সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাল ওয়ারিশান সনদের মাধ্যমে হিন্দু পরিবারের ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল

শাহজাদপুর পৌর এলাকার সাহাপাড়া মহল্লার এক হিন্দু পরিবারের প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জাল ওয়ারিশান সনদ সৃষ্টি করে হাতিয়ে নিয়েছে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসার গং।

 

 

শুধু তাই নয় শাহজাদপুর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ওই আইনজীবী ও তার সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজোসে জাল ওয়ারিশান সনদ ব্যবহার করে রথীন্দ্র নারায়ন দেওয়ান (৬৫) কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে পাওয়ার অফ এটর্নি নিয়ে তড়িঘড়ি করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন রথিন্দ্র নারায়ন দেওয়ানের মৃত বড় ভাই অ্যাডভোকেট বরেন্দ্র নারায়ন দেওয়ানের ছেলে (ভাতিজা) শান্তনু দেওয়ান। সংবাদ সম্মেলনে শান্তনু দেওয়ান বলেন,  আমার দাদা (ঠাকুরদা) ব্রজেন্দ্র নারায়ন দেওয়ান আমার বাবা কাকা পিসি সহ  ৬ জনকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পৌরসভা কার্যালয় থেকে ৬ জনের  নাম উল্লেখ সম্বলিত ওয়ারিশান সনদপত্র প্রদান করে। যার ওয়ারিশান সনদ নং ১৭৯৫ (৬) ।

 

 

লিখিত বক্তব্যে শান্তনু দেওয়ান আরো জানান, তার অবিবাহিত কাকা রথীন্দ্র নারায়ণ দেওয়ান (৬৫) কিছুটা মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কোন কাজ করতেন না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় হযরত মখদুম শাহ দৌলার মাজারে ভক্তদের সাথে সময় কাটাতেন ।  গত ১০/০৭ /২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে গত ১৬/০৭/ ২০২৬ তারিখে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করি।

 

 

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমার কাকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (যার নম্বর ০১৭২৬৩৫৯৫২৫) বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে আমি স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার কাকা রথীন্দ্র দেওয়ান নিখোঁজ থাকা অবস্থায় জাল ওয়ারিশান সনদ সৃষ্টি করে নিজেকে একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দ্বারিয়াপুর মৌজার বিভিন্ন দাগের ৫৪ শতক জমি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসার সহ তিনজনের কাছে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে বিক্রি করেছেন। এছাড়া একই দিন নিখোঁজ রথীন্দ্র দেওয়ান জাল ওয়ারিশান সনদের মাধ্যমে নিজেকে একক ওয়ারিশ দাবি করে দারিয়াপুর ও বেজগাতী মৌজার বিভিন্ন দাগের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি /ভূমি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসারের নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করে দেয়।

 

 

ওই পাওয়ার অ্যাটর্নিমূলে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ জোরপূর্বক জমি দখল করে বিক্রি করছে। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ কাকার কোন সন্ধান পাইনি। শান্তনু দেওয়ান আরো বলেন, এই বিষয়ে তার মা লিপি রানী দেওয়ান অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ, তার স্ত্রী ও ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে থানা পুলিশ অদ্যাবধি আমার কাকার কোন সন্ধান দিতে পারেননি।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শান্তনু দেওয়ান বলেন, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন থাকার পরেও কি কারনে তার কাকা আব্দুল আজিজ আনসারকে পাওয়ার অফ এটর্নি দিয়েছেন তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ সময়ে শান্তনু দেওয়ান ও তার মা লিপি দেওয়ান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ হওয়া রথীন্দ্র নারায়ন দেওয়ান আদৌ জীবিত আছেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শান্তনু দেওয়াান ও তার মা কান্না জড়িত কন্ঠে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাল ওয়ারিশান সনদের মাধ্যমে হিন্দু পরিবারের ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল

আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শাহজাদপুর পৌর এলাকার সাহাপাড়া মহল্লার এক হিন্দু পরিবারের প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জাল ওয়ারিশান সনদ সৃষ্টি করে হাতিয়ে নিয়েছে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসার গং।

 

 

শুধু তাই নয় শাহজাদপুর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ওই আইনজীবী ও তার সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজোসে জাল ওয়ারিশান সনদ ব্যবহার করে রথীন্দ্র নারায়ন দেওয়ান (৬৫) কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে পাওয়ার অফ এটর্নি নিয়ে তড়িঘড়ি করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন রথিন্দ্র নারায়ন দেওয়ানের মৃত বড় ভাই অ্যাডভোকেট বরেন্দ্র নারায়ন দেওয়ানের ছেলে (ভাতিজা) শান্তনু দেওয়ান। সংবাদ সম্মেলনে শান্তনু দেওয়ান বলেন,  আমার দাদা (ঠাকুরদা) ব্রজেন্দ্র নারায়ন দেওয়ান আমার বাবা কাকা পিসি সহ  ৬ জনকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পৌরসভা কার্যালয় থেকে ৬ জনের  নাম উল্লেখ সম্বলিত ওয়ারিশান সনদপত্র প্রদান করে। যার ওয়ারিশান সনদ নং ১৭৯৫ (৬) ।

 

 

লিখিত বক্তব্যে শান্তনু দেওয়ান আরো জানান, তার অবিবাহিত কাকা রথীন্দ্র নারায়ণ দেওয়ান (৬৫) কিছুটা মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কোন কাজ করতেন না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় হযরত মখদুম শাহ দৌলার মাজারে ভক্তদের সাথে সময় কাটাতেন ।  গত ১০/০৭ /২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে গত ১৬/০৭/ ২০২৬ তারিখে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করি।

 

 

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমার কাকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (যার নম্বর ০১৭২৬৩৫৯৫২৫) বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে আমি স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার কাকা রথীন্দ্র দেওয়ান নিখোঁজ থাকা অবস্থায় জাল ওয়ারিশান সনদ সৃষ্টি করে নিজেকে একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দ্বারিয়াপুর মৌজার বিভিন্ন দাগের ৫৪ শতক জমি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসার সহ তিনজনের কাছে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে বিক্রি করেছেন। এছাড়া একই দিন নিখোঁজ রথীন্দ্র দেওয়ান জাল ওয়ারিশান সনদের মাধ্যমে নিজেকে একক ওয়ারিশ দাবি করে দারিয়াপুর ও বেজগাতী মৌজার বিভিন্ন দাগের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি /ভূমি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ আনসারের নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করে দেয়।

 

 

ওই পাওয়ার অ্যাটর্নিমূলে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ জোরপূর্বক জমি দখল করে বিক্রি করছে। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ কাকার কোন সন্ধান পাইনি। শান্তনু দেওয়ান আরো বলেন, এই বিষয়ে তার মা লিপি রানী দেওয়ান অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ, তার স্ত্রী ও ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে থানা পুলিশ অদ্যাবধি আমার কাকার কোন সন্ধান দিতে পারেননি।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শান্তনু দেওয়ান বলেন, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন থাকার পরেও কি কারনে তার কাকা আব্দুল আজিজ আনসারকে পাওয়ার অফ এটর্নি দিয়েছেন তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ সময়ে শান্তনু দেওয়ান ও তার মা লিপি দেওয়ান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ হওয়া রথীন্দ্র নারায়ন দেওয়ান আদৌ জীবিত আছেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শান্তনু দেওয়াান ও তার মা কান্না জড়িত কন্ঠে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।