নওগাঁর রানীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান কাশিমপুর রাজবাড়ি। দখল ও যত্রতত্র বসতবাড়ি গড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমিদারবাড়িটি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। অবশিষ্ট স্মৃতি চিহ্নটুকু গত ১৩ অক্টোবর ভোরে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজবাড়িটি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থাপনাটিতে লাল সাইনবোর্ড ঝুলানোসহ তারকাঁটা বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। আর লোহার অ্যাঙ্গেলগুলোর চুরি ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, রাজবাড়ির জমির একটি অংশে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নজরদারির অভাবে রাজবাড়ির বাকি অংশ দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কেউ আবার গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকারি এই সম্পত্তি রক্ষা করে মিনি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক কাশিমপুর রাজবাড়ি। বাড়ির শুধু আবাসিক এলাকা ছিল দুই একর ১৯ শতক। এই রাজ পরিবারের অনেক সদস্য কিছুটা মেজাজি হওয়ায় বাড়িটিকে পাগলা রাজার বাড়ি বলে ডাকতেন তৎকালীন বাসিন্দারা। দুটি মন্দিরের কিছু অংশ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা ঝাড়-জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে। রাজবাড়ির মূল ভবনের সামনের চারটি গম্বুজ, উত্তর পাশে হাওয়াখানা ও পশ্চিম পাশে একটি দুর্গা মন্দির ছিল। মন্দিরের পাশে বৈঠকখানা ও পুকুর ছিল। এ ছাড়া নদীর ধারে একটি কাচের ঘরের তৈরি বালিকা বিদ্যালয় ছিল—এসব এখন শুধুই স্মৃতি।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর কাশিমপুর রাজবংশের সবাই ভারতে চলে যান। শুধু ছোট রাজা শক্তি প্রসন্ন লাহিড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত এ রাজবাড়িতে বাস করতেন। পরে পরিস্থিতি বুঝে তিনিও সব ফেলে ভারতে চলে যান।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, কাশিমপুরের পাগলা রাজা নাটোরের রাজার বংশধর। অন্নদা প্রসন্ন লাহড়ী বাহাদুর ছিলেন এ রাজত্বের শেষ রাজা। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। বর্তমানে রাজবাড়িরর শেষ অংশটুকু গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার করায় শেষ চিহ্নটুকু ভেঙে পড়া শুরু হয়েছে।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, রাজবাড়ির ওই অংশটুকু ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এর আগে কয়েকবার রাজবাড়িটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সামনে এগোতে পারিনি। এখন দখলবাজদের কবলে রাজবাড়ির বিশাল সম্পত্তি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তবে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এসব নিদর্শন রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব পালন করে থাকে। রাজবাড়ির অবশিষ্ট এ নিদর্শন রক্ষা করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 





















