সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

খাবার দিতে বাক্স খুলতেই গোখরার ছোবল, হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন (৪৫)। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল।

এ সময় সাপটি তার হাতে ছোবল দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ইকবাল হোসেন ভুইয়াকান্দি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।

তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে।

পরে ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর।

কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, আমরা বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ভাইকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবাল বাক্স খুলে সাপটিকে খাবার দিতে যান। খাবার রাখার সময় সাপটি তার ডান হাতে ছোবল মারে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজনরা সেখানে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

ইকবালকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার বলেন, তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবার দিতে বাক্স খুলতেই গোখরার ছোবল, হাসপাতালে কাঠমিস্ত্রি

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন (৪৫)। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল।

এ সময় সাপটি তার হাতে ছোবল দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ইকবাল হোসেন ভুইয়াকান্দি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।

তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে।

পরে ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর।

কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, আমরা বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ভাইকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবাল বাক্স খুলে সাপটিকে খাবার দিতে যান। খাবার রাখার সময় সাপটি তার ডান হাতে ছোবল মারে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজনরা সেখানে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

ইকবালকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার বলেন, তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।