সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

জলঢাকায় টুইন পিট ল্যাট্রিন স্থাপন প্রকল্পে চলছে হরিলুট

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • 60

কামরুজ্জামান (কামরুল) নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

 

নীলফামারীর জলঢাকায় টুইন পিট ল্যাট্রিন স্থাপন প্রকল্পে সরকারি টাকার হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গ্রামীন মানব সম্পদ উন্নয়নে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশান প্রকল্পের আওতায় ল্যাট্রিন তৈরি করে হতদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারে স্থাপন করা হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দুই শতাধিক টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মান করে তা অসচ্ছল দরিদ্রদের বাড়ী স্থাপনে কথা। কিন্তু বাছাই কমিটি ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব ল্যাট্রিন সচ্ছল লোকজনের বাড়ীতে স্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের খোয়া ও মেথি বালু দিয়ে রিং স্লাব ও পিলার তৈরী করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এই প্রতিবেদক খুটামারা ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহে গেলে সেখানে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তিতলী স্যানিটেশনের নির্মান শ্রমিক ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পায়নি। সংশ্লিষ্টৈ ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি আসতে অপারগতা জানান।

মীরগঞ্জ ইউনিয়নের ল্যাট্রিন নির্মানকারি প্রতিষ্ঠান আব্দুস সাত্তার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বালার পুকুর নামক স্থানে এই ল্যাট্রিনের রিং স্লাব ও পিলার তৈরী করছেন। তিনি রিং স্লাব ও পিলার নির্মানে চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে একাধিক খোয়ার স্তুপ করে রেখেছেন এবং এই ল্যাট্রিন নির্মানে সবচেয়ে নিম্নমানের ৩ নম্বর খোয়া ও ভিটি বালু ব্যবহার করছেন।

প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মান ও স্থাপন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রদত্ত রিং, স্লাব, প্যান, ঢেউটিন, পিলার, খোয়া, সিমেন্ট ও মিস্ত্রী খরচ মিলে যার খরচ কোনোভাবেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশী নয় বলে সুফলভোগী সাদের আলী জানান। অর্থাৎ প্রতিটি ল্যাট্রিন স্থাপনে নিট লাভ দাড়াচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। সরকারি টাকার এমন যথেচ্ছ অপব্যবহার ও লুটপাটে হতবাক সাধারন জনগন।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী নীলফামারী মহোদয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান যে, সুবিধাভোগী তালিকা প্রস্ততকরনে তার কোনো হাত নেই, এটি দাতা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই মাঠ পর্যায়ে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগনের সহায়তায় তৈরী করেছে। তবে তালিকায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রকম অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি করে থাকলে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি গন মাধ্যমকর্মীদের জানান।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

জলঢাকায় টুইন পিট ল্যাট্রিন স্থাপন প্রকল্পে চলছে হরিলুট

আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

কামরুজ্জামান (কামরুল) নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

 

নীলফামারীর জলঢাকায় টুইন পিট ল্যাট্রিন স্থাপন প্রকল্পে সরকারি টাকার হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গ্রামীন মানব সম্পদ উন্নয়নে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশান প্রকল্পের আওতায় ল্যাট্রিন তৈরি করে হতদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারে স্থাপন করা হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দুই শতাধিক টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মান করে তা অসচ্ছল দরিদ্রদের বাড়ী স্থাপনে কথা। কিন্তু বাছাই কমিটি ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব ল্যাট্রিন সচ্ছল লোকজনের বাড়ীতে স্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের খোয়া ও মেথি বালু দিয়ে রিং স্লাব ও পিলার তৈরী করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এই প্রতিবেদক খুটামারা ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহে গেলে সেখানে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তিতলী স্যানিটেশনের নির্মান শ্রমিক ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পায়নি। সংশ্লিষ্টৈ ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি আসতে অপারগতা জানান।

মীরগঞ্জ ইউনিয়নের ল্যাট্রিন নির্মানকারি প্রতিষ্ঠান আব্দুস সাত্তার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বালার পুকুর নামক স্থানে এই ল্যাট্রিনের রিং স্লাব ও পিলার তৈরী করছেন। তিনি রিং স্লাব ও পিলার নির্মানে চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে একাধিক খোয়ার স্তুপ করে রেখেছেন এবং এই ল্যাট্রিন নির্মানে সবচেয়ে নিম্নমানের ৩ নম্বর খোয়া ও ভিটি বালু ব্যবহার করছেন।

প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মান ও স্থাপন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রদত্ত রিং, স্লাব, প্যান, ঢেউটিন, পিলার, খোয়া, সিমেন্ট ও মিস্ত্রী খরচ মিলে যার খরচ কোনোভাবেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশী নয় বলে সুফলভোগী সাদের আলী জানান। অর্থাৎ প্রতিটি ল্যাট্রিন স্থাপনে নিট লাভ দাড়াচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। সরকারি টাকার এমন যথেচ্ছ অপব্যবহার ও লুটপাটে হতবাক সাধারন জনগন।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী নীলফামারী মহোদয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান যে, সুবিধাভোগী তালিকা প্রস্ততকরনে তার কোনো হাত নেই, এটি দাতা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই মাঠ পর্যায়ে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগনের সহায়তায় তৈরী করেছে। তবে তালিকায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রকম অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি করে থাকলে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি গন মাধ্যমকর্মীদের জানান।