সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

যানজটে নাকাল সিরাজগঞ্জ শহর, সীমাহীন দুর্ভোগ মানুষের

আসন্ন পবিত্র ঈদে কেনাকাটা ও মানুষের যাতায়াত বাড়ায় সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন প্রায় সারাদিনই যানজটে থমকে থাকছে। শুধু যানবাহনের চাপ নয়, এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও।

 

 

শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজার স্টেশন ( নয় রাস্তার মোড় ), রেলগট ও মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে, অঘোষিত বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাতজুড়ে শত শত অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং দিনের বেলা শহরে বালু ও কুরিয়ার ট্রাকের প্রবেশের কারণে শহরের যানজট দিন দিন বাড়ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শহরবাসী।

 

 

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহরে দুইটি বাস টার্মিনাল একটি এম এ মতিন পৌর বাস টার্মিনাল সচল থাকলেও অপরটি মির্জা মুরাদুজ্জামান পৌর বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ওয়ার্কশপ গ্যারেজ ও মাদকের আড্ডাস্থল হিসেবে রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজার স্টেশন নয়টি সড়ক এসে মিলেছে। নিয়ম অনুযায়ী এটি হওয়া উচিত ছিল সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক পয়েন্ট। কিন্তু বাস্তবে এটি এখন শহরের সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র। সকাল থেকে শুরু করে দিনভর এখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে থাকে। এর মাঝেই ঢুকে পড়ে গেটলক সার্ভিস নামে পরিচিত আন্তঃথানা কাজিপুর, বেলকুচি এনায়েতপুর রুটের বাস। সেই সাথে কাউন্টার বাসের রয়েছে দৌরাত্ম। মোড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা রোডে মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে রাস্তার উপর দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে কাজিপুর বাস স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের রেলগটে ব্রীজ ও রাস্তার উপর, চৌরাস্তা প্রেসক্লাব চত্বর, শহীদ মহুকুমা প্রশাসক শামসুদ্দিন গেইট ও কাঠের পুলে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ডে অর্ধেক রাস্তা দখল করে থাকে। একজন পরিবহন মালিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজার স্টেশন, রেলগেট ও মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে রাস্তার উপর বাস স্ট্যান্ড হিসেবে গাড়ি দাঁড়ায় সবার চোখের সামনে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু বন্ধ হয় না কেন সেটি বুঝে নিতে হবে।

 

 

 

শহরের বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এখন যানজটের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার স্টেশনে রেলের টিকিট কাউন্টার ও মুক্তির সোপানের দেয়াল ঘেঁষে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি, অটোরিকশার স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ফল ও ফুচকা দোকান। সেখানে সারাদিন যানজট লেগে থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাজার স্টেশন থেকে ঢাকা রোড, এসএস রোড, মুজিব সড়ক, মাহমুদপুর ও মাছুমপুর সড়কসহ স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে স্থায়ী দোকান মালিকরা নিজেদের দোকানের সামনে ফুটপাতে টেবিল বসিয়ে পণ্য সাজান। আবার অনেকেই ফুটপাতের অংশ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী দোকান বসতে দিয়েছেন। এসব দোকানের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে পথচারীদের নেমে যেতে হয় মূল সড়কে।

 

 

সিএনজি ও অটোরিকশার নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ডের জায়গা না থাকলেও প্রতি বছর এ সকল স্ট্যান্ড থেকে লাখ লাখ টাকার টোল আদায় করেন পৌরসভা। শহরের বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা সিএনজি ও অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ডও যানজটের অন্যতম কারণ। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের পাশে অনুমোদনহীন এসব স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সড়কের উপর সারি সারি করে দাঁড়িয়ে থাকে সিএনজি ও অটোরিকশা। অনেক সময় যাত্রী ওঠানামার জন্য গাড়িগুলো রাস্তার মাঝখানেই থেমে থাকে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যানজট তৈরি হয়।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার স্টেশন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় সারাদিন সিএনজি ও অটোরিকশার জটলা লেগে থাকে। যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকরা রাস্তার পাশে সারি সারি করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে রাস্তার কার্যকর (চলাচল উপযোগী) প্রস্থ কমে যায় এবং অল্প সময়েই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

 

 

নিয়ম অনুযায়ী ব্যস্ত সময়ে শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ভেতরে বড় ট্রাক ঢোকার অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে দিনের বেলাতেই শহরে বালু ভর্তি ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের ট্রাক ঢুকে বিভিন্ন স্থানে মালামাল ওঠানামা করছে। এতে প্রধান সড়কগুলো অনেক সময় আংশিক বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজট সৃষ্টি করে।

 

 

শহরের বিভিন্ন সড়কসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন দিনের বেলা বিভিন্ন কুরিয়ার কোম্পানির ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যস্ত সময়েই এসব ট্রাক সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় জুড়ে মালপত্র লোড-আনলোড করে। শুধু কুরিয়ার ট্রাকই নয়, শহরের বাজার স্টেশন ও আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন বাস কোম্পানির টিকিট কাউন্টার ও অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব বাস কোম্পানি নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা না করায় যানজট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, গাড়ি কোথায় দাঁড়াবে, কোথা থেকে যাত্রী তুলবে, সবকিছুর একটা হিসাব আছে। আইন না মানলেই সমস্যা তৈরি হয়।

 

 

স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ফুটপাতের দোকান সরানো হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আবার সেই জায়গায় দোকান বসে যায়। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কর্তৃক অভিযান চালিয়ে বাজার স্টেশন এলাকায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেন। কিন্তু অভিযানের ২/৩ দিন পর থেকেই পুনরায় সেই দোকানপাটগুলো আবার চালু হয়। মাঝেমধ্যে এই ধরনের অভিযানের পরেও ফুটপাতমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মোবাখ্খারুল ইসলাম মিঠু বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে মহাসড়কে আমরা কাজ করছি। শহরের দিকে নজর একটু কম হওয়ায় এমন হচ্ছে। তবে, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষ হলেই দোকানিরা আবার বসে পড়ে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

যানজটে নাকাল সিরাজগঞ্জ শহর, সীমাহীন দুর্ভোগ মানুষের

আপডেট টাইম : ০৯:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদে কেনাকাটা ও মানুষের যাতায়াত বাড়ায় সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন প্রায় সারাদিনই যানজটে থমকে থাকছে। শুধু যানবাহনের চাপ নয়, এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও।

 

 

শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজার স্টেশন ( নয় রাস্তার মোড় ), রেলগট ও মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে, অঘোষিত বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাতজুড়ে শত শত অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং দিনের বেলা শহরে বালু ও কুরিয়ার ট্রাকের প্রবেশের কারণে শহরের যানজট দিন দিন বাড়ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শহরবাসী।

 

 

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহরে দুইটি বাস টার্মিনাল একটি এম এ মতিন পৌর বাস টার্মিনাল সচল থাকলেও অপরটি মির্জা মুরাদুজ্জামান পৌর বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ওয়ার্কশপ গ্যারেজ ও মাদকের আড্ডাস্থল হিসেবে রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজার স্টেশন নয়টি সড়ক এসে মিলেছে। নিয়ম অনুযায়ী এটি হওয়া উচিত ছিল সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক পয়েন্ট। কিন্তু বাস্তবে এটি এখন শহরের সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র। সকাল থেকে শুরু করে দিনভর এখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে থাকে। এর মাঝেই ঢুকে পড়ে গেটলক সার্ভিস নামে পরিচিত আন্তঃথানা কাজিপুর, বেলকুচি এনায়েতপুর রুটের বাস। সেই সাথে কাউন্টার বাসের রয়েছে দৌরাত্ম। মোড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা রোডে মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে রাস্তার উপর দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে কাজিপুর বাস স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের রেলগটে ব্রীজ ও রাস্তার উপর, চৌরাস্তা প্রেসক্লাব চত্বর, শহীদ মহুকুমা প্রশাসক শামসুদ্দিন গেইট ও কাঠের পুলে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ডে অর্ধেক রাস্তা দখল করে থাকে। একজন পরিবহন মালিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজার স্টেশন, রেলগেট ও মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে রাস্তার উপর বাস স্ট্যান্ড হিসেবে গাড়ি দাঁড়ায় সবার চোখের সামনে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু বন্ধ হয় না কেন সেটি বুঝে নিতে হবে।

 

 

 

শহরের বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এখন যানজটের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার স্টেশনে রেলের টিকিট কাউন্টার ও মুক্তির সোপানের দেয়াল ঘেঁষে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি, অটোরিকশার স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ফল ও ফুচকা দোকান। সেখানে সারাদিন যানজট লেগে থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাজার স্টেশন থেকে ঢাকা রোড, এসএস রোড, মুজিব সড়ক, মাহমুদপুর ও মাছুমপুর সড়কসহ স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে স্থায়ী দোকান মালিকরা নিজেদের দোকানের সামনে ফুটপাতে টেবিল বসিয়ে পণ্য সাজান। আবার অনেকেই ফুটপাতের অংশ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী দোকান বসতে দিয়েছেন। এসব দোকানের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে পথচারীদের নেমে যেতে হয় মূল সড়কে।

 

 

সিএনজি ও অটোরিকশার নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ডের জায়গা না থাকলেও প্রতি বছর এ সকল স্ট্যান্ড থেকে লাখ লাখ টাকার টোল আদায় করেন পৌরসভা। শহরের বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা সিএনজি ও অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ডও যানজটের অন্যতম কারণ। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের পাশে অনুমোদনহীন এসব স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সড়কের উপর সারি সারি করে দাঁড়িয়ে থাকে সিএনজি ও অটোরিকশা। অনেক সময় যাত্রী ওঠানামার জন্য গাড়িগুলো রাস্তার মাঝখানেই থেমে থাকে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যানজট তৈরি হয়।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার স্টেশন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় সারাদিন সিএনজি ও অটোরিকশার জটলা লেগে থাকে। যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকরা রাস্তার পাশে সারি সারি করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে রাস্তার কার্যকর (চলাচল উপযোগী) প্রস্থ কমে যায় এবং অল্প সময়েই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

 

 

নিয়ম অনুযায়ী ব্যস্ত সময়ে শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ভেতরে বড় ট্রাক ঢোকার অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে দিনের বেলাতেই শহরে বালু ভর্তি ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের ট্রাক ঢুকে বিভিন্ন স্থানে মালামাল ওঠানামা করছে। এতে প্রধান সড়কগুলো অনেক সময় আংশিক বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজট সৃষ্টি করে।

 

 

শহরের বিভিন্ন সড়কসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন দিনের বেলা বিভিন্ন কুরিয়ার কোম্পানির ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যস্ত সময়েই এসব ট্রাক সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় জুড়ে মালপত্র লোড-আনলোড করে। শুধু কুরিয়ার ট্রাকই নয়, শহরের বাজার স্টেশন ও আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন বাস কোম্পানির টিকিট কাউন্টার ও অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব বাস কোম্পানি নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা না করায় যানজট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, গাড়ি কোথায় দাঁড়াবে, কোথা থেকে যাত্রী তুলবে, সবকিছুর একটা হিসাব আছে। আইন না মানলেই সমস্যা তৈরি হয়।

 

 

স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ফুটপাতের দোকান সরানো হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আবার সেই জায়গায় দোকান বসে যায়। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কর্তৃক অভিযান চালিয়ে বাজার স্টেশন এলাকায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেন। কিন্তু অভিযানের ২/৩ দিন পর থেকেই পুনরায় সেই দোকানপাটগুলো আবার চালু হয়। মাঝেমধ্যে এই ধরনের অভিযানের পরেও ফুটপাতমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মোবাখ্খারুল ইসলাম মিঠু বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে মহাসড়কে আমরা কাজ করছি। শহরের দিকে নজর একটু কম হওয়ায় এমন হচ্ছে। তবে, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষ হলেই দোকানিরা আবার বসে পড়ে।