সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo রায়গঞ্জে নিমগাছী স্কুলের সামনে কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন Logo হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয় Logo মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন Logo ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা  Logo নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী Logo বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ Logo আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট Logo বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের

পদ্মায় বাসডুবি: দুই সন্তানকে এতিম করে না ফেরার দেশে দম্পতি

জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানম। ছবি : সংগৃহীত

উন্নত চিকিৎসার আশায় বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই কবরে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

 

 

নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও মুক্তা খানম (৪৫) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। অসুস্থ স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে তারা কালুখালী থেকে উঠেছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে প্রথমে মুক্তা খানম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতদের জানাজায় অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে।

 

 

তাদের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। একটি বাস কীভাবে পন্টুনে ওঠার সময় সরাসরি নদীতে পড়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা অনতিবিলম্বে ফেরিঘাটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে এতিম হতে না হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

পদ্মায় বাসডুবি: দুই সন্তানকে এতিম করে না ফেরার দেশে দম্পতি

আপডেট টাইম : ০৬:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

উন্নত চিকিৎসার আশায় বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই কবরে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

 

 

নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও মুক্তা খানম (৪৫) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। অসুস্থ স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে তারা কালুখালী থেকে উঠেছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে প্রথমে মুক্তা খানম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতদের জানাজায় অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে।

 

 

তাদের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। একটি বাস কীভাবে পন্টুনে ওঠার সময় সরাসরি নদীতে পড়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা অনতিবিলম্বে ফেরিঘাটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে এতিম হতে না হয়।