সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নাটকীয় জয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করল সিলেট

শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটের জয়ের নায়ক ক্রিস ওকস। ছবি : সংগৃহীত

রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল সিলেট টাইটান্স। আর তাতেই রংপুর রাইডার্সের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল। বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে আজ দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে সিলেট। ফলে ফাইনাল থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে মিরাজের দল। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছেন ক্রিস ওকস। শেষ বলে প্রয়োজনই ছিল ৬ রান। আর সেই ছক্কা মেরেই দলকে ৩ উইকেটে জিতিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন শক্তি নিয়ে যে কোনো প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার বার্তাও যেন দিয়ে রাখল সিলেট টাইটান্স।

 

 

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংসকে নিয়ে মাঠে নামা সিলেট শুরুতেই পায় সাফল্য। ওকস-খালেদরা দাঁড়াতেই দেননি রংপুরের ব্যাটারদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা রংপুর দলীয় ২৯ রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, অধিনায়ক লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্সের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটারদের। চারজনই ফেরেন এক অঙ্কের ঘরে। যাদের সম্মিলিত রান ছিল মাত্র ১৭! এরপর খুশদিল শাহ আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ৩০ রান করে খুশদিল সাজঘরে ফেরেন, হাঁকান তিনটি ছক্কা। এরপর রিয়াদের সাথে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সাবেক অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।

 

 

কিন্তু সোহান শেষপর্যন্ত জ্বলে উঠতে পারেননি। রিয়াদ সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রান করলেও সোহান ২৪ বলে ১৮ রান করেন। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রান সংগ্রহ করে রংপুরের। সিলেটের ঘরের ছেলে খালেদ আহমেদ একাই শিকার করেন প্রতিপক্ষের মূল্যবান চার উইকেট। তাও মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে। বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন ক্রিস ওকসও। মাত্র ১৫ রান দিয়ে জোড়া উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া নাসুম আহমেদও ২ উইকেট লাভ করেন। মাত্র ১২ রানের বিনিময়ে।

 

রংপুরের ছুড়ে দেওয়া ১১২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেটও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। দলীয় ২ রানেই যে তৌফিক খানকে হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে দলের হাল ধরে রাখলেও তার বিদায়ে আবারও খেই হারায় সিলেট। আরিফুল ইসলাম ১৮ বলে ১৭ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৯ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরলে দলের হাল ধরেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ আর বিদেশি ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস। দুজনের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় সিলেট টাইটান্স।

তবে রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের জন্য ধুঁকতে হয়েছে মিরাজ-বিলিংসদের। ২৩ বলে ১৮ রান করে মিরাজ বিদায় নিলে আবারও চাপের মধ্যে পড়ে যায় দলটি। এর ফলে শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৫ রানের। ১৯তম ওভারে এসেই ৪০ বলে ২৯ রান করা বিলিংসকে আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান।

 

নাটকীয় সেই ওভারে মঈন আলীকে ফেরান সাজঘরে। ম্যাচের উত্তাপ তখন আরও বেড়ে যায়। শেষ বলের সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ রানে। ক্রিস ওকস ছক্কা হাঁকিয়েই ম্যাচ জেতান সিলেটকে। তাতেই কপাল পুড়ে রংপুর রাইডার্সের। বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সিলেট টাইটান্সের খালেদ আহমেদ।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নাটকীয় জয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করল সিলেট

আপডেট টাইম : ০৬:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল সিলেট টাইটান্স। আর তাতেই রংপুর রাইডার্সের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল। বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে আজ দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে সিলেট। ফলে ফাইনাল থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে মিরাজের দল। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছেন ক্রিস ওকস। শেষ বলে প্রয়োজনই ছিল ৬ রান। আর সেই ছক্কা মেরেই দলকে ৩ উইকেটে জিতিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন শক্তি নিয়ে যে কোনো প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার বার্তাও যেন দিয়ে রাখল সিলেট টাইটান্স।

 

 

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংসকে নিয়ে মাঠে নামা সিলেট শুরুতেই পায় সাফল্য। ওকস-খালেদরা দাঁড়াতেই দেননি রংপুরের ব্যাটারদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা রংপুর দলীয় ২৯ রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, অধিনায়ক লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্সের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটারদের। চারজনই ফেরেন এক অঙ্কের ঘরে। যাদের সম্মিলিত রান ছিল মাত্র ১৭! এরপর খুশদিল শাহ আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ১৯ বলে ৩০ রান করে খুশদিল সাজঘরে ফেরেন, হাঁকান তিনটি ছক্কা। এরপর রিয়াদের সাথে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সাবেক অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।

 

 

কিন্তু সোহান শেষপর্যন্ত জ্বলে উঠতে পারেননি। রিয়াদ সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রান করলেও সোহান ২৪ বলে ১৮ রান করেন। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রান সংগ্রহ করে রংপুরের। সিলেটের ঘরের ছেলে খালেদ আহমেদ একাই শিকার করেন প্রতিপক্ষের মূল্যবান চার উইকেট। তাও মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে। বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন ক্রিস ওকসও। মাত্র ১৫ রান দিয়ে জোড়া উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া নাসুম আহমেদও ২ উইকেট লাভ করেন। মাত্র ১২ রানের বিনিময়ে।

 

রংপুরের ছুড়ে দেওয়া ১১২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেটও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। দলীয় ২ রানেই যে তৌফিক খানকে হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে দলের হাল ধরে রাখলেও তার বিদায়ে আবারও খেই হারায় সিলেট। আরিফুল ইসলাম ১৮ বলে ১৭ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৯ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরলে দলের হাল ধরেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ আর বিদেশি ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস। দুজনের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় সিলেট টাইটান্স।

তবে রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের জন্য ধুঁকতে হয়েছে মিরাজ-বিলিংসদের। ২৩ বলে ১৮ রান করে মিরাজ বিদায় নিলে আবারও চাপের মধ্যে পড়ে যায় দলটি। এর ফলে শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৫ রানের। ১৯তম ওভারে এসেই ৪০ বলে ২৯ রান করা বিলিংসকে আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান।

 

নাটকীয় সেই ওভারে মঈন আলীকে ফেরান সাজঘরে। ম্যাচের উত্তাপ তখন আরও বেড়ে যায়। শেষ বলের সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ রানে। ক্রিস ওকস ছক্কা হাঁকিয়েই ম্যাচ জেতান সিলেটকে। তাতেই কপাল পুড়ে রংপুর রাইডার্সের। বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সিলেট টাইটান্সের খালেদ আহমেদ।