ব্যুরো প্রধান নওগাঁ। জনতার কণ্ঠ.কম
নওগাঁ’র পত্নীতলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বে নষ্ট হতে বসেছে শিক্ষার পরিবেশ। অভিযোগ উঠেছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবিদার আব্দুর রউফ জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে গোপনে নিয়োগ নেওয়ায় শুরু হয় জটিলতা।
এনিয়ে পূর্বের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌর চন্দ্র মাহাতো ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত দাবি করা আব্দুর রউফের দ্বন্দ্ব চলছে। তবে তাদের এই দ্বন্দ্বে ঘি ঢেলে আরও উসকে দিচ্ছেন ওই স্কুলের গনিতের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আলম এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।
এদিকে তাদের দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। কমতে শুরু করেছে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা। যার কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা চাইলেন প্রতিকার।
ঘটনাটি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বরইল উচ্চ বিদ্যালয়ে। ওই স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবিদার দুই শিক্ষকের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে তদন্ত শুরু করেছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রঙ্গনে নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন বিদ্যালয়ের উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিতভাবে তাদের মতামত নিচ্ছেন। বর্তমান দ্বায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ এর বিরুদ্ধে পূর্বের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌর চন্দ্র মাহাতোর জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত পরিচালিত হয়।
তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান- অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হচ্ছে। সকল বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে সমস্যা এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের শৃংখলা ও লেখা পড়ার পরিবেশ ঠিক রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এলাকার স্বার্থে প্রয়োজনে ওই দুই শিক্ষকের বিকল্প ভাববে সরকার।
এদিকে বিদ্যালয়টির নিয়ম অনুযায়ী তিনিই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করে গৌর চন্দ্র মাহাতো জানান, ২০১২ সালের মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করে আব্দুর রুউফ দ্বায়িত্ব পালন করতে পারেন না । আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের সভাপতি শ্যামল দত্ত্বের সাথে দুর্নীতির মাধ্যেমে ২৮জুলাই ২০২৪ সালে এই নিয়োগ নেন তিনি। যা আইন বহির্ভুত। এছাড়াও আব্দুর রউফ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকার পতনের পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্ব-ইচ্ছায় আবেদন দিয়ে পদত্যাগ করেন। তার কিছুদিন পর তিনি আবারও সেই পদে বহাল বলে দাবি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব জোরপুর্বক পালন করে জটিলতা সৃষ্টি করছেন তিনি । নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অবর্তমানে ক্রমানুসারে তা নির্বাচিত হবে। কিন্তু আব্দুর রউফ সিনিয়র তিন শিক্ষককে অতিক্রম করে অবৈধ ফ্যাসিবাদী ক্ষমতায় তা হাতিয়ে নেন। এতে করে প্রধান শিক্ষকের যে জটিলতা তা দেখা দেয় । যার প্রভাব পড়ে পাঠচক্রে।
অপরদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করে আব্দুর রউফ জানান- ২৭জুলাই ২০২৪ সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগ বলে তিনি প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তাকে ৫ অগাস্টের পর জোরপুর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। জ্যেষ্ঠতা লংঘন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রমিক অনুসারে সেই সময় যে সকল শিক্ষক দ্বায়িত্ব পেতেন তাদেরকে সেই সময় না পাওয়ায় আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও গৌর চন্দ্র মাহাতো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরী করছে। এসময় আরও কিছু জানতে চাইলে একসময় রেগে যান শিক্ষক আব্দুর রউফ।
এদিকে বিদ্যালয় কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ গণমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিগত আট বছর থেকে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ে সমস্যায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র চলে যায়। ৫ আগষ্টের মাত্র এক সপ্তাহ আগে আব্দুর রউফ জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে গোপনে নিয়োগ নিয়েছিল। সে সময় দেশ উত্তাল। আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ দেওয়ায় সে স্ব-ইচ্ছায় সকলের সামনে পদত্যাগ করে। এরপরই শুরু হয় জটিলতা।
তারা আরও বলেন, আব্দুর রউফ ও গৌর চন্দ্র মাহাতো দুই শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে ঝামেলায় বিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বিদ্যালয়ের মান নষ্ট করতে চাই না। যদি দুই শিক্ষকের দোষত্রুটি থাকে তাদের দুইজনকেই বাদ দিয়ে অন্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। এতে করে এমন ঝামেলাকর পরিস্থিতি যেন আর না সৃষ্টি না হয়। তদন্তের সময় উপস্থিত লোকজন এভাবেই ক্ষোভের সহিত তাদের মতামত তুলে ধরলেন।
উল্লেখ, গত এপ্রিল মাসে স্থানীয়রা এই বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তাল লাগিয়ে দিয়েছিল।

রিপোর্টার: 



















