সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

 

 

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশীয় বাজারে ডালের সরবরাহ নিয়ে এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

 

 

 

তবে আমদানি করা পণ্যের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর। এ দুটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।
 

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ রকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম উৎসবাজারের ওপর নির্ভর করে।

একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে। আগামী কয়েক মাসে বিশ্ব পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

 

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও ভোক্তা সবাই চান পণ্যের দাম যতটা সম্ভব কম থাকুক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় হোক। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহনব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েক মাস পরের দাম সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

 

 

 

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো আকস্মিক পরিস্থিতিতে যেন বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত বুকিং ও পাইপলাইনে পণ্যের মজুত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।.

 

 

 

 

তিনি বলেন, রমজান পর্যন্ত সব পণ্যের বুকিং এখনই নিশ্চিত করার জন্য বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা যায় না। এটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলের বিষয়। কারণ, এখন যে দামে পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে সেই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য লোকসানের কারণ হতে পারে।

 

 

 

 

এ ছাড়া পণ্য কেনার বুকিং দেওয়া গেলেও জাহাজে পণ্য ওঠানোর সময় পরিবহনভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে পণ্যের চূড়ান্ত আমদানি ব্যয় নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর।

 

 

 

ছোলার দাম নিয়ে আলোচনা
বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে কী করা যায়, তা নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

 

 

 

 

ছোলার দাম আবার কমবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস না দিয়ে তিনি বলেন, সবাই চান পণ্যের দাম কমুক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

 

 

 

এলসি খোলায় বাড়তি সুবিধার পরিকল্পনা নেই
আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন দেখছে না সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা কোথাও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লে সরকারকে জানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসির মার্জিন নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় বা সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংককে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সমস্যা সরকারের নজরে আসেনি।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

 

 

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশীয় বাজারে ডালের সরবরাহ নিয়ে এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

 

 

 

তবে আমদানি করা পণ্যের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর। এ দুটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।
 

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ রকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম উৎসবাজারের ওপর নির্ভর করে।

একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে। আগামী কয়েক মাসে বিশ্ব পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

 

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও ভোক্তা সবাই চান পণ্যের দাম যতটা সম্ভব কম থাকুক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় হোক। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহনব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েক মাস পরের দাম সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

 

 

 

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো আকস্মিক পরিস্থিতিতে যেন বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত বুকিং ও পাইপলাইনে পণ্যের মজুত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।.

 

 

 

 

তিনি বলেন, রমজান পর্যন্ত সব পণ্যের বুকিং এখনই নিশ্চিত করার জন্য বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা যায় না। এটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলের বিষয়। কারণ, এখন যে দামে পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে সেই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য লোকসানের কারণ হতে পারে।

 

 

 

 

এ ছাড়া পণ্য কেনার বুকিং দেওয়া গেলেও জাহাজে পণ্য ওঠানোর সময় পরিবহনভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে পণ্যের চূড়ান্ত আমদানি ব্যয় নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর।

 

 

 

ছোলার দাম নিয়ে আলোচনা
বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে কী করা যায়, তা নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

 

 

 

 

ছোলার দাম আবার কমবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস না দিয়ে তিনি বলেন, সবাই চান পণ্যের দাম কমুক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

 

 

 

এলসি খোলায় বাড়তি সুবিধার পরিকল্পনা নেই
আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন দেখছে না সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা কোথাও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লে সরকারকে জানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসির মার্জিন নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় বা সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংককে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সমস্যা সরকারের নজরে আসেনি।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ