সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

জ্যোতির দাবি: মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা

নিগার সুলতানা জ্যোতি: সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরেই বিতর্কের ঝড়।

জুনিয়রদের শারীরিকভাবে শাসন থেকে শুরু করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে হস্তক্ষেপ, এমন নানা অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে তার নেতৃত্বে। ঠিক এই সময় শিনবোনের (পায়ের নীচের অংশের সবচেয়ে বড় হাড়) চোট সারাতে বিকেএসপিতে পুনর্বাসনে থাকা জ্যোতি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিলেন।

শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে তিনি ড্রেসিংরুমে তথাকথিত ‘স্বৈরশাসন’, সিনিয়রদের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

জ্যোতি জানান, তার পুনর্বাসন ভালোভাবেই চলছে। তিন-চার মাস ধরে শিনবোনে চোট থাকলেও বিশ্বকাপের গুরুত্বের কারণে খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই বোর্ডকে জাতীয় ক্রিকেট লিগ না খেলার কথা জানিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ে চিকিৎসকেরা তাকে চার থেকে ছয় সপ্তাহের বিশ্রাম এবং বিশেষায়িত ফিটনেস কাজের পরামর্শ দেন। নিজ জেলা শেরপুরে সেই সুবিধা না থাকায় তিনি বিকেএসপিতে রয়েছেন।

বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স যে চোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা অকপটে মেনে নেন তিনি, ‘এই বিশ্বকাপটা আমার অনুকূলে ছিল না। কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও পারফর্ম করতে পারিনি। আমি স্বাভাবিক ধারায় থাকলে আমরা হয়তো আরও দুই ম্যাচ জিততে পারতাম।’

‘স্বৈরাচারী’ তকমা ও সিনিয়রদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

ড্রেসিংরুমে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জ্যোতি, ‘আমি কোনোভাবেই স্বৈরাচারী নই… কে এসব বলছে এবং কেন বলছে—এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।’

সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলম ও রুমানা আহমেদকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ‘সিন্ডিকেট’ গড়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমি কে? আমি কি নির্বাচক?’

তার দাবি, ২০২১ সালে অধিনায়ক হওয়ার পরেও ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে পর্যন্ত তাকে নির্বাচক প্যানেলের বৈঠকে রাখা হতো না। তিনি অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতোই ম্যাচের দিন একাদশ জানতে পারতেন। স্কোয়াড নির্বাচনেও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হতো না।

একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে এক ম্যাচে সালমা খাতুনসহ কয়েকজন সিনিয়র একাদশে ছিলেন না। তখন সালমা তাকে বলেছিলেন, ‘তুই আমাদের বসিয়ে রাখলি?’

জ্যোতি জানান, তিনি কিছুই না জানার কথা বললে সালমা বলেন, ‘তাহলে তুই শুধু টস করতেই ক্যাপ্টেন?’

জবাবে জ্যোতি জানান, ‘কিছুটা তাই। তারা মনে করতেন আমি ছোট, অপরিপক্ব—তাই আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাখা হতো না।’

তার মতে, সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার মূল কারণ ছিল ‘গ্রহণযোগ্যতার সংকট’। তার ভাষায়, ‘আমাকে অধিনায়ক করার পরই সমস্যা শুরু। শুনেছি—একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই চার–পাঁচজন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা একজন জুনিয়রের অধীনে খেলবেন না।’

মারধর বিতর্ক ও মারুফাকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

জ্যোতি জুনিয়রদের গালিগালাজ বা মারধর করার অভিযোগকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন। তার দাবি, ‘একজনই এসব বলেছে, বহুজন না।’

মুর্শিদাকে ২০২২ জাতীয় ক্রিকেট লিগে চড় মারার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তখন তারা ভিন্ন দলে খেলেছিলেন এবং তাদের মধ্যে খুব কমই কথা হতো।’

শ্রীলঙ্কায় মারুফাকে ধমক দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিকৃতভাবে ছড়ানো’ হয়েছে উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, মারুফার ক্যাচিংয়ে সমস্যা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ ফেলায় এবং হাত আঘাত পাওয়ায় তাকে মাঠের বাইরে যেতে বলেছিলেন। পরে মারুফা জানান, জ্যোতির কথায় নয়—নিজের ফিল্ডিং হতাশা থেকেই কেঁদেছিলেন।

ভারত সিরিজের আগে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

দলীয় সম্পর্ক ও আস্থা পুনর্গঠন যে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তা স্বীকার করেন অধিনায়ক, ‘প্রথমত আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত সিনিয়র–জুনিয়রদের বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে… ভালোবাসা, সম্মান বা সমর্থন জোর করে পাওয়া যায় না। এগুলো অর্জন করতে হয়। আমি সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

জ্যোতির দাবি: মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরেই বিতর্কের ঝড়।

জুনিয়রদের শারীরিকভাবে শাসন থেকে শুরু করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে হস্তক্ষেপ, এমন নানা অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে তার নেতৃত্বে। ঠিক এই সময় শিনবোনের (পায়ের নীচের অংশের সবচেয়ে বড় হাড়) চোট সারাতে বিকেএসপিতে পুনর্বাসনে থাকা জ্যোতি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিলেন।

শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে তিনি ড্রেসিংরুমে তথাকথিত ‘স্বৈরশাসন’, সিনিয়রদের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

জ্যোতি জানান, তার পুনর্বাসন ভালোভাবেই চলছে। তিন-চার মাস ধরে শিনবোনে চোট থাকলেও বিশ্বকাপের গুরুত্বের কারণে খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই বোর্ডকে জাতীয় ক্রিকেট লিগ না খেলার কথা জানিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ে চিকিৎসকেরা তাকে চার থেকে ছয় সপ্তাহের বিশ্রাম এবং বিশেষায়িত ফিটনেস কাজের পরামর্শ দেন। নিজ জেলা শেরপুরে সেই সুবিধা না থাকায় তিনি বিকেএসপিতে রয়েছেন।

বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স যে চোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা অকপটে মেনে নেন তিনি, ‘এই বিশ্বকাপটা আমার অনুকূলে ছিল না। কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও পারফর্ম করতে পারিনি। আমি স্বাভাবিক ধারায় থাকলে আমরা হয়তো আরও দুই ম্যাচ জিততে পারতাম।’

‘স্বৈরাচারী’ তকমা ও সিনিয়রদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

ড্রেসিংরুমে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জ্যোতি, ‘আমি কোনোভাবেই স্বৈরাচারী নই… কে এসব বলছে এবং কেন বলছে—এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।’

সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলম ও রুমানা আহমেদকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ‘সিন্ডিকেট’ গড়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমি কে? আমি কি নির্বাচক?’

তার দাবি, ২০২১ সালে অধিনায়ক হওয়ার পরেও ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে পর্যন্ত তাকে নির্বাচক প্যানেলের বৈঠকে রাখা হতো না। তিনি অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতোই ম্যাচের দিন একাদশ জানতে পারতেন। স্কোয়াড নির্বাচনেও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হতো না।

একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে এক ম্যাচে সালমা খাতুনসহ কয়েকজন সিনিয়র একাদশে ছিলেন না। তখন সালমা তাকে বলেছিলেন, ‘তুই আমাদের বসিয়ে রাখলি?’

জ্যোতি জানান, তিনি কিছুই না জানার কথা বললে সালমা বলেন, ‘তাহলে তুই শুধু টস করতেই ক্যাপ্টেন?’

জবাবে জ্যোতি জানান, ‘কিছুটা তাই। তারা মনে করতেন আমি ছোট, অপরিপক্ব—তাই আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাখা হতো না।’

তার মতে, সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার মূল কারণ ছিল ‘গ্রহণযোগ্যতার সংকট’। তার ভাষায়, ‘আমাকে অধিনায়ক করার পরই সমস্যা শুরু। শুনেছি—একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই চার–পাঁচজন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা একজন জুনিয়রের অধীনে খেলবেন না।’

মারধর বিতর্ক ও মারুফাকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

জ্যোতি জুনিয়রদের গালিগালাজ বা মারধর করার অভিযোগকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন। তার দাবি, ‘একজনই এসব বলেছে, বহুজন না।’

মুর্শিদাকে ২০২২ জাতীয় ক্রিকেট লিগে চড় মারার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তখন তারা ভিন্ন দলে খেলেছিলেন এবং তাদের মধ্যে খুব কমই কথা হতো।’

শ্রীলঙ্কায় মারুফাকে ধমক দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিকৃতভাবে ছড়ানো’ হয়েছে উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, মারুফার ক্যাচিংয়ে সমস্যা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ ফেলায় এবং হাত আঘাত পাওয়ায় তাকে মাঠের বাইরে যেতে বলেছিলেন। পরে মারুফা জানান, জ্যোতির কথায় নয়—নিজের ফিল্ডিং হতাশা থেকেই কেঁদেছিলেন।

ভারত সিরিজের আগে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

দলীয় সম্পর্ক ও আস্থা পুনর্গঠন যে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, তা স্বীকার করেন অধিনায়ক, ‘প্রথমত আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত সিনিয়র–জুনিয়রদের বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে… ভালোবাসা, সম্মান বা সমর্থন জোর করে পাওয়া যায় না। এগুলো অর্জন করতে হয়। আমি সেটাই করার চেষ্টা করছি।’