সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) দুই শিশুকে বিড়ি কিনে আনার জন্য ৩০ টাকা দেন। পরে শিশুরা স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২৫ টাকার বিড়ি ও ৫ টাকার ফুচকা কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছালে হযরত আলী শিশুদের ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি সাত বছর বয়সী শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে তার পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে দুই শিশুকে ২০ টাকা করে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন।
শিশুটি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার মাকে জানালে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির মা রায়গঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জেনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি থানার নজরে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামারখন্দে ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ: নেই লাশ বের করার রাস্তাও

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কালিবাড়ি পলাশডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একই গ্রামের আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা আব্দুল মজিদের কাছ থেকেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় চলাচলের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সম্প্রতি সেই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকাটির প্রায় ৩০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তারা একটি সংকীর্ণ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। তবে সেই পথ এতটাই সরু যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কষ্টসাধ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিকল্প পথের সীমানা ঘেঁষেও ঘর নির্মাণ করায় চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা বের করার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি খাস শ্রেণিভুক্ত।

 

অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। চলাচলের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ মারা গেলে লাশ বের করার মতো রাস্তাও রাখা হয়নি। যে বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছি, সেখানে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েও চলাচল করা কঠিন। কিছু বলতে গেলে আব্দুল মজিদের ছেলে ও ভাতিজারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়।”

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে রাস্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক মাসে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে সাজেদা বেগম!

এক মাস পার হতে না-হতেই আবারো আলোচনায় সাজেদা বেগম। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই নারী।
আজ সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজারে এক মাসের ব্যবধানে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে ওঠেন সাজেদা বেগম। তিনি ওই গ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজেদা বেগম এর আগেও একইভাবে ওই গাছের মগডালে উঠেছিলেন। গত মাসের ৬ মে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের একটি তেঁতুল গাছের মগডালে তাঁর দেখা পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তবে মাস পেরোতেই আবারও সেই একই রকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবার এবং স্থানীয়রা ওই নারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। এরপর সাজেদা বেগম স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে না নেমে পাশে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দেন।
একই ঘটনা দেখে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কেউ কেউ এটাকে মানসিক সমস্যা, আবার কেউ কেউ জ্বীন-ভূতের আছর বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাঈদ ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, এর আগে গত ৬ মে সে একইভাবে তেঁতুল গাছের উপরে ওঠে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জানালে তারা এসে উদ্ধার করেন। গত মাসের মতো আজ সকালেও সে নিখোঁজ ছিল। আমরা অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে গাছের উপর দেখতে পাই। পরে বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ভিড় শুরু হয়। সবার বলাবলির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী গাছ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেয়। আমরা তাকে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে আসল সমস্যা চিহ্নিত করব এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেব, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

 

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় মামলা নথিভুক্তের দাবিতে লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত আফাজ উদ্দিন (৬২) উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিতে থাকা গাছের পাতা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছের পাতা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ৩ জুন প্রতিপক্ষের ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আফাজ উদ্দিনের পরিবার। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন ভোররাতে অভিযুক্তরা আফাজ উদ্দিনের শয়নকক্ষে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও পুলিশ তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেনি। এ কারণে সোমবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফাজ উদ্দিনের মরদেহ থানার সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভকারীরা মামলা নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সোমবার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আগে অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের এক পরিচালকসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২ জন, কিশোর গ্যাংয়ের পরিচালক হিসেবে ১ জন এবং ধর্তব্য অপরাধ নিবারণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হিলিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুরে দীর্ঘ ১৪ বছর পলাতক থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি মোঃ জামাল হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হাকিমপুর উপজেলার মধ্যবাসুদেবপুর এলাকার মৃত রফিক হোসেনের ছেলে।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় একটি মাদক মামলা (নং-২৭) দায়ের করা হয়। বিচার শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
ওসি জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে জামাল হোসেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকায় তার বোনের বাড়িতে লুকিয়ে আছেন। পরবর্তীতে পুলিশি কৌশলে তাকে হাকিমপুরের বাসুদেবপুর চুড়িপট্টি এলাকায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবারই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নাচোলে নবনিযুক্ত ইউএনও’র সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাশের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাচোল উপজেলা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ।
​সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনও-কে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।  প্রিয়াঙ্কা দাস গত ০৭ জুন ২০২৬ ইং তারিখে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন।
​সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন নাচোল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর প্রভাষক ইয়াকুব আলী, পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন, পৌর সহ-সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান।
​সাক্ষাৎ কালে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াঙ্কা দাশ নাচোলের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর দৃঢ় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে দেশের প্রশাসনিক সেবায় নিয়োজিত প্রিয়াঙ্কা দাশের নিজ জেলা নওগাঁ।
তিনি নাচোল উপজেলাকে একটি আদর্শ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি উপজেলার সুধী সমাজ, সচেতন মহল, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।
​অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাচোল উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনও-কে সব ধরনের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, নাচোল উপজেলাকে একটি সুন্দর, শান্ত ও মাদকমুক্ত পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের যেকোনো ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

৫ বছর বয়সী শিশুকে যৌন হয়রানি: রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঞ্জু (৩৩) নামে এক রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ সোমবার সকাল দশটায় এ ঘটনা ঘটে।​ অভিযুক্ত মঞ্জু স্থানীয় ‘আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে’ কর্মরত ছিলেন। তিনি গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ এলাকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। তবে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জে।
​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে নিজ বাসার পাশের একটি নলকূপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুটি। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু পানি খাওয়ার অজুহাতে শিশুটির কাছে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। শিশুটির মা বিষয়টি দেখে ফেলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
​তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মঞ্জু দাবি করেন, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ভবেরচর ঈদগাহ এলাকার আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। সোমবার সকালে ডিউটি শেষে তিনি নয়াকান্দি গ্রামে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নলকূপের পাশে শিশুটিকে একা পেয়ে নাম জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয়রা তাকে মারধর শুরু করে। তিনি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
​গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং স্থানীয়দের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

নেহারী-হালিম বিক্রির আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা!

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল বাজারের বিখ্যাত নেহারি-হালিম ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পৃথক অভিযানে দুই ভাইকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে মো. শাহিন প্রামানিক গত ৭ মে ২০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এর এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে গত ৬ জুন তার আপন ভাই মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে
পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে জামতৈল বাজারে নেহারি-হালিমের ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির নানা অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক দুটি অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এলাকাবাসী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ব্যবসার আড়ালে মাদক বেচাকেনা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, “পৃথক দুটি অভিযানে দুই ভাইকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানা পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কোমরে ৩টি বিদেশী পিস্তল নিয়ে ঘুরছিলেন যুবক !

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মো. রাহিম (২১) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে স্থাপিত একটি পুলিশ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক রাহিম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ভূইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দ্রুতগতিতে আসা এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে রাখা অবস্থায় ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবীবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্দেহজনক আচরণের কারণে ওই যুবককে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার

দিনাজপুরের বিরামপুরে থানা ও পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই জন নারী ও তিনজন পুরুষসহ পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আইনী প্রক্রিয়া শেষে আজ গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
শনিবার বিকেল থেকে রবিবার মধ্যে রাত পর্যন্ত বিরামপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন বিরামপুর থানার রনগাঁও এলাকার নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী নারগিস বানু(৩৯),তৈয়বপুর (জোলাগাড়ী) এলাকার একরামুল হকের ছেলে রাসেল মিয়া (২৮) ও পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ড বিছকিনি এলাকার লুৎফর রহমানের মেয়ে মোছাঃ নুরবানু (৩৯), ছেলে রায়হান কবির (২২) ও একই এলাকার মৃত আবেদ আলীর ছেলে এ আর আরাফাত (৩৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিনি জানান, দীর্ঘ দিন থেকে গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল থানা ও পৌর শহরের এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রি”র সামনে পাকা রাস্তা, জনৈক নুরবানুর মুদি দোকান ও চকপাড়া মা ট্রেডার্সের সামনে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা সহ আসামীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রবিবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

বাড়ি থেকে বের হলেই  কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে  দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি  এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।

 

 

শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।

 

 

শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

 

 

কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।

 

 

 

মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।

 

 

তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।

 

মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।

 

স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।

 

ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে  তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।

 

 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মোঃ মোকারম হোসেন (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।
আজ রবিবার (৭ জুন) বৈকাল ৩ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প, এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আট বছরের একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করায় শিশুটি গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে থাকত। প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদা আসামি মোঃ মোকারম হোসেন প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করত। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোকারম।
পরবর্তীতে গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকায় শিশুটি ঘাস কাটার জন্য বাড়ির বাইরে বের হলে, আসামি মোকারম তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে দাদি ও চাচাকে বিষয়টি জানালে, তার চাচা মোঃ রাব্বিল আলামিন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
​ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে চতুরতার সাথে আত্মগোপনে চলে যায় আসামি মোকারম। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল তার অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
র‌্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ৭ জুন রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পার্বতীপুর থানাধীন কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চিরিরবন্দরের চকমুসা গ্রামের মৃত হাছির উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মোঃ মোকারম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
​র‌্যাব জানায়, শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. আনারুল ইসলাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কামারখন্দ থানা সূত্রে জানা যায়, গত (৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কামারখন্দ থানা পুলিশ। এসময় উপজেলার পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশের সড়ক থেকে মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগৈলঝাড়ায় মৎস্য অভয়াশ্রমে ২৬৮ কেজি দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া খালের কোদালধোয়া মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (০৭-০৬-২০২৬) সকালে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভয়াশ্রমে মোট ২৬৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি টেংরা, ১০০ কেজি গুলশা এবং ৬৮ কেজি শিং মাছের পোনা।

 

 

 

পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক।

 

 

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত কুমার সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোমসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

 

উপস্থিত অতিথিরা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

কামারখন্দে সারের অতিরিক্ত দাম রাখায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল চালা বাজার এলাকায় সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় একই এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের দায়ে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

সেনবাগে বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি ধারায় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ২ জন এবং ৫৪ ধারায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আরও একজন জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

One thought on “রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) দুই শিশুকে বিড়ি কিনে আনার জন্য ৩০ টাকা দেন। পরে শিশুরা স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২৫ টাকার বিড়ি ও ৫ টাকার ফুচকা কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছালে হযরত আলী শিশুদের ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি সাত বছর বয়সী শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে তার পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে দুই শিশুকে ২০ টাকা করে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন।
শিশুটি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার মাকে জানালে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির মা রায়গঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জেনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি থানার নজরে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামারখন্দে ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ: নেই লাশ বের করার রাস্তাও

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কালিবাড়ি পলাশডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একই গ্রামের আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা আব্দুল মজিদের কাছ থেকেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় চলাচলের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সম্প্রতি সেই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকাটির প্রায় ৩০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তারা একটি সংকীর্ণ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। তবে সেই পথ এতটাই সরু যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কষ্টসাধ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিকল্প পথের সীমানা ঘেঁষেও ঘর নির্মাণ করায় চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা বের করার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি খাস শ্রেণিভুক্ত।

 

অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। চলাচলের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ মারা গেলে লাশ বের করার মতো রাস্তাও রাখা হয়নি। যে বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছি, সেখানে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েও চলাচল করা কঠিন। কিছু বলতে গেলে আব্দুল মজিদের ছেলে ও ভাতিজারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়।”

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে রাস্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক মাসে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে সাজেদা বেগম!

এক মাস পার হতে না-হতেই আবারো আলোচনায় সাজেদা বেগম। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই নারী।
আজ সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজারে এক মাসের ব্যবধানে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে ওঠেন সাজেদা বেগম। তিনি ওই গ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজেদা বেগম এর আগেও একইভাবে ওই গাছের মগডালে উঠেছিলেন। গত মাসের ৬ মে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের একটি তেঁতুল গাছের মগডালে তাঁর দেখা পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তবে মাস পেরোতেই আবারও সেই একই রকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবার এবং স্থানীয়রা ওই নারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। এরপর সাজেদা বেগম স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে না নেমে পাশে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দেন।
একই ঘটনা দেখে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কেউ কেউ এটাকে মানসিক সমস্যা, আবার কেউ কেউ জ্বীন-ভূতের আছর বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাঈদ ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, এর আগে গত ৬ মে সে একইভাবে তেঁতুল গাছের উপরে ওঠে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জানালে তারা এসে উদ্ধার করেন। গত মাসের মতো আজ সকালেও সে নিখোঁজ ছিল। আমরা অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে গাছের উপর দেখতে পাই। পরে বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ভিড় শুরু হয়। সবার বলাবলির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী গাছ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেয়। আমরা তাকে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে আসল সমস্যা চিহ্নিত করব এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেব, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

 

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় মামলা নথিভুক্তের দাবিতে লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত আফাজ উদ্দিন (৬২) উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিতে থাকা গাছের পাতা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছের পাতা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ৩ জুন প্রতিপক্ষের ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আফাজ উদ্দিনের পরিবার। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন ভোররাতে অভিযুক্তরা আফাজ উদ্দিনের শয়নকক্ষে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও পুলিশ তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেনি। এ কারণে সোমবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফাজ উদ্দিনের মরদেহ থানার সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভকারীরা মামলা নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সোমবার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আগে অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের এক পরিচালকসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২ জন, কিশোর গ্যাংয়ের পরিচালক হিসেবে ১ জন এবং ধর্তব্য অপরাধ নিবারণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হিলিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুরে দীর্ঘ ১৪ বছর পলাতক থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি মোঃ জামাল হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হাকিমপুর উপজেলার মধ্যবাসুদেবপুর এলাকার মৃত রফিক হোসেনের ছেলে।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় একটি মাদক মামলা (নং-২৭) দায়ের করা হয়। বিচার শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
ওসি জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে জামাল হোসেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকায় তার বোনের বাড়িতে লুকিয়ে আছেন। পরবর্তীতে পুলিশি কৌশলে তাকে হাকিমপুরের বাসুদেবপুর চুড়িপট্টি এলাকায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবারই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নাচোলে নবনিযুক্ত ইউএনও’র সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাশের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাচোল উপজেলা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ।
​সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনও-কে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।  প্রিয়াঙ্কা দাস গত ০৭ জুন ২০২৬ ইং তারিখে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন।
​সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন নাচোল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর প্রভাষক ইয়াকুব আলী, পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন, পৌর সহ-সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান।
​সাক্ষাৎ কালে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াঙ্কা দাশ নাচোলের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর দৃঢ় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে দেশের প্রশাসনিক সেবায় নিয়োজিত প্রিয়াঙ্কা দাশের নিজ জেলা নওগাঁ।
তিনি নাচোল উপজেলাকে একটি আদর্শ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি উপজেলার সুধী সমাজ, সচেতন মহল, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।
​অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাচোল উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনও-কে সব ধরনের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, নাচোল উপজেলাকে একটি সুন্দর, শান্ত ও মাদকমুক্ত পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের যেকোনো ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

৫ বছর বয়সী শিশুকে যৌন হয়রানি: রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঞ্জু (৩৩) নামে এক রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ সোমবার সকাল দশটায় এ ঘটনা ঘটে।​ অভিযুক্ত মঞ্জু স্থানীয় ‘আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে’ কর্মরত ছিলেন। তিনি গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ এলাকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। তবে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জে।
​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে নিজ বাসার পাশের একটি নলকূপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুটি। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু পানি খাওয়ার অজুহাতে শিশুটির কাছে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। শিশুটির মা বিষয়টি দেখে ফেলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
​তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মঞ্জু দাবি করেন, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ভবেরচর ঈদগাহ এলাকার আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। সোমবার সকালে ডিউটি শেষে তিনি নয়াকান্দি গ্রামে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নলকূপের পাশে শিশুটিকে একা পেয়ে নাম জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয়রা তাকে মারধর শুরু করে। তিনি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
​গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং স্থানীয়দের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

নেহারী-হালিম বিক্রির আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা!

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল বাজারের বিখ্যাত নেহারি-হালিম ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পৃথক অভিযানে দুই ভাইকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে মো. শাহিন প্রামানিক গত ৭ মে ২০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এর এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে গত ৬ জুন তার আপন ভাই মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে
পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে জামতৈল বাজারে নেহারি-হালিমের ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির নানা অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক দুটি অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এলাকাবাসী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ব্যবসার আড়ালে মাদক বেচাকেনা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, “পৃথক দুটি অভিযানে দুই ভাইকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানা পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কোমরে ৩টি বিদেশী পিস্তল নিয়ে ঘুরছিলেন যুবক !

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মো. রাহিম (২১) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে স্থাপিত একটি পুলিশ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক রাহিম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ভূইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দ্রুতগতিতে আসা এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে রাখা অবস্থায় ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবীবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্দেহজনক আচরণের কারণে ওই যুবককে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার

দিনাজপুরের বিরামপুরে থানা ও পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই জন নারী ও তিনজন পুরুষসহ পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আইনী প্রক্রিয়া শেষে আজ গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
শনিবার বিকেল থেকে রবিবার মধ্যে রাত পর্যন্ত বিরামপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন বিরামপুর থানার রনগাঁও এলাকার নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী নারগিস বানু(৩৯),তৈয়বপুর (জোলাগাড়ী) এলাকার একরামুল হকের ছেলে রাসেল মিয়া (২৮) ও পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ড বিছকিনি এলাকার লুৎফর রহমানের মেয়ে মোছাঃ নুরবানু (৩৯), ছেলে রায়হান কবির (২২) ও একই এলাকার মৃত আবেদ আলীর ছেলে এ আর আরাফাত (৩৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিনি জানান, দীর্ঘ দিন থেকে গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল থানা ও পৌর শহরের এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রি”র সামনে পাকা রাস্তা, জনৈক নুরবানুর মুদি দোকান ও চকপাড়া মা ট্রেডার্সের সামনে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা সহ আসামীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রবিবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

বাড়ি থেকে বের হলেই  কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে  দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি  এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।

 

 

শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।

 

 

শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

 

 

কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।

 

 

 

মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।

 

 

তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।

 

মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।

 

স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।

 

ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে  তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।

 

 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মোঃ মোকারম হোসেন (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।
আজ রবিবার (৭ জুন) বৈকাল ৩ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প, এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আট বছরের একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করায় শিশুটি গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে থাকত। প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদা আসামি মোঃ মোকারম হোসেন প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করত। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোকারম।
পরবর্তীতে গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকায় শিশুটি ঘাস কাটার জন্য বাড়ির বাইরে বের হলে, আসামি মোকারম তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে দাদি ও চাচাকে বিষয়টি জানালে, তার চাচা মোঃ রাব্বিল আলামিন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
​ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে চতুরতার সাথে আত্মগোপনে চলে যায় আসামি মোকারম। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল তার অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
র‌্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ৭ জুন রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পার্বতীপুর থানাধীন কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চিরিরবন্দরের চকমুসা গ্রামের মৃত হাছির উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মোঃ মোকারম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
​র‌্যাব জানায়, শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. আনারুল ইসলাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কামারখন্দ থানা সূত্রে জানা যায়, গত (৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কামারখন্দ থানা পুলিশ। এসময় উপজেলার পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশের সড়ক থেকে মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগৈলঝাড়ায় মৎস্য অভয়াশ্রমে ২৬৮ কেজি দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া খালের কোদালধোয়া মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (০৭-০৬-২০২৬) সকালে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভয়াশ্রমে মোট ২৬৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি টেংরা, ১০০ কেজি গুলশা এবং ৬৮ কেজি শিং মাছের পোনা।

 

 

 

পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক।

 

 

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত কুমার সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোমসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

 

উপস্থিত অতিথিরা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

কামারখন্দে সারের অতিরিক্ত দাম রাখায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল চালা বাজার এলাকায় সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় একই এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের দায়ে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

সেনবাগে বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি ধারায় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ২ জন এবং ৫৪ ধারায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আরও একজন জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।