়েছেন, যা টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর নেই একটিও।

 

 

 

প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে একে একে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। গতির ঝড়ের সঙ্গে এমন উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলোচনায় এনেছিল। কে জানত, তিনি আরও বড় বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছিলেন তার ব্যাটের আড়ালে।

 

তিনি যখন ব্যাট হাতে নামছেন দলের দ্বিতীয় ইনিংসে, তখনও পাকিস্তানের ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে চাই ২ রান। এ অবশ্য খুব বড় বিষয় নয়, তবে তখন টেল এন্ডারদের ২টি উইকেট বাকি আছে মাত্র। এ বিষয়টাকে যখন মাথায় রাখবেন তখনই মনে হবে, এ তো স্রেফ দুটো ইয়র্কারের ব্যাপার।

এরপর শুরু হয় তার ‘শো’। সব মিলিয়ে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ৪৩ বলে ফিফটি করেছেন। অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে এরচেয়ে দ্রুততম ফিফটি নেই আর একটিও। অবশেষে তিনি থামেন ৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে। এই ইনিংস পাকিস্তানকে স্রেফ ইনিংস হারের লজ্জা থেকেই বাঁচায়নি, ১২৯ রানের লিড এনে দিয়ে জয়ের ক্ষীণতর একটা আশাও এনে দিয়েছে; তাও কম কীসে।

 

 

পাকিস্তান কী করবে, সেটা পরে দেখা যাবে। তৃতীয় দিনে যা করেছেন রাজা, তাই তাকে তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। অভিষেকে ৯ ছক্কা, এমন কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাস দেখেছে আর একবার মোটে। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি হাঁকিয়েছিলেন সমানসংখ্যক ছক্কা, তবে সেটা ছিল নেপিয়ারে, নিজেদের ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষের মাঠে অভিষেকে এমন কীর্তি ক্রিকেটের ১৪৯ বছরেই আর কখনো দেখা যায়নি।

 

 

 

মজার বিষয় হলো, রাজাউল্লাহর এই কীর্তির সাক্ষী ছিলেন খোদ সাউদি নিজেই। অবসরপ্রাপ্ত এই কিউই পেসার এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে আছেন।

 

 

 

ছক্কার রেকর্ড হয়েছে জুটিতেও। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তার এই জুটিতে এসেছে ১০টি ছক্কা। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনো শেষ তিন ব্যাটার মিলে এই সংখ্যক ছক্কা হাঁকাতে পারেননি।

 

 

 

৯টি ছক্কায় ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে ১৫৫ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই রেকর্ডেও গতকাল ভাগ বসিয়েছেন রাজা।