জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ ভরাডুবি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে মাত্র ৫ জন। বাকী ২২ জনেই ফেল করেছে। এর মধ্যে ইংরেজী বিষয়েই ফেল করেছে ২০ জন। পাশের হার মাত্র ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এই ফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এসব তথ্য জানা যায়।
একই অবস্থা সরকারি সাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজেরও। ৪৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারা পরিচালিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে ৯৭ জন পাশ করেছে। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৮ জন পরীক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ১২৮ জন।
অন্যদিকে ক্ষেতলাল খোশবদন জিইউ আলিম মাদ্রাসা থেকে মোট ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৮ জন এবং ফেল করেছে করেছে ৫ জন শিক্ষার্থী। তবে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক আছেন ১০ জন।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩৭ জন পরিক্ষার্থীর ৯ জন অকৃতকার্য। বুড়াইল দারুস সালাম ফাজিল মাদ্রাসার ৯ জন পরিক্ষার্থীর ২ জনই অকৃতকার্য। শিবপুর নোমানিয়া আলিম মাদ্রাসার ২১ জন পরিক্ষার্থীর ৫ জন অকৃতকার্য।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। বুড়াইল দারুস সালাম ফাজিল মাদ্রাসায় ৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন ফেল করেছে। অপরদিকে, শিবপুর নোমানিয়া আলিম মাদ্রাসায় ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
ফলাফলে এমন ভরাডুবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকার পরও কেন এত শিক্ষার্থী ফেল করবে?
উপজেলার সচেতন নাগরিকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, ক্লাস পরিচালনা ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়া এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেইল করার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ার মূল কারণ হলো বিবাহ। ভর্তির পর অনেক শিক্ষার্থী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছিল যে পড়াশোনা না করেও পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব। ফলে তারা নিয়মিত ক্লাসে অনীহা দেখায়, যার প্রভাব পড়েছে ফলাফলেও।
ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এই হতাশাজনক ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জুলফিকার আলী বলেন, আমাদের কলেজে মাত্র ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাই বাইরে থেকে একজন ইংরেজি শিক্ষক এনে ক্লাস করাতে হয়। তাছাড়া যেসব শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারে না, তারাই এখানে ভর্তি হয়। এজন্য ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে দুর্বলতা এবং শিক্ষক সংকটকে এই খারাপ ফলাফলের প্রধান কারণকেই দায়ী করেছেন তিনি।
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে সরকারি সাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ইদ্রিস আলী বলেন, এবারে তো সারাদেশেই রেজাল্ট বিপর্যয় হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। ফেলকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজিতে এবং আইসিটিতে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কলেজে আসে না। ছাত্রদের মন মানসিকতাও খুব একটা ভাল না। এবিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষকদের ব্যর্থতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি কিন্তু অনেক শিক্ষকদের কনট্রোল করতে পারি না। তারা পাইভেট এবং কোচিংয়েই বেশি মনোযোগী। আমি এসব নিয়ে অনেকবার লেখেছি।
ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতি.দা.) কাজী মনোয়ারুল হাসান বলেন, সারাদেশেই তো একই অবস্থা, ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানও এবার খারাপ করেছে। আপনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেন উনিই ভালো বলতে পারবেন এর কারণ কি? তবে এমন ফলাফল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বার্তা- তাদের বুঝতে হবে, মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা না করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

রিপোর্টার: 




















One thought on “২৭ পরীক্ষার্থীর ২২ জন ফেল! ভরাডুবি ইংরেজীতে”