সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

পঞ্চাশ বছরেও হয়নি সেতু: সরস্বতী নদী যেন রশিদপুরবাসীর দু:খ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 62

রশিটানা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে রশিদপুরের মানুষ। ছবি: জনতার কণ্ঠ

লিখন আহমেদ (অতিথি প্রতিবেদক),  জনতার কণ্ঠ.কম:

পঞ্চাশ বছরেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় রশিটানা নৌকায় সরস্বতী নদী পারপোর হতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রশিদপুর গ্রামের হাজারও মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরাও নদী পারাপার হচ্ছে। অপ্রশস্ত এই নদী পারাপারে কয়েক হাজার হাজার নারী পুরুষ দীর্ঘ দিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নদীর দুই পাড়ে খুঁটি পুতে তাতে রশি টানিয়ে ছোট্ট একটি ভিঙ্গি নৌকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন লোকজন। রশি টেনে চলাতে হয় ডিঙ্গিটি। এলাকায় সরস্বতী নদীকে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের দুঃখ বলে অভিহিত করা হয়।

 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা হাটিকুমরুল ইউনিয়নে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামটি অবস্থিত। সরস্বতী নদীটি এই গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এক বছর আগেও এই গ্রামে প্রবেশের কোন রাস্তা ছিল না। উপজেলা প্রশাসন ২০২৪ সালের শেষের দিকে এখানে একটি এইচবিবি রাস্তা নির্মান করে দেওয়ায় গ্রামের লোকজন আপাতত তাদের রাস্তার সমস্যা থেকে মুক্ত হয়েছেন। সরস্বতী নদী পেরিয়ে শুধু রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন না; পাশাপাশি রশিদপুর উত্তরপাড়া, বাগধা গ্রামের লোকজনও এই নদী পার হয়ে প্রতিদিন বোয়ালিয়া বাজার উল্লাপাড়া, উপজেলা সদর ও সলঙ্গা হাটে যাতায়াত করে থাকেন। পরিবহন করা হয় কৃষি পণ্যও।

 

রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নাল খন্দকার, আলী আশরাফ, আব্দুল হাই ও ইসমাইল হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে তারা সরস্বতী নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সময়ে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্যদের কাছে অপ্রশস্ত (১৭০ফুট) এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মানের জন্য বহুবার আবেদন জানালেও তা কেউ কখনই আমলে নেয়নি।

 

এমনকি গ্রামের পাশে এই নদী পারাপারের জন্য কোন বাঁশের সাঁকো পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। গ্রামের অবস্থাপন্ন কয়েক ব্যক্তি প্রতিবছর একটি করে ভিঙ্গি নৌকা কিনে দেন লোকজনের নদী পারাপারের জন্য। রশি টেনে ডিঙ্গিটি চালানো হয়। ছোট্ট ভিঙ্গি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে রশিদপুর নয়াপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও শতাধিক শিক্ষার্থীরা পারাপার হন। অনেক সময় নৌকা ডুবে কাপড়-চোপড় বা শিক্ষার্থীদের বই খাতা হারিয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী লোকজন সাঁতরিয়ে ডুবে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধার করেন। আর এ অবস্থা চলে আসছে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ জন্য সরস্বতী নদীকে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের দুঃখ বলে থাকেন এলাকার লোকজন।

 

এই নদী পারাপার হওয়া শিক্ষার্থী মেরাজুল, নাজমুল, সুমাইয়া, তামিম ও মিম জানায়, সরস্বতী নদী তাদের জন্য বড় দুর্ভোগ। আমাদের পূর্ব পুরুষরাও একইভাবে ভোগান্তি সহেছেন। বর্তমান প্রজন্মে আমরাও সেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। প্রতিদিন ডুবু ডুবু অবস্থায় ছোট্ট নৌকায় পারাপারের সময় ভয়ে আতংকিত হতে হয় তাদেরকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তারা এখানে একটি ফুট ব্রিজ নির্মানের দাবি জানায়।

 

এ ব্যাপারে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন জানান, রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তিনি ওই গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন। গ্রামবাসী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন সত্যই নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এই নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মানের প্রকল্প প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। যতদিন পর্যন্ত সেতু নির্মান সম্ভব না হয় ততদিন উপজেলা পরিষদ থেকে এই গ্রামের পাশে সরস্বতী নদীর খেয়াঘাটে একটি বড় নৌকার ব্যবস্থা করা হবে। আর এতে এলাকার লোকজনের নদী পারাপার সহজতর ও ঝুঁকিমুক্তি হবে।

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত জানান, রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘকালের দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মানের প্রকল্প প্রস্তুত শুরু হয়েছে। এটি দ্রুত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

পঞ্চাশ বছরেও হয়নি সেতু: সরস্বতী নদী যেন রশিদপুরবাসীর দু:খ

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লিখন আহমেদ (অতিথি প্রতিবেদক),  জনতার কণ্ঠ.কম:

পঞ্চাশ বছরেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় রশিটানা নৌকায় সরস্বতী নদী পারপোর হতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রশিদপুর গ্রামের হাজারও মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরাও নদী পারাপার হচ্ছে। অপ্রশস্ত এই নদী পারাপারে কয়েক হাজার হাজার নারী পুরুষ দীর্ঘ দিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নদীর দুই পাড়ে খুঁটি পুতে তাতে রশি টানিয়ে ছোট্ট একটি ভিঙ্গি নৌকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন লোকজন। রশি টেনে চলাতে হয় ডিঙ্গিটি। এলাকায় সরস্বতী নদীকে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের দুঃখ বলে অভিহিত করা হয়।

 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা হাটিকুমরুল ইউনিয়নে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামটি অবস্থিত। সরস্বতী নদীটি এই গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এক বছর আগেও এই গ্রামে প্রবেশের কোন রাস্তা ছিল না। উপজেলা প্রশাসন ২০২৪ সালের শেষের দিকে এখানে একটি এইচবিবি রাস্তা নির্মান করে দেওয়ায় গ্রামের লোকজন আপাতত তাদের রাস্তার সমস্যা থেকে মুক্ত হয়েছেন। সরস্বতী নদী পেরিয়ে শুধু রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন না; পাশাপাশি রশিদপুর উত্তরপাড়া, বাগধা গ্রামের লোকজনও এই নদী পার হয়ে প্রতিদিন বোয়ালিয়া বাজার উল্লাপাড়া, উপজেলা সদর ও সলঙ্গা হাটে যাতায়াত করে থাকেন। পরিবহন করা হয় কৃষি পণ্যও।

 

রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নাল খন্দকার, আলী আশরাফ, আব্দুল হাই ও ইসমাইল হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে তারা সরস্বতী নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সময়ে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্যদের কাছে অপ্রশস্ত (১৭০ফুট) এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মানের জন্য বহুবার আবেদন জানালেও তা কেউ কখনই আমলে নেয়নি।

 

এমনকি গ্রামের পাশে এই নদী পারাপারের জন্য কোন বাঁশের সাঁকো পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। গ্রামের অবস্থাপন্ন কয়েক ব্যক্তি প্রতিবছর একটি করে ভিঙ্গি নৌকা কিনে দেন লোকজনের নদী পারাপারের জন্য। রশি টেনে ডিঙ্গিটি চালানো হয়। ছোট্ট ভিঙ্গি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে রশিদপুর নয়াপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও শতাধিক শিক্ষার্থীরা পারাপার হন। অনেক সময় নৌকা ডুবে কাপড়-চোপড় বা শিক্ষার্থীদের বই খাতা হারিয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী লোকজন সাঁতরিয়ে ডুবে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধার করেন। আর এ অবস্থা চলে আসছে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ জন্য সরস্বতী নদীকে রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের দুঃখ বলে থাকেন এলাকার লোকজন।

 

এই নদী পারাপার হওয়া শিক্ষার্থী মেরাজুল, নাজমুল, সুমাইয়া, তামিম ও মিম জানায়, সরস্বতী নদী তাদের জন্য বড় দুর্ভোগ। আমাদের পূর্ব পুরুষরাও একইভাবে ভোগান্তি সহেছেন। বর্তমান প্রজন্মে আমরাও সেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। প্রতিদিন ডুবু ডুবু অবস্থায় ছোট্ট নৌকায় পারাপারের সময় ভয়ে আতংকিত হতে হয় তাদেরকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তারা এখানে একটি ফুট ব্রিজ নির্মানের দাবি জানায়।

 

এ ব্যাপারে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন জানান, রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তিনি ওই গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন। গ্রামবাসী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন সত্যই নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এই নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মানের প্রকল্প প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। যতদিন পর্যন্ত সেতু নির্মান সম্ভব না হয় ততদিন উপজেলা পরিষদ থেকে এই গ্রামের পাশে সরস্বতী নদীর খেয়াঘাটে একটি বড় নৌকার ব্যবস্থা করা হবে। আর এতে এলাকার লোকজনের নদী পারাপার সহজতর ও ঝুঁকিমুক্তি হবে।

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত জানান, রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘকালের দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মানের প্রকল্প প্রস্তুত শুরু হয়েছে। এটি দ্রুত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।