সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়াধানগড়া কাজিপুর মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধভাবে দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে হারুন-অর-রশিদ গংয়ের বিরুদ্ধে। ৫৪ বছর আগে সরকার ওই জমি অধিগ্রহণ করলেও তিনি নতুন করে ভুমির মূল্য আদায়ের পায়তারা করে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে তিনি আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছেন যেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকেও বিবাদী করেছেন।
এদিকে ওই জমি থেকে হারুন-অর-রশিদকে উচ্ছেদ করার দাবী জানিয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সচিব ইবরাহিম হোসেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে যোগাযোগমন্ত্রী শহীদ এম মনসুর আলী কাজিপুর-সিরাজগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ করেন। ওই সময় সয়াধানগড়া কাজিপুর মোড় এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সয়াধানগড়া মৌজার এসএ দাগ ১৬৫৮ এ ০.৪৮ একর ও ১৬৫৯ দাগে ০.৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই জমির ওয়ারিশ হারুন-অর-রশিদ, শিরি খাতুন, শিউলি খাতুন, হাসনা ভানু, আব্দুল মান্নান, আব্দুল হান্নান, আব্দুল রাজ্জাক, মো. ওয়ারেজ, টুলু বিবি, সুফিয়া খাতুন, কমলা খাতুন ও খুকি বিবিকে অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে দেয়।
তারপরও সরকারি ওই জমি আজ পর্যন্ত ভোগদখল করে বসবাস করে আসছেন হারুন অর রশিদ গং। এরপর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিবাদী করে মামলাও দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ ও আব্দুর রাজ্জাক ভূমিদস্যূ, কুচক্রি ও মামলাবাজ। তারা সরকারী সম্পত্তি নিজেদেরকে দাবী করে মোটা অংকের জামানত নিয়ে দোকানের পজিশন ভাড়া দিচ্ছে। একই সাথে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির পায়তারাও করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ১৬৫৮ ও ১৬৫৯ দাগের .৭৯ একর জমি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির উপর হারুন-অর-রশিদ গং দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছে। ওই সম্পত্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হারুন-অর-রশিদ সয়াধানগড়া কাজিপুর মোড় এলাকায় সরকারি জায়গাতেই এখনো বসবাস করছেন। সেখানে বেশ কিছু দোকানপাটও পজিশন বিক্রি করেছেন এমনটাই দাবী স্থানীদের।
নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ১৯৭২ সালে অধিগ্রহণ করেছে সেই টাকা আমরা তুলি নাই। সেই টাকা আরেকজন তুলেছে বলে দাবী করেন তিনি। আমি জায়গার উপর মামলা করেছি।
টাকা প্রদানের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই করে তারপরে দেওয়া হয়। যদি কোন ভূমি একবার অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে আর দ্বিতীয়বার অধিগ্রহণ করা হয় না। বাটোয়ারা মামলা যদি থাকে, আদালত যে রায় দেবে তার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। কারও যদি কোন অসত উদ্দেশ্য থাকে সেটা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কাগজপত্র দেখেই অধিগ্রহণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















