সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা Logo হিলি স্থলবন্দরে শনিবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশন Logo কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা জারি Logo নারীর অগ্রগতিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ চান জুবাইদা রহমান Logo শরীয়তপুরের জাজিরায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালো মানবতার আলো ফাউন্ডেশন Logo ভারতীয় ভিসায় নতুন নিয়ম, আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা Logo টেকনাফে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত Logo মরিশাসে কাচের বাক্সে চাপা পড়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু Logo বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা Logo একটি ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশে ফের বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল

ভোতেনদী বা ভোতেকোশির সেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে থমকে যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর কাজ। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টের ছাব্বিশ তারিখের সেই বন্যায় ত্রিশূলী আর চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি তছনছ হয়ে যায়। এই দুটি কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন ছিল। বন্যা শুধু যে বাংলাদেশের সরবরাহ থামিয়ে দিয়েছিল তা-ই নয়, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে পাঠানো বিদ্যুতেও টান ফেলেছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্য কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, এখন থেকে সোলু খোলা আর কাবেলি বি-ওয়ান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ যাবে। অন্যদিকে লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্রটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে হরিয়ানায় বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য। এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগের ত্রিশূলী, চিলিম আর দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জায়গাকে স্থলাভিষিক্ত করল।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ আরও বললেন, বন্যায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা চালু রাখা নেপালের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি আশা করছেন, বর্ষার মৌসুমে বাড়তি তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ যেমন সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যাবে, তেমনই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবসাকেও আরও প্রসারিত করা সম্ভব হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে পাঁচ বছরের চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি মেনেই প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নেপাল ভারতে ৫ দশমিক ৯২৫ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে। গত বছরের এই একই সময়ের এবং ঠিক আগের মাসের চেয়েও এই আয় বেশ কিছুটা বেশি। এনইএ-র লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের হিসাব বলছে, এই সময়কালের মধ্যে নেপাল ভারতে ৬৩৩ দশমিক ৯৮৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ পাঠিয়ে ৫ দশমিক ৯২৫ বিলিয়ন রুপি আয় করেছে। হঠাৎ আসা বন্যার কারণে অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে না হলে এই বিক্রির পরিমাণ হয়তো আরও বাড়তে পারত।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের এই একই সময়ের আয়—যা ছিল ৪ দশমিক ৯৬৩ বিলিয়ন রুপি—তার চেয়ে এবার ৯৬২ মিলিয়ন রুপি বেশি আয় হয়েছে। এমনকি চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অর্জিত ৫ দশমিক ০৯২৫ বিলিয়ন রুপির চেয়েও আয় ৮৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন রুপি বেড়েছে।

মূলত দুটি উপায়ে এই বিদ্যুৎ পাঠানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের হরিয়ানা আর বিহার রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে নেপাল। আর বাকি বিদ্যুৎ বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের (আইইএক্স) ‘ডে-অ্যাহেড’ এবং ‘রিয়েল-টাইম’ বাজারে, প্রতিযোগিতামূলক দরদামের মাধ্যমে।

নিজের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্ষায় যে বাড়তি বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে, ঠিক সেটুকুই এনইএ বিদেশে রপ্তানি করে। মধ্যমেয়াদী এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত হরিয়ানা আর বিহারকে বিদ্যুৎ দেয় নেপাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই নেপাল সর্বমোট ১৬ দশমিক ১৫১৩ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ বিদেশে বিক্রি করতে পেরেছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানালেন, কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ থাকার পরও সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে আয় এভাবে বেড়ে যাওয়া সত্যিই আনন্দের। এই সময়ে ভারতে পাঠানো মোট বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে, আর বাকি অংশটুকু হাতবদল হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশে ফের বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোতেনদী বা ভোতেকোশির সেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে থমকে যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর কাজ। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টের ছাব্বিশ তারিখের সেই বন্যায় ত্রিশূলী আর চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি তছনছ হয়ে যায়। এই দুটি কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন ছিল। বন্যা শুধু যে বাংলাদেশের সরবরাহ থামিয়ে দিয়েছিল তা-ই নয়, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে পাঠানো বিদ্যুতেও টান ফেলেছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্য কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, এখন থেকে সোলু খোলা আর কাবেলি বি-ওয়ান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ যাবে। অন্যদিকে লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্রটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে হরিয়ানায় বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য। এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগের ত্রিশূলী, চিলিম আর দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জায়গাকে স্থলাভিষিক্ত করল।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ আরও বললেন, বন্যায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা চালু রাখা নেপালের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি আশা করছেন, বর্ষার মৌসুমে বাড়তি তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ যেমন সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যাবে, তেমনই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবসাকেও আরও প্রসারিত করা সম্ভব হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে পাঁচ বছরের চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি মেনেই প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নেপাল ভারতে ৫ দশমিক ৯২৫ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে। গত বছরের এই একই সময়ের এবং ঠিক আগের মাসের চেয়েও এই আয় বেশ কিছুটা বেশি। এনইএ-র লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের হিসাব বলছে, এই সময়কালের মধ্যে নেপাল ভারতে ৬৩৩ দশমিক ৯৮৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ পাঠিয়ে ৫ দশমিক ৯২৫ বিলিয়ন রুপি আয় করেছে। হঠাৎ আসা বন্যার কারণে অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে না হলে এই বিক্রির পরিমাণ হয়তো আরও বাড়তে পারত।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের এই একই সময়ের আয়—যা ছিল ৪ দশমিক ৯৬৩ বিলিয়ন রুপি—তার চেয়ে এবার ৯৬২ মিলিয়ন রুপি বেশি আয় হয়েছে। এমনকি চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অর্জিত ৫ দশমিক ০৯২৫ বিলিয়ন রুপির চেয়েও আয় ৮৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন রুপি বেড়েছে।

মূলত দুটি উপায়ে এই বিদ্যুৎ পাঠানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের হরিয়ানা আর বিহার রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে নেপাল। আর বাকি বিদ্যুৎ বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের (আইইএক্স) ‘ডে-অ্যাহেড’ এবং ‘রিয়েল-টাইম’ বাজারে, প্রতিযোগিতামূলক দরদামের মাধ্যমে।

নিজের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্ষায় যে বাড়তি বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে, ঠিক সেটুকুই এনইএ বিদেশে রপ্তানি করে। মধ্যমেয়াদী এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত হরিয়ানা আর বিহারকে বিদ্যুৎ দেয় নেপাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই নেপাল সর্বমোট ১৬ দশমিক ১৫১৩ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ বিদেশে বিক্রি করতে পেরেছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানালেন, কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ থাকার পরও সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে আয় এভাবে বেড়ে যাওয়া সত্যিই আনন্দের। এই সময়ে ভারতে পাঠানো মোট বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে, আর বাকি অংশটুকু হাতবদল হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।