সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ইবির শিক্ষিকা খুন, ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিহত শিক্ষিকা ও স্বজনদের আহাজারী। ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরে ধারালো কিছু দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা।

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান চিকিৎসকরা। এরপর পরিবারের কাছে আসমা সাদিয়া রুনার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

 

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম নেতৃত্বে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় । এ সময় তার সহযোগী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসা ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া।

 

 

আরএমও হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে গলায় গভীর ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলেই মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও তার বুক, পেট, হাত-পাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এতে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, ধারনা করা যায় ঘটনার সময় হাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন ওই তিনি। যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তা দেখে মনে হয়েছে এটা ঘাতকের ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

নিহত রুনার স্বজনেরা জানান, বুধবার রাতে স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান স্ত্রী হত্যার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এজাহার দাখিল করেন।

এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফজলুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যান বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিষ্টার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

 

 

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পুরো পরিবার ধ্বংস করে দিল এই ঘাতক। রুনার সঙ্গে বিভাগের নানা আর্থিক বিষয়ে ফজলুরের দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন সময়ে ঘাতক ফজলুর নানা বিষয়ে চাপ দিত। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ জানতো। এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। এত বড় ঘটনা কারও ইন্ধন ছাড়া ঘটতে পারে না। এত বড় সাহস হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে এই সবকিছু করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক জড়িত বলে আমরা মনে করি। এজন্য মামলায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চার জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ-প্রশাসনের একাধিক শাখা কাজ করছে।

 

 

মর্গের সামনে নিহত শিক্ষকের স্বজনেরা জানান, রুনার ছোট ছোট তিনটি মেয়ে একটি ছেলে রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি বাচ্চা এখনও বুঝতে পারেনি তাদের মা আর বেঁচে নেই। ছোট বাচ্চার বয়স মাত্র দেড় বছর।

 

 

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ইবির শিক্ষিকা খুন, ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরে ধারালো কিছু দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা।

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান চিকিৎসকরা। এরপর পরিবারের কাছে আসমা সাদিয়া রুনার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

 

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম নেতৃত্বে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় । এ সময় তার সহযোগী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসা ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া।

 

 

আরএমও হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে গলায় গভীর ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলেই মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও তার বুক, পেট, হাত-পাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এতে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, ধারনা করা যায় ঘটনার সময় হাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন ওই তিনি। যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তা দেখে মনে হয়েছে এটা ঘাতকের ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

নিহত রুনার স্বজনেরা জানান, বুধবার রাতে স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান স্ত্রী হত্যার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এজাহার দাখিল করেন।

এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফজলুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যান বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিষ্টার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

 

 

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পুরো পরিবার ধ্বংস করে দিল এই ঘাতক। রুনার সঙ্গে বিভাগের নানা আর্থিক বিষয়ে ফজলুরের দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন সময়ে ঘাতক ফজলুর নানা বিষয়ে চাপ দিত। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ জানতো। এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। এত বড় ঘটনা কারও ইন্ধন ছাড়া ঘটতে পারে না। এত বড় সাহস হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে এই সবকিছু করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক জড়িত বলে আমরা মনে করি। এজন্য মামলায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চার জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ-প্রশাসনের একাধিক শাখা কাজ করছে।

 

 

মর্গের সামনে নিহত শিক্ষকের স্বজনেরা জানান, রুনার ছোট ছোট তিনটি মেয়ে একটি ছেলে রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি বাচ্চা এখনও বুঝতে পারেনি তাদের মা আর বেঁচে নেই। ছোট বাচ্চার বয়স মাত্র দেড় বছর।

 

 

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।