সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

জাপান সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির। ছবি : সংগৃহীত

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

 

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

 

 

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি। আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।

 

 

 

জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।

 

 

 

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।

 

 

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।

 

 

 

নিহতরা হলেন- কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।

 

 

 

শুক্রবার (০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।

 

পরে ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

 

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

 

 

বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।

 

 

দুই কর অঞ্চলে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

চাকরির সুযোগ দিচ্ছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৫ এবং কর অঞ্চল-৬। প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উভয় কর অঞ্চলে ১২৬ জন করে মোট ২৫২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ জুন ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর

বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

২. পদের নাম: ব্যক্তিগত সহকারী

পদসংখ্যা: ৮

কর অঞ্চল- ৫ (০৪টি), কর অঞ্চল-৬ (০৪টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৩. পদের নাম: প্রধান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৪. পদের নাম: উচ্চমান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৫. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪৬

কর অঞ্চল- ৫ (২৩টি), কর অঞ্চল- ৬ (২৩টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৬. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল-৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

 

 

৭. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল- ৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ৮,২৫০-২০,১০০ টাকা।

বয়সসীমা

১ মে ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

কর অঞ্চল- ৫: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

কর অঞ্চল- ৬: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৬ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ১০০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা;

৭ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ৫০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদনপত্র জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ১৮ মে ২০২৬, সকাল ১০টা।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ৭ জুন, ২০২৬, বিকেল ৫টা।

বিস্তারিত দেখুন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের ওয়েবসাইটে (www.taxeszone5.chittagong.gov.bd এবং https://tax6.chattogram.gov.bd/)।

 

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম।

 

 

 

এসময় তার বানানো ছোট এই বাহনটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল ইসলাম। ব্যাটারি চালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরো আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির গল্প শুনিয়েছেন ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাহিরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাহিরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি কারটি বানানো শুরু করেন।

 

 

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

 

 

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

 

 

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিজেপি। দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে তিনি শপথ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কয়েক দিন আগে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এ জয়ের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

একসময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে মমতা যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠছিলেন, তখন তার অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন অধিকারী। আর আজ, সময়ের পালাবদলে সেই একই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন তিনি, যার পাশে একসময় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

 

শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে আছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। তারা সবাই আজ শপথ নিয়েছেন।

 

তিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে ১০:৪৫ মিনিটে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (কেআইবি) প্রবেশ করেন তিনি।

 

 

 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করে পালালেন স্বামী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলাকেটে হত্যার করে পালিয়ে গেছেন স্বামী। অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে পালিয়ে গেছেন।

 

নিহতরা হলেন  ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তারা কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের জনৈক মনির হোসেনের বাড়ির নীচতলা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।  তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।

 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতো ফোরকান মিয়া। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে থানায় খবর আসে যে, ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট, চরম ভোগান্তি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

শনিবার (৯ মে) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে গেলে এ যানজটের সূত্রপাত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

ট্রাকচালক আলাউদ্দিন বলেন, “তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকা থেকে জ্যামে আটকে আছি। ভাটেরচর পর্যন্ত আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।”

বাসচালক রাসেল জানান, “বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে যানজটে পড়েছি। ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লেগেছে।”

এক বাসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায়ই এই মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি না।”

এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

 

রানীনগর-সান্তাহার সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ৬

নওগাঁর রানীনগর-সান্তাহার সড়কের লছিরের বাগান এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি যাত্রীবাহী টমটম ও মহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে রানীনগর থেকে সান্তাহারগামী সড়কের লছিরের বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী টমটম ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মহেন্দ্র মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রচণ্ড এই ধাক্কায় টমটমে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন (৬৫)।

স্থানীয়রা জানান, মহেন্দ্রটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে তারা মনে করছেন।

দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন — নওগাঁ সদর থানার কোমাইগাড়ী গ্রামের মোঃ মনসুর (৫৫), পিতা: কাসির সরকার এবং একই গ্রামের মাহমুদ জুয়েল (৫২), পিতা: আবুল সরকার।

এছাড়া রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন শিশুসহ মোট পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন মোছাঃ রাফিয়া খাতুন (৫০), স্বামী: নজরুল ইসলাম,রাজিয়া সুলতানা (৩০), স্বামী: আবু কাশেম,আবু তোহা (২), পিতা: আবু কাসেম,  (প্রতিবন্ধী শিশু),মোঃ হুনাইব (২০), পিতা: আব্দুল বারিক।

উল্লেখ্য, আহতদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। সকলেই জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনাস্থনটি রাণীনগর ও আদমদিঘী থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় প্রথমে রাণীনগর থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে সরেজমিনে দেখা যায় ঘটনাস্থনটি আদমদিঘী থানার আওতাধীন। এরপর আদমদিঘী থানা পুলিশ ঘটনাস্থন পরিদর্শন করে দুর্ঘটনায় জড়িত টমটম ও মহেন্দ্র দুটি যানবাহন জব্দ করে।

আদমদিঘী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতোয়ার জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

আজই মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু, সরলো মমতার নামফলক

আজকেই (৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জীসহ তার মন্ত্রী পরিষদের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে)  পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করে বিজেপি।  নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পর শুরু হয় প্রস্তুতি। বিধানসভা, নবান্ন ও ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, সব জায়গায় চলে সাজসজ্জার কাজ।

 

বিধানসভা থেকে সরানো হয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ পূর্বতন মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের নামফলক। সাবেক মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, সাবেক ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলকও খুলে ফেলা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে বিধানসভায় নির্ধারিত কক্ষেই বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা এ ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।

 

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার রাজভবনে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের স্বাক্ষরসহ সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়।

 

এর আগে কলকাতার নিউ টাউনের একটি কনভেনশন হলে বিজেপির পরিষদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠক শেষে দলীয়ভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন উপহার দিয়েছে এবং রাজ্যকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে চায়।

 

সব মিলিয়ে কলকাতাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে রাইটার্স ভবন পর্যন্ত চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে কলকাতা।

 

ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্য

উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়া, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে। 
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। পাড়ামহল্লার দোকানগুলোতে কমেছে বিক্রির পরিমাণ।
মানুষের আয় না বাড়লেও বেড়েছে ব্যয়। আয়ব্যয়ে ভারসাম্য করতেই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য এবং নিম্নমধ্যবিত্তরা।
খরচ কমাতে কেনাকাটার পরিমাণেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাদের।রাজধানীর খিলক্ষেতে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মো. আতিক ইসলাম মুদি দোকান থেকে গতকাল ১ লিটার সয়াবিন তেল কেনেন ২০০ টাকায়। 
তিনি দুই দিন আগেও বাজার করেছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ২২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খরচ কমাতে সাপ্তাহিক বাজার না করে দুই দিন পরপর বাজারে আসতে হয়। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই কিনি এখন। ছোট মেয়ে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছে। ইলিশ কিনলে অনেক কিছুই বাজারের লিস্ট থেকে বাদ দিতে হবে। সাধ আছে অথচ সাধ্য নেই।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।

 

 

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গেল এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর, রামপুরা, উত্তরা বিডিআর মার্কেট, শান্তিনগর ছাড়াও কয়েকটি বড় বাজার এবং পাড়ামহল্লার মুদি দোকানগুলো মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা তুলনামূলক কম। কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেলের ডিলার বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লেও এখনো নতুন তেল বাজারে আসেনি। ১ লিটার তেলের বোতল ১৯০-১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৮০-৩৮৫ টাকা, ৫ লিটার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতা নেই তেমন। প্রান্তিক পর্যায়ে বিক্রি না হলে পাইকারি বাজারে বিক্রির পরিমাণ কমে যায়।’ আরেক ব্যবসায়ী মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘হাফ লিটার, ১ লিটার তেলের বোতল বিক্রি বেড়েছে। তবে ৫ লিটারের বোতল নিচ্ছেন তারা যারা মাসিক বাজার করেন। ১ লিটার পাম তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় বেড়েছে পাম তেল বিক্রি।’

 

উত্তরায় চোখে পড়ে টিসিবির ট্রাকে ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। টিসিবির পণ্য বিক্রেতা নাঈম ইসলাম জানান, সরকারি পণ্যের দাম কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বেশি হচ্ছে। টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘অল্প আয়ে ভেবেচিন্তেই খরচ করতে হয়। খুচরা দোকান থেকে পণ্য কিনলে খরচ বেশি হয়। তাই এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প টাকায় পণ্য কিনি। বাকি টাকা অন্য কাজে খরচ করি।’এদিকে ক্রয়ক্ষমতা কমায় মুদি দোকান বা সুপার শপের ক্রেতারা খাদ্যশ্রেণির ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ছোট বা মিনি প্যাকের দিকে ঝুঁকেছেন। সেই সঙ্গে সুপার শপগুলো বড় প্যাকের পণ্য বিক্রি করতে নানান অফার দিচ্ছে। গতকাল উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর বাজারে এই প্রতিবেদকের কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমাইয়া আক্তার নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চাকরি শুরু করার পর থেকে বেতন দিয়েই খরচ চালাতে হয়। বাসা, যাতায়াত বাড়া, অন্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। তাই বড় প্যাকেট না কিনে ছোট প্যাকেট কিনতে হয়। বড় প্যাকেট কিনলে অনেক দিন চলে কিন্তু একসঙ্গে বেশি টাকা খরচ করলে অন্যদিকে খরচ করতে পারি না।’উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া সীমিত আয়ের মানুষের জন্য খুবই চিন্তার বিষয়। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সবার আগে এই সীমিত আয়ের মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিগুলো চালু রাখলে সীমিত আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পেতে পারে। যেসব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যবহার করে সেসব পণ্যের দাম নজরদারিতে রাখলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। সরকারের উচিত এসব দিকে একটু নজর রাখা।’ 

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে সবজির দাম, ডিমও চড়া  : রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। মুরগির দাম সামান্য কমলেও ডিম আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও বাড়তি। অনেক বিক্রেতাদের দাবি, পণ্য পরিবহনের খরচ বেশি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সামান্য কমেছে। তবে কিছু কিছুু বিক্রেতা সবজি সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন।

 

গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০ টাকা আর ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির দাম ১০-২০ টাকা কম ছিল। তবে  কাঁকরোলের দাম সামান্য কমেছে, বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ সবজির দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। এ ছাড়া আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। টম্যাটো ৫০-৬০, পেঁপে ৭০-৮০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁপের দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা।

 

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ ও সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ ও খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের চাহিদা বেশি। কিন্তু জোগান কম। সাম্প্রতিক তীব্র দাবদাহে অনেক মুরগি মারা গেছে। তাই ডিমের জোগান কমেছে। রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ৩২০-৩৮০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০-৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ এবং মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মুগ ডাল ১৪০, ছোট মুগ ডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১৫ এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ ও রশিদ মিনিকেট ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে ঘরের ভেতরে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালক নিহত হয়েছেন।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে প্রবাসীর স্ত্রী, তার তিন কন্যা ও শ্যালক রয়েছেন। 
দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে।

 

খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

সদ্য প্রবর্তিত  ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০২৬ পাচ্ছেন  সিরাজগঞ্জের সন্তান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

তিনিসহ মোট ১৫ জন এই স্বর্ণপদেক ভুষিত হচ্ছেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ‘বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি, ইনক’ প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। প্রতি বছর দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের এ পদকে সম্মানিত করা হবে।

 

 

শুক্রবার (৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছাড়াও খালেদা জিয়া স্বর্ণপদক পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ‘মায়ের ডাক’-এর সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, শিল্পপতি ড. আবুল কাশেম হায়দার, ব্যবসায়ী আবদুল হক এবং ফাতেমা বেগম (বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী)।

 

 

শতবর্ষী বৃদ্ধাকে রশি দিয়ে বেঁধে নগদ টাকাসহ ১২ ভরি স্বর্ণ চুরি

নওগাঁর রাণীনগরে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে রশি দিয়ে বেঁধে দিনে দুপুরে বাড়িতে ঢুকে দুর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা এসময় ১২ভরি স্বর্ণসহ নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম হোসেন মুক্তা (৬৮) বৃহস্পতিবার (৭মে) রাতের দিকে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (৮মে) দুপুরে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালাম।
এর আগে গত বুধবার (৬মে) দুপুর একটা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় উপজেলার মাছ ও কাচা বাজার এলাকায় আব্দুস সালাম হোসেন মুক্তার বাড়িতে চুরির এই ঘটনা ঘটে। দিনে দুপুরে বাজারে চুরির এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সালাম হোসেন মুক্তা মৃত তাহের আলীর ছেলে।
জানা যায়, ঘটনার দিন সালাম হোসেন তার শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে রেখে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে নওগাঁয় যান। আর এই সুযোগে চোরেরা সালামের বাড়িতে ঢুকে তার বৃদ্ধ মাকে একা পেয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর সালামের ঘরের আলমারি ভেঙ্গে আলমারিতে রাখা রুলি বালা ৩ জোড়া, ২জোড়া কানের দুল, ২টি গলার হার, ২টি গলার চেইনসহ মোট ১২ভরী স্বর্ণ এবং নগদ ২লাখ ৫০ হাজার টাকা চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগ সালামের দাবি স্বর্ণ ও নগদ টাকা মিলে এতে তার প্রায় ৩২লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সালাম হোসেন মুক্তা বলেন, আমরা বাড়িতে ছিলামনা। এই সুযোগটা নিয়েছে চোরেরা। তারা আমার শতবর্ষী মাকে বেঁধে রেখে চুরি করে। আমি ধারণা করছি, আমার বাড়ির সাথে হেলে পড়া একটি আম গাছ দিয়ে প্রথমে বাড়িতে ঢুকে। এরপর তারা আমার মায়ের মুখ ও হাত বেঁধে রাখে যেন কোনো শব্দ করতে না পারে। পরবর্তীতে তারা দরজা ও আলমারি ভেঙে বিভিন্ন গহণাসহ মোট ১২ভরি স্বর্ণের জিনিস চুরি করে। সেই সাথে ঘরে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকাও নিয়ে গেছে চোরেরা। অবশ্য চুরির পর মায়ের মুখের বাঁধন খুলে ঘরে শিকল দিয়ে রেখে চলে যায়। এঘটনায় আমার মা হতবম্ব হয়ে আছে। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন,  একদম বাজারের মধ্যে আমার বাড়ি। এভাবে চুরি হওয়াতে আমিও আশ্চর্য হয়েছি। গত রাতের দিকে থানায় অভিযোগ করেছি।
জানতে চাইলে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পর ওখানে পুলিশ গিয়েছিল। সবকিছু দেখে এসেছে। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, মাত্র ৪দিনে আগে বাড়ির সামনে থেকে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে একটি ১৫০সিসি আরটিআর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। শনিবার (২মে) দুপুরে উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত ১৫০সিসি আরটিআর ওই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটে।
আমিনুল ইসলামের বাড়ি উপজেলা সদরের মধ্য রাজাপুর গ্রামে। তিনি মাস্টারপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:২৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজ এলাকায় তাঁর প্রথম আগমনকে কেন্দ্র করে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন, এমপি, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিরাজুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: জাকির হোসেন।
উপজেলা ও পৌর বিএনপি, ইসলামপুর, জামালপুর-এর যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুল ইসলাম খানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশ গঠনে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

 

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত : বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’

 

 

 

শুক্রবার (৮ মে, ২৫ বৈশাখ) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন।

 

 

 

বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, কবি এখানে (শাহজাদপুর) বসেই বহু গান, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের গুরু। তাই এই দিনে আমরা বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

 

 

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ২৫-২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে কাছারিবাড়ি ও অডিটোরিয়ামে সংস্কার, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

 

 

 

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় এই জমিদারি ক্রয় করেন। পরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন ও এখানে অবস্থান করতেন। এই কাছারিবাড়িতে বসেই তিনি ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘অতিথি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মতো বিখ্যাত ছোটগল্প রচনা করেন। পাশাপাশি ‘ছিন্নপত্রাবলী’র বিভিন্ন অংশ ও ‘বিসর্জন’ নাটকেরও কিছু অংশ এখানে রচিত হয়।

 

 

 

রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়ামে সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

 

 

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি রবীন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

হিলিতে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়িসহ গ্রেপ্তার ৭

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩১ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী এবং জিআর ও সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
আজ শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৪ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে আজ দুপুরে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ৩১ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন ওরফে গোবড়া (২৪), পিতা: মোঃ রেজাউল করিম এবং মোঃ শাওন ইসলাম (২৩), পিতা: মোঃ আসমান বিশ্বাস। উভয়ের ঠিকানা গ্রাম: নয়ানগর (বালুপাড়া), থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সাথে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেন তারা হলেন মোঃ আইনুল (৩৭), পিতা: মোঃ তায়েজ উদ্দিন ওরফে তাজো মিয়া (সাং- নওপাড়া)৷ মোঃ সুজন ওরফে সুমন, পিতা: নূর ইসলাম (পালক পিতা), (সাং- বড় জালালপুর)৷  মোঃ সেতু (২৮), পিতা: হেলাল (সাং- বাসুদেবপুর)৷  এবং মোঃ হারুনুর রশিদ ওরফে হারুন (৪৩), পিতা: মৃত মন্টু মিয়া (সাং- বাসুদেবপুর ক্যাম্পপট্টি)।
এছাড়া বিশেষ অভিযানে ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-০২ এর সিআর নং-৯১৫/১৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মাধবপাড়া এলাকার মোঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে। আদালত তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪,৬৩,৪৮০ (চার লক্ষ তেষট্টি হাজার চারশত আশি) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন।
থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

শুক্রবার (৮ মে) সকালে উপজেলার জামতৈল লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন।

 

অভিযানকালে জামতৈল গ্রামের মৃত রবির ছেলে মো. হালিম (২৬) কে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে আনুমানিক ২০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত গাঁজা বিনষ্ট করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নিজ মাকে মারধর এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগেও অভিযুক্ত ছিলেন। এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাঁজা সেবনের অপরাধে আটক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

One thought on “দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

 

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

 

 

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি। আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।

 

 

 

জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।

 

 

 

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।

 

 

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।

 

 

 

নিহতরা হলেন- কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।

 

 

 

শুক্রবার (০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।

 

পরে ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

 

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

 

 

বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।

 

 

দুই কর অঞ্চলে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

চাকরির সুযোগ দিচ্ছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৫ এবং কর অঞ্চল-৬। প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উভয় কর অঞ্চলে ১২৬ জন করে মোট ২৫২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ জুন ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর

বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

২. পদের নাম: ব্যক্তিগত সহকারী

পদসংখ্যা: ৮

কর অঞ্চল- ৫ (০৪টি), কর অঞ্চল-৬ (০৪টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৩. পদের নাম: প্রধান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৪. পদের নাম: উচ্চমান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৫. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪৬

কর অঞ্চল- ৫ (২৩টি), কর অঞ্চল- ৬ (২৩টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৬. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল-৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

 

 

৭. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল- ৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ৮,২৫০-২০,১০০ টাকা।

বয়সসীমা

১ মে ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

কর অঞ্চল- ৫: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

কর অঞ্চল- ৬: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৬ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ১০০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা;

৭ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ৫০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদনপত্র জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ১৮ মে ২০২৬, সকাল ১০টা।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ৭ জুন, ২০২৬, বিকেল ৫টা।

বিস্তারিত দেখুন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের ওয়েবসাইটে (www.taxeszone5.chittagong.gov.bd এবং https://tax6.chattogram.gov.bd/)।

 

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম।

 

 

 

এসময় তার বানানো ছোট এই বাহনটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল ইসলাম। ব্যাটারি চালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরো আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির গল্প শুনিয়েছেন ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাহিরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাহিরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি কারটি বানানো শুরু করেন।

 

 

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

 

 

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

 

 

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিজেপি। দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে তিনি শপথ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কয়েক দিন আগে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এ জয়ের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

একসময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে মমতা যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠছিলেন, তখন তার অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন অধিকারী। আর আজ, সময়ের পালাবদলে সেই একই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন তিনি, যার পাশে একসময় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

 

শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে আছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। তারা সবাই আজ শপথ নিয়েছেন।

 

তিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে ১০:৪৫ মিনিটে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (কেআইবি) প্রবেশ করেন তিনি।

 

 

 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করে পালালেন স্বামী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলাকেটে হত্যার করে পালিয়ে গেছেন স্বামী। অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে পালিয়ে গেছেন।

 

নিহতরা হলেন  ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তারা কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের জনৈক মনির হোসেনের বাড়ির নীচতলা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।  তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।

 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতো ফোরকান মিয়া। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে থানায় খবর আসে যে, ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট, চরম ভোগান্তি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

শনিবার (৯ মে) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে গেলে এ যানজটের সূত্রপাত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

ট্রাকচালক আলাউদ্দিন বলেন, “তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকা থেকে জ্যামে আটকে আছি। ভাটেরচর পর্যন্ত আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।”

বাসচালক রাসেল জানান, “বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে যানজটে পড়েছি। ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লেগেছে।”

এক বাসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায়ই এই মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি না।”

এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

 

রানীনগর-সান্তাহার সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ৬

নওগাঁর রানীনগর-সান্তাহার সড়কের লছিরের বাগান এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি যাত্রীবাহী টমটম ও মহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে রানীনগর থেকে সান্তাহারগামী সড়কের লছিরের বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী টমটম ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মহেন্দ্র মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রচণ্ড এই ধাক্কায় টমটমে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন (৬৫)।

স্থানীয়রা জানান, মহেন্দ্রটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে তারা মনে করছেন।

দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন — নওগাঁ সদর থানার কোমাইগাড়ী গ্রামের মোঃ মনসুর (৫৫), পিতা: কাসির সরকার এবং একই গ্রামের মাহমুদ জুয়েল (৫২), পিতা: আবুল সরকার।

এছাড়া রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন শিশুসহ মোট পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন মোছাঃ রাফিয়া খাতুন (৫০), স্বামী: নজরুল ইসলাম,রাজিয়া সুলতানা (৩০), স্বামী: আবু কাশেম,আবু তোহা (২), পিতা: আবু কাসেম,  (প্রতিবন্ধী শিশু),মোঃ হুনাইব (২০), পিতা: আব্দুল বারিক।

উল্লেখ্য, আহতদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। সকলেই জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনাস্থনটি রাণীনগর ও আদমদিঘী থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় প্রথমে রাণীনগর থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে সরেজমিনে দেখা যায় ঘটনাস্থনটি আদমদিঘী থানার আওতাধীন। এরপর আদমদিঘী থানা পুলিশ ঘটনাস্থন পরিদর্শন করে দুর্ঘটনায় জড়িত টমটম ও মহেন্দ্র দুটি যানবাহন জব্দ করে।

আদমদিঘী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতোয়ার জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

আজই মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু, সরলো মমতার নামফলক

আজকেই (৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জীসহ তার মন্ত্রী পরিষদের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে)  পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করে বিজেপি।  নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পর শুরু হয় প্রস্তুতি। বিধানসভা, নবান্ন ও ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, সব জায়গায় চলে সাজসজ্জার কাজ।

 

বিধানসভা থেকে সরানো হয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ পূর্বতন মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের নামফলক। সাবেক মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, সাবেক ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলকও খুলে ফেলা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে বিধানসভায় নির্ধারিত কক্ষেই বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মালবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা এ ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।

 

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার রাজভবনে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের স্বাক্ষরসহ সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়।

 

এর আগে কলকাতার নিউ টাউনের একটি কনভেনশন হলে বিজেপির পরিষদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠক শেষে দলীয়ভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন উপহার দিয়েছে এবং রাজ্যকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে চায়।

 

সব মিলিয়ে কলকাতাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে রাইটার্স ভবন পর্যন্ত চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে কলকাতা।

 

ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্য

উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়া, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে। 
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। পাড়ামহল্লার দোকানগুলোতে কমেছে বিক্রির পরিমাণ।
মানুষের আয় না বাড়লেও বেড়েছে ব্যয়। আয়ব্যয়ে ভারসাম্য করতেই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য এবং নিম্নমধ্যবিত্তরা।
খরচ কমাতে কেনাকাটার পরিমাণেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাদের।রাজধানীর খিলক্ষেতে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মো. আতিক ইসলাম মুদি দোকান থেকে গতকাল ১ লিটার সয়াবিন তেল কেনেন ২০০ টাকায়। 
তিনি দুই দিন আগেও বাজার করেছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ২২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খরচ কমাতে সাপ্তাহিক বাজার না করে দুই দিন পরপর বাজারে আসতে হয়। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই কিনি এখন। ছোট মেয়ে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছে। ইলিশ কিনলে অনেক কিছুই বাজারের লিস্ট থেকে বাদ দিতে হবে। সাধ আছে অথচ সাধ্য নেই।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।

 

 

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গেল এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর, রামপুরা, উত্তরা বিডিআর মার্কেট, শান্তিনগর ছাড়াও কয়েকটি বড় বাজার এবং পাড়ামহল্লার মুদি দোকানগুলো মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা তুলনামূলক কম। কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেলের ডিলার বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লেও এখনো নতুন তেল বাজারে আসেনি। ১ লিটার তেলের বোতল ১৯০-১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৮০-৩৮৫ টাকা, ৫ লিটার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতা নেই তেমন। প্রান্তিক পর্যায়ে বিক্রি না হলে পাইকারি বাজারে বিক্রির পরিমাণ কমে যায়।’ আরেক ব্যবসায়ী মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘হাফ লিটার, ১ লিটার তেলের বোতল বিক্রি বেড়েছে। তবে ৫ লিটারের বোতল নিচ্ছেন তারা যারা মাসিক বাজার করেন। ১ লিটার পাম তেল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় বেড়েছে পাম তেল বিক্রি।’

 

উত্তরায় চোখে পড়ে টিসিবির ট্রাকে ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। টিসিবির পণ্য বিক্রেতা নাঈম ইসলাম জানান, সরকারি পণ্যের দাম কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বেশি হচ্ছে। টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘অল্প আয়ে ভেবেচিন্তেই খরচ করতে হয়। খুচরা দোকান থেকে পণ্য কিনলে খরচ বেশি হয়। তাই এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প টাকায় পণ্য কিনি। বাকি টাকা অন্য কাজে খরচ করি।’এদিকে ক্রয়ক্ষমতা কমায় মুদি দোকান বা সুপার শপের ক্রেতারা খাদ্যশ্রেণির ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ছোট বা মিনি প্যাকের দিকে ঝুঁকেছেন। সেই সঙ্গে সুপার শপগুলো বড় প্যাকের পণ্য বিক্রি করতে নানান অফার দিচ্ছে। গতকাল উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর বাজারে এই প্রতিবেদকের কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমাইয়া আক্তার নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চাকরি শুরু করার পর থেকে বেতন দিয়েই খরচ চালাতে হয়। বাসা, যাতায়াত বাড়া, অন্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। তাই বড় প্যাকেট না কিনে ছোট প্যাকেট কিনতে হয়। বড় প্যাকেট কিনলে অনেক দিন চলে কিন্তু একসঙ্গে বেশি টাকা খরচ করলে অন্যদিকে খরচ করতে পারি না।’উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া সীমিত আয়ের মানুষের জন্য খুবই চিন্তার বিষয়। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সবার আগে এই সীমিত আয়ের মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিগুলো চালু রাখলে সীমিত আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পেতে পারে। যেসব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যবহার করে সেসব পণ্যের দাম নজরদারিতে রাখলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। সরকারের উচিত এসব দিকে একটু নজর রাখা।’ 

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে সবজির দাম, ডিমও চড়া  : রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। মুরগির দাম সামান্য কমলেও ডিম আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও বাড়তি। অনেক বিক্রেতাদের দাবি, পণ্য পরিবহনের খরচ বেশি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সামান্য কমেছে। তবে কিছু কিছুু বিক্রেতা সবজি সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন।

 

গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০ টাকা আর ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির দাম ১০-২০ টাকা কম ছিল। তবে  কাঁকরোলের দাম সামান্য কমেছে, বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ সবজির দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। এ ছাড়া আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। টম্যাটো ৫০-৬০, পেঁপে ৭০-৮০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে পেঁপের দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা।

 

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ ও সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ ও খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের চাহিদা বেশি। কিন্তু জোগান কম। সাম্প্রতিক তীব্র দাবদাহে অনেক মুরগি মারা গেছে। তাই ডিমের জোগান কমেছে। রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ৩২০-৩৮০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০-৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ এবং মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মুগ ডাল ১৪০, ছোট মুগ ডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১৫ এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ ও রশিদ মিনিকেট ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে ঘরের ভেতরে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালক নিহত হয়েছেন।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে প্রবাসীর স্ত্রী, তার তিন কন্যা ও শ্যালক রয়েছেন। 
দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে।

 

খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

সদ্য প্রবর্তিত  ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০২৬ পাচ্ছেন  সিরাজগঞ্জের সন্তান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

তিনিসহ মোট ১৫ জন এই স্বর্ণপদেক ভুষিত হচ্ছেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ‘বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি, ইনক’ প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। প্রতি বছর দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের এ পদকে সম্মানিত করা হবে।

 

 

শুক্রবার (৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছাড়াও খালেদা জিয়া স্বর্ণপদক পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ‘মায়ের ডাক’-এর সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, শিল্পপতি ড. আবুল কাশেম হায়দার, ব্যবসায়ী আবদুল হক এবং ফাতেমা বেগম (বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী)।

 

 

শতবর্ষী বৃদ্ধাকে রশি দিয়ে বেঁধে নগদ টাকাসহ ১২ ভরি স্বর্ণ চুরি

নওগাঁর রাণীনগরে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে রশি দিয়ে বেঁধে দিনে দুপুরে বাড়িতে ঢুকে দুর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা এসময় ১২ভরি স্বর্ণসহ নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম হোসেন মুক্তা (৬৮) বৃহস্পতিবার (৭মে) রাতের দিকে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (৮মে) দুপুরে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালাম।
এর আগে গত বুধবার (৬মে) দুপুর একটা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় উপজেলার মাছ ও কাচা বাজার এলাকায় আব্দুস সালাম হোসেন মুক্তার বাড়িতে চুরির এই ঘটনা ঘটে। দিনে দুপুরে বাজারে চুরির এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সালাম হোসেন মুক্তা মৃত তাহের আলীর ছেলে।
জানা যায়, ঘটনার দিন সালাম হোসেন তার শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে রেখে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে নওগাঁয় যান। আর এই সুযোগে চোরেরা সালামের বাড়িতে ঢুকে তার বৃদ্ধ মাকে একা পেয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর সালামের ঘরের আলমারি ভেঙ্গে আলমারিতে রাখা রুলি বালা ৩ জোড়া, ২জোড়া কানের দুল, ২টি গলার হার, ২টি গলার চেইনসহ মোট ১২ভরী স্বর্ণ এবং নগদ ২লাখ ৫০ হাজার টাকা চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগ সালামের দাবি স্বর্ণ ও নগদ টাকা মিলে এতে তার প্রায় ৩২লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সালাম হোসেন মুক্তা বলেন, আমরা বাড়িতে ছিলামনা। এই সুযোগটা নিয়েছে চোরেরা। তারা আমার শতবর্ষী মাকে বেঁধে রেখে চুরি করে। আমি ধারণা করছি, আমার বাড়ির সাথে হেলে পড়া একটি আম গাছ দিয়ে প্রথমে বাড়িতে ঢুকে। এরপর তারা আমার মায়ের মুখ ও হাত বেঁধে রাখে যেন কোনো শব্দ করতে না পারে। পরবর্তীতে তারা দরজা ও আলমারি ভেঙে বিভিন্ন গহণাসহ মোট ১২ভরি স্বর্ণের জিনিস চুরি করে। সেই সাথে ঘরে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকাও নিয়ে গেছে চোরেরা। অবশ্য চুরির পর মায়ের মুখের বাঁধন খুলে ঘরে শিকল দিয়ে রেখে চলে যায়। এঘটনায় আমার মা হতবম্ব হয়ে আছে। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন,  একদম বাজারের মধ্যে আমার বাড়ি। এভাবে চুরি হওয়াতে আমিও আশ্চর্য হয়েছি। গত রাতের দিকে থানায় অভিযোগ করেছি।
জানতে চাইলে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পর ওখানে পুলিশ গিয়েছিল। সবকিছু দেখে এসেছে। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, মাত্র ৪দিনে আগে বাড়ির সামনে থেকে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে একটি ১৫০সিসি আরটিআর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। শনিবার (২মে) দুপুরে উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত ১৫০সিসি আরটিআর ওই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটে।
আমিনুল ইসলামের বাড়ি উপজেলা সদরের মধ্য রাজাপুর গ্রামে। তিনি মাস্টারপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:২৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজ এলাকায় তাঁর প্রথম আগমনকে কেন্দ্র করে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন, এমপি, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ও জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিরাজুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: জাকির হোসেন।
উপজেলা ও পৌর বিএনপি, ইসলামপুর, জামালপুর-এর যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুল ইসলাম খানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশ গঠনে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

 

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত : বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’

 

 

 

শুক্রবার (৮ মে, ২৫ বৈশাখ) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন।

 

 

 

বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, কবি এখানে (শাহজাদপুর) বসেই বহু গান, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের গুরু। তাই এই দিনে আমরা বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

 

 

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ২৫-২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে কাছারিবাড়ি ও অডিটোরিয়ামে সংস্কার, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

 

 

 

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় এই জমিদারি ক্রয় করেন। পরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন ও এখানে অবস্থান করতেন। এই কাছারিবাড়িতে বসেই তিনি ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘অতিথি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মতো বিখ্যাত ছোটগল্প রচনা করেন। পাশাপাশি ‘ছিন্নপত্রাবলী’র বিভিন্ন অংশ ও ‘বিসর্জন’ নাটকেরও কিছু অংশ এখানে রচিত হয়।

 

 

 

রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়ামে সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

 

 

 

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি রবীন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

হিলিতে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়িসহ গ্রেপ্তার ৭

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩১ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী এবং জিআর ও সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
আজ শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৪ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে আজ দুপুরে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ৩১ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন ওরফে গোবড়া (২৪), পিতা: মোঃ রেজাউল করিম এবং মোঃ শাওন ইসলাম (২৩), পিতা: মোঃ আসমান বিশ্বাস। উভয়ের ঠিকানা গ্রাম: নয়ানগর (বালুপাড়া), থানা: হাকিমপুর, জেলা: দিনাজপুর। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সাথে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেন তারা হলেন মোঃ আইনুল (৩৭), পিতা: মোঃ তায়েজ উদ্দিন ওরফে তাজো মিয়া (সাং- নওপাড়া)৷ মোঃ সুজন ওরফে সুমন, পিতা: নূর ইসলাম (পালক পিতা), (সাং- বড় জালালপুর)৷  মোঃ সেতু (২৮), পিতা: হেলাল (সাং- বাসুদেবপুর)৷  এবং মোঃ হারুনুর রশিদ ওরফে হারুন (৪৩), পিতা: মৃত মন্টু মিয়া (সাং- বাসুদেবপুর ক্যাম্পপট্টি)।
এছাড়া বিশেষ অভিযানে ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-০২ এর সিআর নং-৯১৫/১৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মাধবপাড়া এলাকার মোঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে। আদালত তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪,৬৩,৪৮০ (চার লক্ষ তেষট্টি হাজার চারশত আশি) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন।
থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

শুক্রবার (৮ মে) সকালে উপজেলার জামতৈল লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন।

 

অভিযানকালে জামতৈল গ্রামের মৃত রবির ছেলে মো. হালিম (২৬) কে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে আনুমানিক ২০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত গাঁজা বিনষ্ট করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নিজ মাকে মারধর এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগেও অভিযুক্ত ছিলেন। এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাঁজা সেবনের অপরাধে আটক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।