জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একটি দল। চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম সদস্য কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের কৃতিসন্তান কৃষিবিদ মারুফ মোস্তফা মুনিম। কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করে এ সাফল্য অর্জন করেন তাঁরা।
মারুফ মোস্তফা মুনিমের বাবা মো. মোস্তফা কামাল। তিনি ২০১৫ সালে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক এবং প্ল্যান্ট প্যাথলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কৃষিকে আধুনিক ও রপ্তানিমুখী করার সমন্বিত মডেল
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘Farmer-Centered Smart Agricultural Ecosystem for Future Bangladesh’ শীর্ষক মডেলটিতে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়।
প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষক ও বাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মাটি, জলবায়ু ও বাজারের চাহিদাভিত্তিক নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন, কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ধারণাও মডেলটিতে তুলে ধরা হয়েছে। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সমন্বয় বাড়িয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য তিন শিক্ষার্থী
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন—শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম এবং একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া।
নিজেদের অর্জন সম্পর্কে মারুফ মোস্তফা মুনিম বলেন, “এ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগানোর সুযোগ বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু আমাদের তিনজনের নয়; শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের সম্মিলিত গৌরব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে বাংলাদেশের কৃষির সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজতে চাই।”
দলের আরেক সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, “কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে দক্ষ ও বাজারমুখী করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন আমাদের এ মডেল।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মডেলটি সরকারের বিবেচনায় আসবে এবং বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। এতে কৃষিসেবার সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
দলের আরেক সদস্য মো. রিয়াদ মিয়া বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা শুধু প্রতিযোগিতায় জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের কৃষির টেকসই রূপান্তর ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাস্তব অবদান রাখতে চাই। এ অর্জন দেশের কৃষির জন্য আরও কার্যকর কিছু করার দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে।”
এদিকে, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের পুরস্কৃত করার কথা রয়েছে।

আকিল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















