সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ব্যাংক বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের সংকট

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল তুলতে পারছেন না পেট্রল পাম্পের মালিকরা। অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না, ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আগে ঈদের সময় এমন সমস্যা না হলেও এবার কেন সংকট তৈরি হলো,এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদুল করিম বলেন, আগে থেকেই রেশনিং চালু ছিল। সেটি তুলে দেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি।

 

এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। এছাড়া পাম্প মালিকদের প্রতি ডিপো কর্তৃপক্ষের আস্থার সংকটও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বলার পরও তারা চেক গ্রহণ করছে না। ডিপো যদি আমাদের বিশ্বাস না করে, তবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

 

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা নিয়ে ডিপোতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ভবিষ্যতে দীর্ঘ ছুটি থাকলে প্রতি জেলায় দুই-একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা খোলা রাখা এবং চেক গ্রহণের বিষয়টি ডিপো কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন পেট্রল পাম্প মালিকদের এই নেতা।

 

রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে তেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। আবার যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্প মালিক সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, আগের মজুতের ওপর নির্ভর করে সীমিত আকারে তেল বিক্রি করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাম্পের নোজেলম্যানদের (যানবাহনে তেল সরবরাহকারী) সঙ্গে প্রায়ই গ্রাহকদের বাকবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাম্পে মোতায়েন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। ধারণা করা হচ্ছে, কিছু মোটরসাইকেল খোলা বাজারে তেল বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনে দুই-তিনটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করছে। এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা প্রয়োজন।

 

মিরপুরের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, একাধিক পাম্প ঘুরে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে ফিরতে হয়েছে। শ্যামলী এলাকার আরেকজন জানান, সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি।

 

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত তেল বিক্রি,সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। কুড়িগ্রাম জেলায় ২০টি পাম্পের সবকটিই বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

 

উল্লেখ্য, সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয়। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটেনি। বরং টানা ছুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

 

এদিকে রোববার রাতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যে কোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প (ফিলিং স্টেশন) বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নিজেদের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যাংক খুললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ব্যাংক বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের সংকট

আপডেট টাইম : ০১:১৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল তুলতে পারছেন না পেট্রল পাম্পের মালিকরা। অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না, ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আগে ঈদের সময় এমন সমস্যা না হলেও এবার কেন সংকট তৈরি হলো,এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদুল করিম বলেন, আগে থেকেই রেশনিং চালু ছিল। সেটি তুলে দেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি।

 

এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। এছাড়া পাম্প মালিকদের প্রতি ডিপো কর্তৃপক্ষের আস্থার সংকটও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বলার পরও তারা চেক গ্রহণ করছে না। ডিপো যদি আমাদের বিশ্বাস না করে, তবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

 

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা নিয়ে ডিপোতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ভবিষ্যতে দীর্ঘ ছুটি থাকলে প্রতি জেলায় দুই-একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা খোলা রাখা এবং চেক গ্রহণের বিষয়টি ডিপো কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন পেট্রল পাম্প মালিকদের এই নেতা।

 

রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে তেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। আবার যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্প মালিক সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, আগের মজুতের ওপর নির্ভর করে সীমিত আকারে তেল বিক্রি করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাম্পের নোজেলম্যানদের (যানবাহনে তেল সরবরাহকারী) সঙ্গে প্রায়ই গ্রাহকদের বাকবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাম্পে মোতায়েন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। ধারণা করা হচ্ছে, কিছু মোটরসাইকেল খোলা বাজারে তেল বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনে দুই-তিনটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করছে। এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা প্রয়োজন।

 

মিরপুরের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, একাধিক পাম্প ঘুরে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে ফিরতে হয়েছে। শ্যামলী এলাকার আরেকজন জানান, সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি।

 

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত তেল বিক্রি,সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। কুড়িগ্রাম জেলায় ২০টি পাম্পের সবকটিই বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

 

উল্লেখ্য, সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয়। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটেনি। বরং টানা ছুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

 

এদিকে রোববার রাতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যে কোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প (ফিলিং স্টেশন) বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নিজেদের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যাংক খুললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।