সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo রায়গঞ্জে নিমগাছী স্কুলের সামনে কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন Logo হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয় Logo মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন Logo ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা  Logo নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী Logo বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ Logo আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট Logo বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের

নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলা চালিয়ে ২২৭ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে অপহরণ

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে আবারও ভয়াবহ গণ-অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো স্কুলে হামলা চালিয়ে অন্তত ২২৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছে। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা ঘটনায় ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানিয়েছে, পাপিরি কমিউনিটির স্টে. মেরিজ নামের ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালিয়ে ২১৫ শিক্ষার্থী ও ১২ শিক্ষককে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র হামলাকারীরা। সংগঠনের নাইজার রাজ্য শাখার মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি বলেন, তিনি স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অপহৃতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তারা কাজ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ৫০টির বেশি ভবনসমৃদ্ধ একটি প্রাইমারি স্কুলও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দাউদা চেকুলা বলেন, তার ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী চার নাতি-নাতনিও অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে। কিছু শিশু পাশের বাড়িতে লুকিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নাইজার রাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, এলাকায় হামলার আশঙ্কা নিয়ে আগেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবু অনুমতি ছাড়াই স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছিল, যা ‘এড়ানো সম্ভব’ ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, হামলার সময় শুধু কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবীরা পাহারায় ছিল।

কনটাগোরা ক্যাথলিক ডায়োসিস জানায়, হামলার সময় একজন নিরাপত্তা কর্মী গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন।

শুক্রবারের গণঅপহরণের কয়েক দিন আগে কেব্বি রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। এর মধ্যে একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। একই সপ্তাহে কওয়ারা রাজ্যে একটি চার্চে হামলা চালিয়ে দুই উপাসককে হত্যা ও ৩৮ জনকে অপহরণ করে হামলাকারীরা। চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, অপহৃতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ কোটি নাইরা (প্রায় ৬৯ হাজার ডলার) মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দক্ষিণ আফ্রিকায় জি–২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তার স্থলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা অংশ নেবেন। শেত্তিমা বলেন, সরকার অপহৃত ছাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের শক্তি’ ব্যবহার করবে।

ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। ২০১৪ সালে বোকো হারামের হাতে চিবক স্কুলছাত্রী অপহরণের পর থেকে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে ১,৫০০–এর বেশি শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলা চালিয়ে ২২৭ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে অপহরণ

আপডেট টাইম : ০১:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে আবারও ভয়াবহ গণ-অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো স্কুলে হামলা চালিয়ে অন্তত ২২৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছে। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা ঘটনায় ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানিয়েছে, পাপিরি কমিউনিটির স্টে. মেরিজ নামের ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালিয়ে ২১৫ শিক্ষার্থী ও ১২ শিক্ষককে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র হামলাকারীরা। সংগঠনের নাইজার রাজ্য শাখার মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি বলেন, তিনি স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অপহৃতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তারা কাজ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ৫০টির বেশি ভবনসমৃদ্ধ একটি প্রাইমারি স্কুলও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দাউদা চেকুলা বলেন, তার ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী চার নাতি-নাতনিও অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে। কিছু শিশু পাশের বাড়িতে লুকিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নাইজার রাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, এলাকায় হামলার আশঙ্কা নিয়ে আগেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবু অনুমতি ছাড়াই স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছিল, যা ‘এড়ানো সম্ভব’ ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, হামলার সময় শুধু কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবীরা পাহারায় ছিল।

কনটাগোরা ক্যাথলিক ডায়োসিস জানায়, হামলার সময় একজন নিরাপত্তা কর্মী গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন।

শুক্রবারের গণঅপহরণের কয়েক দিন আগে কেব্বি রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। এর মধ্যে একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। একই সপ্তাহে কওয়ারা রাজ্যে একটি চার্চে হামলা চালিয়ে দুই উপাসককে হত্যা ও ৩৮ জনকে অপহরণ করে হামলাকারীরা। চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, অপহৃতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ কোটি নাইরা (প্রায় ৬৯ হাজার ডলার) মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দক্ষিণ আফ্রিকায় জি–২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তার স্থলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা অংশ নেবেন। শেত্তিমা বলেন, সরকার অপহৃত ছাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের শক্তি’ ব্যবহার করবে।

ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। ২০১৪ সালে বোকো হারামের হাতে চিবক স্কুলছাত্রী অপহরণের পর থেকে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে ১,৫০০–এর বেশি শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে।