নীলফামারীর জলঢাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জলঢাকা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার নায়েবে আমির ও জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান, বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলাম বাঙালী, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও জলঢাকা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, এনসিপি নেতা মোহায়মেনুর রহমান সানা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জলঢাকা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বিভূতিভূষণ রায়, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান এবং জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধি এসআই ফিরোজ আহমেদ।
এ ছাড়া সভায় সাংবাদিক, বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে এআই ক্যামেরা অথবা সম্ভব হলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী অন্তত তিন থেকে চারজন স্বেচ্ছাসেবককে পর্যায়ক্রমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিসর্জনের দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ অথবা সীমিত রাখতে হবে।
সভায় ইউএনও জানান, এ বছর জলঢাকা উপজেলায় মোট ১৮৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারিভাবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ১০০ কেজি বেশি।
সভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















