সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হলো ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে Logo জামায়াতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চাকরি মেলেনি, পাশে দাঁড়ালেন শাহে আলম Logo পরীমনির আচরণে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা Logo অনুমোদনহীন মৎস্য আড়তে মিললো ২৬ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা Logo লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম Logo সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতা গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের Logo খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু Logo শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

 

সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

 

 

 

 

একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন বলে দাবি পুলিশের।

 

 

 

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম।

 

 

 

তিনি বলেন, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

 

 

 

 

আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

মহিদুল ইসলাম বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের নামে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। অভিযান চলছে। তবে কাউকে আটকের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তদারকিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, নিরীহ শ্রমিক ও পথচারী, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।

 

 

 

মিরপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক

মিরপুরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরে গেছেন এবং কারখানাগুলোতে কাজ চলছে।

 

 

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

 

 

 

 

পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে বলে জানান মহিদুল ইসলাম।

 

 

 

 

তিনি বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।

 

 

 

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

শ্রমিকদের উদ্দেশে এবং আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের সতর্ক করে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা এসব অপরাধ করাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং গার্মেন্টস খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

 

 

 

মহিদুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যাতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হলো ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে

মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ

আপডেট টাইম : ০১:৫৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

 

সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

 

 

 

 

একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন বলে দাবি পুলিশের।

 

 

 

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম।

 

 

 

তিনি বলেন, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

 

সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

 

 

 

 

আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

মহিদুল ইসলাম বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের নামে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। অভিযান চলছে। তবে কাউকে আটকের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তদারকিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, নিরীহ শ্রমিক ও পথচারী, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।

 

 

 

মিরপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক

মিরপুরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরে গেছেন এবং কারখানাগুলোতে কাজ চলছে।

 

 

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

 

 

 

 

পুলিশের পাশাপাশি অভিযানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে বলে জানান মহিদুল ইসলাম।

 

 

 

 

তিনি বলেন, সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করে যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে।

 

 

 

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

শ্রমিকদের উদ্দেশে এবং আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের সতর্ক করে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা এসব অপরাধ করাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং গার্মেন্টস খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

 

 

 

মহিদুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক বা যত ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যাতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ