সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মিশে ফুলজোড় নদীর বাস্তুতন্ত্র ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে পানি দূষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দাবি আদায়ে স্থানীয়রা আন্দোলন জোরদার করেছেন। দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে দূষণকারী কারখানার উদ্দেশ্যে লং মার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জার্মান বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ফয়সল বিশ্বাস, সাংবাদিক দিপক কুমার কর, এনজিও কর্মী রত্না রানী, যুবদল নেতা শামীম খন্দকার, শিপার আল হাসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ছোনকা এলাকায় অবস্থিত এসআর কেমিক্যাল নামে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পাইপলাইনের মাধ্যমে বিষাক্ত বর্জ্য ফুলজোড় নদীতে ফেলছে। এর ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত মাছ মরে ভেসে উঠছে।
স্থানীয়রা জানান, গত চার দিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থানে মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এসব মাছ সংগ্রহ করতে নদীর দুই পাড়ে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বক্তারা বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও শামুকসহ জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা দ্রুত বিষাক্ত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ, দূষণের উৎস তদন্ত এবং ফুলজোড় নদীকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















