সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

বেঁচে থেকেও কাগজে মৃত, জীবিত হওয়ার চেষ্টায় ৭০ বছর বয়সী আবুল কাশেম

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 28

বৃদ্ধ আবুল কাশেম। ছবি: সংগৃহীত

হাটা-চলা করছেন, কথা বলছেন, বেঁচে আছেন;অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বলছে, তিনি ‘মৃত’। সরকারি নথিতে মৃত হওয়ায় বন্ধ হয়েছে বয়স্ক ভাতাও। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে বছরের পর বছর ঘুরেও সমাধান পাননি গাজীপুরের ৭০ বছর বয়সী আবুল কাশেম।

 

 

 

 

আবুল কাশেমের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মাঈন উদ্দিনের ছেলে। ২০১৪ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পর সরকারি নথিতে তার মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়। এর তিন বছর পর, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, কাগজে-কলমে তিনি আর জীবিত নেই। এরপর থেকে ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন তিনি।

 

 

 

 

সম্প্রতি শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের বটতলা মোড় এলাকায় আবুল কাশেমের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

আবুল কাশেম কালবেলাকে বলেন, ‘কয়েকটা ট্যাহা বয়স্ক ভাতা পাইতাম। হেইডাও বন্ধ কইরা দিছে। আমি নাকি মইরা গেছি। বাইচা থাকতেও আমারে মরা দেখাইছে, এইডা কেমনে মাইনা লই? মেম্বার-চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলি ছিঁড়া গেছে। আর কত দিন ঘুরলে জীবিত হইমু?’

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে আবুল কাশেম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে ভোটার হিসেবে স্থানান্তরিত হন। ওই বছরই তাকে মৃত দেখিয়ে মৃত্যুসনদ চেয়ে আবেদন করেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের স্বাক্ষরিত পত্রের ভিত্তিতে আবুল কাশেমকে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্যও কর্তন করা হয়।

 

 

 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিষয়টি জানার পর একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো সমাধান পাননি আবুল কাশেম। জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন তিনি। কিন্তু ভোটার তালিকায় এখনো নিজের নাম পুনর্বহাল করতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল ইসলাম বলেন, আবুল কাশেম আমাদের এলাকার বড় ভাই। তিনি সব সময় আমাদের চোখের সামনেই আছেন। আজও একসঙ্গে চা খেয়েছি। কয়েক বছর আগে শুনলাম, তিনি নাকি মারা গেছেন। আমরা কবর দিলাম না, জানাজা পড়লাম না, তাহলে তিনি মারা গেলেন কীভাবে?

 

 

 

আরেক বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি একজন ভালো মানুষ। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের মাধ্যমে আবুল কাশেমকে জীবিত হিসেবে ভোটার তালিকায় পুনর্বহালের দাবি জানাই।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহা উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে উল্লেখ থাকায় আবুল কাশেমের বয়স্ক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের দায়িত্ব নির্বাচন কার্যালয়ের। পরিচয়পত্রে তাকে জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আবেদনের মাধ্যমে আবারও বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা যাবে।

 

 

 

 

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না রশিদ বলেন, তিনি এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আবুল কাশেমের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পর বরিশালের বাবুগঞ্জে তার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য ওই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

 

 

 

 

গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জীবিত একজন মানুষকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী মৃত দেখানো দুঃখজনক। আবুল কাশেমকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হলে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় যাচাই করা হবে। জেলা কার্যালয় থেকে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে তা করা হবে। অন্যথায় দ্রুত কীভাবে তথ্য সংশোধন করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

বেঁচে থেকেও কাগজে মৃত, জীবিত হওয়ার চেষ্টায় ৭০ বছর বয়সী আবুল কাশেম

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

হাটা-চলা করছেন, কথা বলছেন, বেঁচে আছেন;অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বলছে, তিনি ‘মৃত’। সরকারি নথিতে মৃত হওয়ায় বন্ধ হয়েছে বয়স্ক ভাতাও। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে বছরের পর বছর ঘুরেও সমাধান পাননি গাজীপুরের ৭০ বছর বয়সী আবুল কাশেম।

 

 

 

 

আবুল কাশেমের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মাঈন উদ্দিনের ছেলে। ২০১৪ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পর সরকারি নথিতে তার মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়। এর তিন বছর পর, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, কাগজে-কলমে তিনি আর জীবিত নেই। এরপর থেকে ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন তিনি।

 

 

 

 

সম্প্রতি শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের বটতলা মোড় এলাকায় আবুল কাশেমের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

আবুল কাশেম কালবেলাকে বলেন, ‘কয়েকটা ট্যাহা বয়স্ক ভাতা পাইতাম। হেইডাও বন্ধ কইরা দিছে। আমি নাকি মইরা গেছি। বাইচা থাকতেও আমারে মরা দেখাইছে, এইডা কেমনে মাইনা লই? মেম্বার-চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলি ছিঁড়া গেছে। আর কত দিন ঘুরলে জীবিত হইমু?’

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে আবুল কাশেম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে ভোটার হিসেবে স্থানান্তরিত হন। ওই বছরই তাকে মৃত দেখিয়ে মৃত্যুসনদ চেয়ে আবেদন করেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের স্বাক্ষরিত পত্রের ভিত্তিতে আবুল কাশেমকে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্যও কর্তন করা হয়।

 

 

 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিষয়টি জানার পর একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো সমাধান পাননি আবুল কাশেম। জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন তিনি। কিন্তু ভোটার তালিকায় এখনো নিজের নাম পুনর্বহাল করতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল ইসলাম বলেন, আবুল কাশেম আমাদের এলাকার বড় ভাই। তিনি সব সময় আমাদের চোখের সামনেই আছেন। আজও একসঙ্গে চা খেয়েছি। কয়েক বছর আগে শুনলাম, তিনি নাকি মারা গেছেন। আমরা কবর দিলাম না, জানাজা পড়লাম না, তাহলে তিনি মারা গেলেন কীভাবে?

 

 

 

আরেক বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি একজন ভালো মানুষ। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের মাধ্যমে আবুল কাশেমকে জীবিত হিসেবে ভোটার তালিকায় পুনর্বহালের দাবি জানাই।

 

 

 

 

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহা উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে উল্লেখ থাকায় আবুল কাশেমের বয়স্ক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের দায়িত্ব নির্বাচন কার্যালয়ের। পরিচয়পত্রে তাকে জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আবেদনের মাধ্যমে আবারও বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা যাবে।

 

 

 

 

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না রশিদ বলেন, তিনি এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আবুল কাশেমের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পর বরিশালের বাবুগঞ্জে তার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য ওই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

 

 

 

 

গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জীবিত একজন মানুষকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী মৃত দেখানো দুঃখজনক। আবুল কাশেমকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হলে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় যাচাই করা হবে। জেলা কার্যালয় থেকে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে তা করা হবে। অন্যথায় দ্রুত কীভাবে তথ্য সংশোধন করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।