সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

পদ্মায় বাসডুবি: দুই সন্তানকে এতিম করে না ফেরার দেশে দম্পতি

জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানম। ছবি : সংগৃহীত

উন্নত চিকিৎসার আশায় বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই কবরে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

 

 

নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও মুক্তা খানম (৪৫) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। অসুস্থ স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে তারা কালুখালী থেকে উঠেছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে প্রথমে মুক্তা খানম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতদের জানাজায় অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে।

 

 

তাদের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। একটি বাস কীভাবে পন্টুনে ওঠার সময় সরাসরি নদীতে পড়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা অনতিবিলম্বে ফেরিঘাটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে এতিম হতে না হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

পদ্মায় বাসডুবি: দুই সন্তানকে এতিম করে না ফেরার দেশে দম্পতি

আপডেট টাইম : ০৬:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

উন্নত চিকিৎসার আশায় বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই কবরে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

 

 

নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও মুক্তা খানম (৪৫) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। অসুস্থ স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে তারা কালুখালী থেকে উঠেছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে প্রথমে মুক্তা খানম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতদের জানাজায় অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে।

 

 

তাদের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। একটি বাস কীভাবে পন্টুনে ওঠার সময় সরাসরি নদীতে পড়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা অনতিবিলম্বে ফেরিঘাটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে এতিম হতে না হয়।