সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

তিন ফসলী জমি কেটে রাস্তা নির্মাণ: কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না ঠিকাদার

ছবি: জনতার কন্ঠ

তিন ফসলী জমির উপরই জীবন জীবিকা নির্ভর করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষকদের। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করেই সরিষার চাষ করা সেইসব কৃষি জমি কেটে সেখান দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে সরকারি কোন খাস জায়গা বা হালট নেই। প্রায় ৩০ জন কৃষকের জমি কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোন প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ এমনকি ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ঠিকাদার গায়ের জোরেই ফসলি জমির উপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে দিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১৩ জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশন সেগুলোর তোয়াক্কা করছেন না। অভিযোগ দেওয়ার পরেও রাস্তা নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এদিকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ভেকু মেশিন পোড়ানোর মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

 

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে আবারও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কাটা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানিয়েছেন।

 

 

ভুক্তভোগী কৃষকের মেয়ে মৌসুমী খাতুন বলেন, আমাদের কোন কাগজপত্র না দেখিয়ে জোর-জবরদস্তি করেই জমি নিচ্ছে। আমরা বাঁধা দেওয়ার কারণে ঠিকাদার আশরাফুল আমাদের হুমকি-ধামকি দেন। আমাদের বাড়ির পুরুষেরা পলাতক। এখানে মাটি কাটার জন্য আগেও একটি ভেকু মেশিন এসেছিল। সেই ভেকু মেশিন কে বা কারা পুড়ে দিয়েছে। সেই ভেকু পোড়ানোর মামলা দেওয়া হয় জমির মালিকদের বিরুদ্ধে। আমাদের সরিষা ক্ষেত কেটে দখল করে নিয়েছে। এখানকার জমির মালিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের দাবি, আমরা অভিযোগ দিয়েছি, সেটা তদন্ত করার আগ পর্যন্ত আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হোক।

 

 

আব্দুল খালেক নামে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক বলেন, জোর করে আমাদের জমিতে ভেকু মেশিন নামিয়ে ফসলসহ কেটে ফেলা হচ্ছে। আমাদের তিন ফসলী জমি, আমাদের কোন ক্ষতিপূরণ দেয় নাই। আমাদেরকে ডাকেও নাই। আমরা এত ক্ষতি করে রাস্তা চাই না।

 

 

স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, আমাদের কেউ চাকরি করে না, ব্যবসা-বানিজ্যও করে না। আমাদের এই জমির উপরই ভরসা। আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স সিকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর চাহিদা মেনেই কাজ হচ্ছে। তারা স্কিম দিয়েছে, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করছি। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা যাবে না-এমন বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।

 

 

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান জানান, ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।

 

 

সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়নের কাজ চলছে। জোরপূর্বক ব্যক্তিগত রাস্তার উপর দিয়ে রাস্তা করার কোন সুযোগ নাই। আমি এ অভিযোগ শুনেছি। সেখানে যদি সরকারি জায়গা না থাকে আর যদি এলাকার লোক বাঁধা দেয় তাহলে আমরা সেখানে রাস্তা করবো না। এলাকাবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই রাস্তাটা বরাদ্দ হয়েছে। যেহেতু ভূমি অধিগ্রহণের অপশন নেই সেক্ষেত্রে এলাকার লোকজন নিয়ে বসে সমঝোতার ভিত্তিতে রাস্তার কাজ করবো।

 

 

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

তিন ফসলী জমি কেটে রাস্তা নির্মাণ: কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না ঠিকাদার

আপডেট টাইম : ০১:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

তিন ফসলী জমির উপরই জীবন জীবিকা নির্ভর করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষকদের। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করেই সরিষার চাষ করা সেইসব কৃষি জমি কেটে সেখান দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে সরকারি কোন খাস জায়গা বা হালট নেই। প্রায় ৩০ জন কৃষকের জমি কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোন প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ এমনকি ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ঠিকাদার গায়ের জোরেই ফসলি জমির উপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে দিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১৩ জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশন সেগুলোর তোয়াক্কা করছেন না। অভিযোগ দেওয়ার পরেও রাস্তা নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এদিকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ভেকু মেশিন পোড়ানোর মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

 

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে আবারও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কাটা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানিয়েছেন।

 

 

ভুক্তভোগী কৃষকের মেয়ে মৌসুমী খাতুন বলেন, আমাদের কোন কাগজপত্র না দেখিয়ে জোর-জবরদস্তি করেই জমি নিচ্ছে। আমরা বাঁধা দেওয়ার কারণে ঠিকাদার আশরাফুল আমাদের হুমকি-ধামকি দেন। আমাদের বাড়ির পুরুষেরা পলাতক। এখানে মাটি কাটার জন্য আগেও একটি ভেকু মেশিন এসেছিল। সেই ভেকু মেশিন কে বা কারা পুড়ে দিয়েছে। সেই ভেকু পোড়ানোর মামলা দেওয়া হয় জমির মালিকদের বিরুদ্ধে। আমাদের সরিষা ক্ষেত কেটে দখল করে নিয়েছে। এখানকার জমির মালিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের দাবি, আমরা অভিযোগ দিয়েছি, সেটা তদন্ত করার আগ পর্যন্ত আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হোক।

 

 

আব্দুল খালেক নামে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক বলেন, জোর করে আমাদের জমিতে ভেকু মেশিন নামিয়ে ফসলসহ কেটে ফেলা হচ্ছে। আমাদের তিন ফসলী জমি, আমাদের কোন ক্ষতিপূরণ দেয় নাই। আমাদেরকে ডাকেও নাই। আমরা এত ক্ষতি করে রাস্তা চাই না।

 

 

স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, আমাদের কেউ চাকরি করে না, ব্যবসা-বানিজ্যও করে না। আমাদের এই জমির উপরই ভরসা। আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স সিকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর চাহিদা মেনেই কাজ হচ্ছে। তারা স্কিম দিয়েছে, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করছি। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা যাবে না-এমন বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।

 

 

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান জানান, ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।

 

 

সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়নের কাজ চলছে। জোরপূর্বক ব্যক্তিগত রাস্তার উপর দিয়ে রাস্তা করার কোন সুযোগ নাই। আমি এ অভিযোগ শুনেছি। সেখানে যদি সরকারি জায়গা না থাকে আর যদি এলাকার লোক বাঁধা দেয় তাহলে আমরা সেখানে রাস্তা করবো না। এলাকাবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই রাস্তাটা বরাদ্দ হয়েছে। যেহেতু ভূমি অধিগ্রহণের অপশন নেই সেক্ষেত্রে এলাকার লোকজন নিয়ে বসে সমঝোতার ভিত্তিতে রাস্তার কাজ করবো।

 

 

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।