সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

বাড়ি থেকে বের হলেই  কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে  দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি  এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।

 

 

শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।

 

 

শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

 

 

কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।

 

 

 

মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।

 

 

তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।

 

মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।

 

স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।

 

ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে  তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।

 

 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মোঃ মোকারম হোসেন (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।
আজ রবিবার (৭ জুন) বৈকাল ৩ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প, এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আট বছরের একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করায় শিশুটি গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে থাকত। প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদা আসামি মোঃ মোকারম হোসেন প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করত। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোকারম।
পরবর্তীতে গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকায় শিশুটি ঘাস কাটার জন্য বাড়ির বাইরে বের হলে, আসামি মোকারম তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে দাদি ও চাচাকে বিষয়টি জানালে, তার চাচা মোঃ রাব্বিল আলামিন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
​ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে চতুরতার সাথে আত্মগোপনে চলে যায় আসামি মোকারম। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল তার অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
র‌্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ৭ জুন রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পার্বতীপুর থানাধীন কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চিরিরবন্দরের চকমুসা গ্রামের মৃত হাছির উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মোঃ মোকারম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
​র‌্যাব জানায়, শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. আনারুল ইসলাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কামারখন্দ থানা সূত্রে জানা যায়, গত (৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কামারখন্দ থানা পুলিশ। এসময় উপজেলার পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশের সড়ক থেকে মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগৈলঝাড়ায় মৎস্য অভয়াশ্রমে ২৬৮ কেজি দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া খালের কোদালধোয়া মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (০৭-০৬-২০২৬) সকালে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভয়াশ্রমে মোট ২৬৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি টেংরা, ১০০ কেজি গুলশা এবং ৬৮ কেজি শিং মাছের পোনা।

 

 

 

পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক।

 

 

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত কুমার সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোমসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

 

উপস্থিত অতিথিরা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

কামারখন্দে সারের অতিরিক্ত দাম রাখায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল চালা বাজার এলাকায় সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় একই এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের দায়ে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

সেনবাগে বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি ধারায় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ২ জন এবং ৫৪ ধারায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আরও একজন জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

 

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা: ১৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে

মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে শেষ হলো রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

 

 

রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা হোক।’

 

 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। এ সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রামিসা বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় সোহেল।

চার্জশিট অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হাতও কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভাঙেন। কিন্তু তার আগেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। বাথরুমের একটি রঙের বালতিতে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা এবং খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশ গুম করতে ও স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না।

 

 

মামলা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা। তদন্তের শুরুতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।

 

 

প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

 

পাঁচ দিনে তদন্ত, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া

মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

অভিযোগ গঠন ও আসামিদের বক্তব্য

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। মূলত চার্জগঠন শুনানি করতে আসামিদের হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিল করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ায় চার্জ শুনানি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আসামিদের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে ফের তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আইনজীবী ও বিচারের জন্য আসা জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ফাঁসি চান।

 

 

আদালতে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সোহেল। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিই শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তার বাড়ি মিরপুরে। তিনি অনেক টাকাওয়ালা। এ সময় নিজেকেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সোহেল। তিনি আদালতকে বলেন, আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।

 

 

সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্বীকারোক্তি

৩ জুন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সোহেল রানাকে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। এ সময় সোহেল আদালতের উদ্দেশে বলেন, স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানির আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। প্রথমে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এ ছাড়া সোহেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। সোহেল তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাড়ির তিন তলায় ৩টি ফ্ল্যাটে ৩টি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।

 

 

সোহেল আরও বলেন, পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তাকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।

 

 

স্বপ্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, যখন তার স্বামী সোহেল ধর্ষণ ও হত্যা করেন, তিনি বাধা দিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মানুষজন ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খোলেননি। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ও তার স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি চাইলে ধর্ষণে বাধা দিতে পারতেন। অথবা অন্তত হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারার পাশাপাশি ৩০ ধারায় ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আসামিরা যে বাসায় বসবাস করে, রামিসার মরদেহ ওই একই বাসায় পাওয়া যায়। আসামি সোহেল রানাকে সেই বাসা থেকে পালাতে ও স্বপ্নাকে ঘটনাস্থলে হাঁটতে দেখা যায়, যার চাক্ষুষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই।

 

 

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও পর্যালোচনা

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। রোববার মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেন আদালত।

 

 

আদালত এ রায়ের পর্যালোচনায় বলেন, আসামির জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামি সোহেল রানা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী।

 

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

 

 

পর্যবেক্ষণে তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, নারী এ শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আটশ (১৮০০+) বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, বিজ্ঞ প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সবার এই আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। আদালত এটাও প্রত্যাশা করে যে, শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই এই আদালতের প্রত্যাশা।

 

 

একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীগণ এবং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করছে।

 

 

১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার চর মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশাদুল ওরফে আছাই (৩২) ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চর মিলপাড়া এলাকার মিশনারি স্কুলের একটি কক্ষে ওই শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আশাদুল। এ সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাতেনাতে অভিযুক্ত আছাইকে ধরে ফেলে। পরে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এদিকে ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গণধোলাইয়ের শিকার অভিযুক্ত আছাইকেও একই হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জে রায়হান শেখ নামে এক ছাত্রদল নেতাকে মারপিট করার উঠেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক ও বহিষ্কৃত শিবির নেতা মুনতাসির মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।

 

 

 

গত ২ জুন শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে রিক্সা থামিয়ে রায়হান শেখ কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।

 

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায় রায়হান শেখ বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির পাশাপাশি ইউনিলিভার লিঃ এস.আর পদে চাকরি করি। ২ জুন অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও বর্তমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান ও তাজ নামে যুবক পুরাতন পোষ্ট অফিস রোড আমার রিকশা থামিয়ে পথরোধ করে ১০/১২ জন রড, স্টীক, হকিস্টিক, পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। পরে জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলীম ভাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

 

 

 

পরে জানতে পারি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক জুয়েল রানা আগেই বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান সাথে বৈঠক করে লোকবল গুছিয়ে রেখেছিলো। জুয়েল রানার নেতৃত্বেই আমার ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা হয়।

 

 

 

 

তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার ফেসবুক একাউন্টে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক চাঁদাবাজি করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে এমন পোস্ট দেই। এ কারণেই কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল ও তাজ নামের এক যুবককে সাথে নিয়ে মুনতাসির মেহেদী হাসান আমাকে মারধোর করে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

 

 

 

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক আবির ইসলাম চাঁদ, মুন্সি ইউসুফ কামাল রিচার্ড, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের হোসেন সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম ও সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ছাত্রদল নেতা রায়হান শেখ এর উপর হামলার ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

 

 

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুরে জংশনের দাবী

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথকে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর জংশনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন”-এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

 

মারুফ বন্ধনে বক্তারা বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ ছিল রেলের শহর। এই শহরে ছিল চারটি রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহরকে রেল শূণ্য করার পায়তারা চলছে। সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেলপথ ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। সেই দাবি আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ শহরকে বাদ দিয়ে এই রেল পথ নির্মাণ হচ্ছে।

 

 

 

বক্তারা রায়পুর জংশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলা এবং নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর জংশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানান।

 

 

 

আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ধানগড়া বাগানবাড়ি এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ইউনিভার্স একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুসাইন হাসান সিফাতকে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পথচারী এক ভ্যানচালক শিশুটিকে নিরাপদে তার বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়। অনেকেই শিশুদের একা চলাচল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সচেতন মহল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বা ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।

ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

 

নওগাঁয় হাবিবুজ্জামান জিয়া নামের এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে পুকুর দখলে নেওয়ারও অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযোগ ওঠা হাবিবুজ্জামান জিয়া নওগাঁ শহরের পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি গত ২০২৪সালের ২০আগষ্ট শহরের লোভনীয় ওই ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

 

 

অভিযোগ উঠেছে তিনি যখন যে ভূমি অফিসে কর্মরত থাকেন সেখানেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলেই তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এমনকি তিনি ভুয়া খতিয়ান দিয়েও করে দেন জমির খারিজ। আর এভাবেই কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। কিনেছেন ফ্লাটও।

 

 

একজন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের মনে।

 

 

সম্প্রতি খাদেমুল ইসলাম ও একটা মাদরাসার জমি খারিজ করতে ১০লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং ঘুষ নেওয়া এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। এরপর গত মে মাসে একাধিক শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়। তবে নিউজ প্রকাশের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি বিভাগীয় ব্যবস্থা।

 

 

জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজির মোড়ে অবস্থিত “ডক্টর হাইটস” নামের দশ তলা বিল্ডিংয়ে ৬১লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট কিনেছেন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া। এর আগে গত ২০২১সালে হাবিবুজ্জামান ও তার বোনের যৌথ নামে শহরের চকদেব মৌজায় ৬৭৫দাগে ৩শতক জমি কেনা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এছাড়া চাকরির পর তার গ্রামের বাড়ি নারচি ও পুটিমারি মৌজায় জিয়া ৬-৭বিঘা জমি কিনেছে। আবার নামে ও বেনামে আরও কোটি টাকার সম্পদ থাকতে পারে বলেও জানান স্থানীয় নারী-পুরুষ।

 

 

এদিকে এর আগে হাবিবুজ্জামান সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপসহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন একটি ভুয়া খতিয়ান দিয়ে খারিজ অনুমোদন করে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসার পরও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার কারণে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

 

 

ফ্লাট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিল্ডিংয়ে দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, এই ভবনের একটি ফ্লাটের দাম ৬১ থেকে ৬২লাখ টাকা। সব বিক্রি হয়ে গেছে। এই ভবনের ৬তলায় দুই মাস আগে একটি ফøাট কিনেছে তহশিলদার জিয়া। এখন তার পরিবার সেখানে থাকছে।

 

 

“ডক্টর হাইটস” নামক আরেক বিল্ডিংয়ের সাবু নামের এক কেয়ারটেকার জানান- দুই মাস আগে টিডিআর জিয়াকে আমি ৬১লাখ টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনে দিয়েছি।

 

 

পুকুর দখলের বিষয়ে নারচি গ্রামের ভুক্তোভোগী মোস্তফা বলেন, আমাদের শরিকানা পুকুর দখল করে নিয়েছে জিয়া। ওই পুকুরটার ১৩ভাগের মধ্যে জিয়ার এক ভাগ ছিল। পরে সে একাই মালিকানা দাবী করে। লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে। আমার মাথা ফেটে দিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা করে।

 

 

ভুক্তোভোগী মোস্তফার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, টিডিআর হওয়ার কারণে বর্তমানে এই গ্রামের মধ্যে জিয়া বহু টাকার মালিক বনে গেছে। অন্যায় ভাবে আমাদের পুকুর দখল করে নিয়েছে। পাশেই আরও একটি পুকুরের অংশ কিনে সেখানেও গন্ডগোল বাঁধিয়ে ওই পুকুরেও কাউকে নামতে দেয়না।

 

 

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ওই পুকুরের রেকর্ড ভুল হয়ে ৭২সালে এসে জিয়ার দাদা সায়েদ আলী ফকিরসহ তিন জন মালিক হয়। তারা নাকি রাজার কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। এই মূলেই জিয়া দখল করেছে। জিয়ার বাবারা অনেক ভাই-বোন। তাদের প্রায় ৪০-৪৫বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ৬-৭ বিঘা করে ভাগ পাবে জিয়ার বাবা। জিয়ারা আবার তিন ভাই-বোন। তবে জিয়া চাকরির পর অনেক জমি করেছে, অর্থ হয়েছে।

 

 

স্থানীয় এক নারী আরেকটি পুকুর দেখিয়ে জানালেন- এখানে জিয়া প্রায় ২বিঘা জমি কিনেছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানালানে জিয়া একসময় অন্যের সহযোগীতা নিয়ে তার চিকিৎসা করেছেন। ২০১১সালে চাকরি হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। এখন কালো টাকা সাদা করতে যোগ দিয়েছেন একাধিক পুকুরের ব্যবসায়।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে পরে কথা বলতে চাইলেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর পরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

 

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি বলে জানালেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন।

 

 

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ নলছিয়া এলাকার ফুলজোর নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফুলজোর নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি সলঙ্গা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, “স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানলে সলঙ্গা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুক লাইভে এসে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ফেসবুক লাইভে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৬ জুন) বিকালে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ সেলিম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মিছিলটি প্রচার করা হয়। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতাকর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এসময় তারা“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

ফেসবুক লাইভে প্রচারিত মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শত শত ড্রেজার, কাটার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরঅঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ০.৪৯ টাকা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তবে রযেল মাঝির ইনভেস্টর হলেন সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকায় অবস্থানরত পেশাদার সুদের ব্যবসায়ী এবং শেয়ার মার্কেটের জুয়াড়ি ফরিদ আহমেদ মাল।

 

 

 

নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্তূপের বালুর পরিবর্তে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানছে। ফলে নদীর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে নৌপথে ঘুরে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার চারাত্রায় বালুর স্তূপের নিচে ও স্তূপের আগ থেকেই প্রায় প্রায় ৫০-৬০ টি কাটার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদ্মার ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী জনপদ। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ নদীভাঙনে নড়িয়ায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙনের হাত থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদীপথে চর খননের কাজও করা হয়। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে ফেলা হয়েছে ১১ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ। এ কাজে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বলেন, নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে আমরা আর এখানে টিকে থাকতে পারব না। ফসলি জমিতে ধান চাষ করা যাবে না, কৃষিকাজও হুমকির মুখে পড়বে। বালুর স্তুপ অপসারণের নামে তারা আসলে নদীর তলদেশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি এবং সুদের ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি ফরিদ মাল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি বলেন, আমরা নিলামের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছি। মাঝখানে প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনেই বালুর স্তূপ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

আর ফরিদ আহমেদ মাল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেইনি। এসব অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

 

 

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য উপজেলা তিনটি দপ্তর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আমাদের রিপোর্ট দিবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপন গ্রহন করবো।

 

 

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান, পরিমাপ সঠিক আছে কি-না তা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই বদ্ধ পরিকর। ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রত্যেকটা পণ্যের উচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।

 

 

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বরত এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর সংস্থার গ্রধানগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন এবং সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআই-কে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। জনগণ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক মনে করে।

 

 

শিল্প সচিব বলেন, মানুষের আস্থার জায়গায় বিএসটিআই পৌছাতে পেরেছে। বিএসটিআই’র ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুলনা ও চট্রগ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন ও ল্যাবরেটরি নির্মান, ১০ জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোতেও করা হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- দেশের ১১টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরিসহ আঞ্চলিক ভবন নির্মাণ, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আরও ৪২টি জেলায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ে নতুন ১৩ তলা ভবনসহ রসায়ন ও পদার্থ উইংয়ে ৬৭টি অত্যাধুনিক ল্যাব এবং ২১টি মেট্রোলজি ল্যাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হালাল পণ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কাথাও তুলে ধরেণ বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব)। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিএসটিআই বাসস্থান, খাদ্যপণ্যসহ সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মান প্রণয়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন ) উপজেলার কৃষকগঞ্জ বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। উল্লাপাড়ার টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া টেরিটোরির বেলকুচি উপজেলার কান্দাপাড়া বাজারের ডিলার মো: রইচ উদ্দিন, উল্লাপাড়া টেরিটোরির সেলস অফিসার মধুসূদন কুমার মন্ডল প্রমুখ।

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। আরও বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

উঠানের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগল হত্যা, প্রতিবাদে গৃহবধূ নিহত

আশুলিয়ার তাজপুরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপবান বেগমের মৃত্যু হয়।

 

 

 

নিহত রূপবান বেগম (৪৫) নামে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা ও জয়নাল সরকারের স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি আলিয়া সরকার একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবান বেগমের একটি ছাগল আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলটিকেই কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে রূপবান বেগমের সঙ্গে আলিয়া সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবানের পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

 

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

 

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জীবিত থাকাকালে তার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আলিয়া সরকারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়া হয়। পরে রূপবান বেগমের মৃত্যুর হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

4 thoughts on “বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

আপডেট টাইম : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বাড়ি থেকে বের হলেই  কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে  দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি  এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।

 

 

শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।

 

 

শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

 

 

কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।

 

 

 

মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।

 

 

তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।

 

মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।

 

স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।

 

ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে  তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।

 

 

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মোঃ মোকারম হোসেন (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।
আজ রবিবার (৭ জুন) বৈকাল ৩ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প, এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আট বছরের একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করায় শিশুটি গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে থাকত। প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদা আসামি মোঃ মোকারম হোসেন প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করত। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোকারম।
পরবর্তীতে গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকায় শিশুটি ঘাস কাটার জন্য বাড়ির বাইরে বের হলে, আসামি মোকারম তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে দাদি ও চাচাকে বিষয়টি জানালে, তার চাচা মোঃ রাব্বিল আলামিন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
​ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে চতুরতার সাথে আত্মগোপনে চলে যায় আসামি মোকারম। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল তার অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
র‌্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ৭ জুন রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকায় র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পার্বতীপুর থানাধীন কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চিরিরবন্দরের চকমুসা গ্রামের মৃত হাছির উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মোঃ মোকারম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
​র‌্যাব জানায়, শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কামারখন্দে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. আনারুল ইসলাম (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কামারখন্দ থানা সূত্রে জানা যায়, গত (৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কামারখন্দ থানা পুলিশ। এসময় উপজেলার পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশের সড়ক থেকে মো. আনারুল ইসলামকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আনারুল ইসলাম উপজেলার জামতৈল মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগৈলঝাড়ায় মৎস্য অভয়াশ্রমে ২৬৮ কেজি দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া খালের কোদালধোয়া মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (০৭-০৬-২০২৬) সকালে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভয়াশ্রমে মোট ২৬৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি টেংরা, ১০০ কেজি গুলশা এবং ৬৮ কেজি শিং মাছের পোনা।

 

 

 

পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক।

 

 

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত কুমার সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোমসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

 

উপস্থিত অতিথিরা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

কামারখন্দে সারের অতিরিক্ত দাম রাখায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল চালা বাজার এলাকায় সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় একই এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের দায়ে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।

 

 

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

সেনবাগে বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি ধারায় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ২ জন এবং ৫৪ ধারায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে আরও একজন জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

 

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা: ১৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে

মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে শেষ হলো রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

 

 

রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা হোক।’

 

 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। এ সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রামিসা বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় সোহেল।

চার্জশিট অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হাতও কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভাঙেন। কিন্তু তার আগেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। বাথরুমের একটি রঙের বালতিতে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা এবং খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশ গুম করতে ও স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না।

 

 

মামলা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা। তদন্তের শুরুতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।

 

 

প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

 

পাঁচ দিনে তদন্ত, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া

মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

অভিযোগ গঠন ও আসামিদের বক্তব্য

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। মূলত চার্জগঠন শুনানি করতে আসামিদের হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিল করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ায় চার্জ শুনানি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আসামিদের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে ফের তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আইনজীবী ও বিচারের জন্য আসা জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ফাঁসি চান।

 

 

আদালতে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সোহেল। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিই শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তার বাড়ি মিরপুরে। তিনি অনেক টাকাওয়ালা। এ সময় নিজেকেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সোহেল। তিনি আদালতকে বলেন, আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।

 

 

সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্বীকারোক্তি

৩ জুন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সোহেল রানাকে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। এ সময় সোহেল আদালতের উদ্দেশে বলেন, স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানির আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। প্রথমে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এ ছাড়া সোহেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। সোহেল তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাড়ির তিন তলায় ৩টি ফ্ল্যাটে ৩টি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।

 

 

সোহেল আরও বলেন, পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তাকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।

 

 

স্বপ্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, যখন তার স্বামী সোহেল ধর্ষণ ও হত্যা করেন, তিনি বাধা দিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মানুষজন ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খোলেননি। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ও তার স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি চাইলে ধর্ষণে বাধা দিতে পারতেন। অথবা অন্তত হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারার পাশাপাশি ৩০ ধারায় ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আসামিরা যে বাসায় বসবাস করে, রামিসার মরদেহ ওই একই বাসায় পাওয়া যায়। আসামি সোহেল রানাকে সেই বাসা থেকে পালাতে ও স্বপ্নাকে ঘটনাস্থলে হাঁটতে দেখা যায়, যার চাক্ষুষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই।

 

 

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও পর্যালোচনা

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। রোববার মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেন আদালত।

 

 

আদালত এ রায়ের পর্যালোচনায় বলেন, আসামির জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামি সোহেল রানা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী।

 

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

 

 

পর্যবেক্ষণে তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, নারী এ শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আটশ (১৮০০+) বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, বিজ্ঞ প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সবার এই আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। আদালত এটাও প্রত্যাশা করে যে, শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই এই আদালতের প্রত্যাশা।

 

 

একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীগণ এবং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করছে।

 

 

১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার চর মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশাদুল ওরফে আছাই (৩২) ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চর মিলপাড়া এলাকার মিশনারি স্কুলের একটি কক্ষে ওই শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আশাদুল। এ সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাতেনাতে অভিযুক্ত আছাইকে ধরে ফেলে। পরে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এদিকে ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গণধোলাইয়ের শিকার অভিযুক্ত আছাইকেও একই হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জে রায়হান শেখ নামে এক ছাত্রদল নেতাকে মারপিট করার উঠেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক ও বহিষ্কৃত শিবির নেতা মুনতাসির মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।

 

 

 

গত ২ জুন শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে রিক্সা থামিয়ে রায়হান শেখ কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।

 

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায় রায়হান শেখ বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির পাশাপাশি ইউনিলিভার লিঃ এস.আর পদে চাকরি করি। ২ জুন অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও বর্তমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান ও তাজ নামে যুবক পুরাতন পোষ্ট অফিস রোড আমার রিকশা থামিয়ে পথরোধ করে ১০/১২ জন রড, স্টীক, হকিস্টিক, পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। পরে জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলীম ভাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

 

 

 

পরে জানতে পারি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক জুয়েল রানা আগেই বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান সাথে বৈঠক করে লোকবল গুছিয়ে রেখেছিলো। জুয়েল রানার নেতৃত্বেই আমার ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা হয়।

 

 

 

 

তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার ফেসবুক একাউন্টে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক চাঁদাবাজি করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে এমন পোস্ট দেই। এ কারণেই কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল ও তাজ নামের এক যুবককে সাথে নিয়ে মুনতাসির মেহেদী হাসান আমাকে মারধোর করে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

 

 

 

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক আবির ইসলাম চাঁদ, মুন্সি ইউসুফ কামাল রিচার্ড, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের হোসেন সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম ও সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ছাত্রদল নেতা রায়হান শেখ এর উপর হামলার ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

 

 

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুরে জংশনের দাবী

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথকে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর জংশনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

 

 

 

রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন”-এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

 

মারুফ বন্ধনে বক্তারা বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ ছিল রেলের শহর। এই শহরে ছিল চারটি রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহরকে রেল শূণ্য করার পায়তারা চলছে। সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেলপথ ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। সেই দাবি আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ শহরকে বাদ দিয়ে এই রেল পথ নির্মাণ হচ্ছে।

 

 

 

বক্তারা রায়পুর জংশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলা এবং নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর জংশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানান।

 

 

 

আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ধানগড়া বাগানবাড়ি এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ইউনিভার্স একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুসাইন হাসান সিফাতকে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পথচারী এক ভ্যানচালক শিশুটিকে নিরাপদে তার বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়। অনেকেই শিশুদের একা চলাচল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সচেতন মহল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসানুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বা ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।

ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

 

নওগাঁয় হাবিবুজ্জামান জিয়া নামের এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে পুকুর দখলে নেওয়ারও অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযোগ ওঠা হাবিবুজ্জামান জিয়া নওগাঁ শহরের পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি গত ২০২৪সালের ২০আগষ্ট শহরের লোভনীয় ওই ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

 

 

অভিযোগ উঠেছে তিনি যখন যে ভূমি অফিসে কর্মরত থাকেন সেখানেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলেই তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এমনকি তিনি ভুয়া খতিয়ান দিয়েও করে দেন জমির খারিজ। আর এভাবেই কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। কিনেছেন ফ্লাটও।

 

 

একজন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের মনে।

 

 

সম্প্রতি খাদেমুল ইসলাম ও একটা মাদরাসার জমি খারিজ করতে ১০লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং ঘুষ নেওয়া এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। এরপর গত মে মাসে একাধিক শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়। তবে নিউজ প্রকাশের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি বিভাগীয় ব্যবস্থা।

 

 

জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজির মোড়ে অবস্থিত “ডক্টর হাইটস” নামের দশ তলা বিল্ডিংয়ে ৬১লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট কিনেছেন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া। এর আগে গত ২০২১সালে হাবিবুজ্জামান ও তার বোনের যৌথ নামে শহরের চকদেব মৌজায় ৬৭৫দাগে ৩শতক জমি কেনা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এছাড়া চাকরির পর তার গ্রামের বাড়ি নারচি ও পুটিমারি মৌজায় জিয়া ৬-৭বিঘা জমি কিনেছে। আবার নামে ও বেনামে আরও কোটি টাকার সম্পদ থাকতে পারে বলেও জানান স্থানীয় নারী-পুরুষ।

 

 

এদিকে এর আগে হাবিবুজ্জামান সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপসহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন একটি ভুয়া খতিয়ান দিয়ে খারিজ অনুমোদন করে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসার পরও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার কারণে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

 

 

ফ্লাট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিল্ডিংয়ে দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, এই ভবনের একটি ফ্লাটের দাম ৬১ থেকে ৬২লাখ টাকা। সব বিক্রি হয়ে গেছে। এই ভবনের ৬তলায় দুই মাস আগে একটি ফøাট কিনেছে তহশিলদার জিয়া। এখন তার পরিবার সেখানে থাকছে।

 

 

“ডক্টর হাইটস” নামক আরেক বিল্ডিংয়ের সাবু নামের এক কেয়ারটেকার জানান- দুই মাস আগে টিডিআর জিয়াকে আমি ৬১লাখ টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনে দিয়েছি।

 

 

পুকুর দখলের বিষয়ে নারচি গ্রামের ভুক্তোভোগী মোস্তফা বলেন, আমাদের শরিকানা পুকুর দখল করে নিয়েছে জিয়া। ওই পুকুরটার ১৩ভাগের মধ্যে জিয়ার এক ভাগ ছিল। পরে সে একাই মালিকানা দাবী করে। লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে। আমার মাথা ফেটে দিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা করে।

 

 

ভুক্তোভোগী মোস্তফার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, টিডিআর হওয়ার কারণে বর্তমানে এই গ্রামের মধ্যে জিয়া বহু টাকার মালিক বনে গেছে। অন্যায় ভাবে আমাদের পুকুর দখল করে নিয়েছে। পাশেই আরও একটি পুকুরের অংশ কিনে সেখানেও গন্ডগোল বাঁধিয়ে ওই পুকুরেও কাউকে নামতে দেয়না।

 

 

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ওই পুকুরের রেকর্ড ভুল হয়ে ৭২সালে এসে জিয়ার দাদা সায়েদ আলী ফকিরসহ তিন জন মালিক হয়। তারা নাকি রাজার কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। এই মূলেই জিয়া দখল করেছে। জিয়ার বাবারা অনেক ভাই-বোন। তাদের প্রায় ৪০-৪৫বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ৬-৭ বিঘা করে ভাগ পাবে জিয়ার বাবা। জিয়ারা আবার তিন ভাই-বোন। তবে জিয়া চাকরির পর অনেক জমি করেছে, অর্থ হয়েছে।

 

 

স্থানীয় এক নারী আরেকটি পুকুর দেখিয়ে জানালেন- এখানে জিয়া প্রায় ২বিঘা জমি কিনেছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানালানে জিয়া একসময় অন্যের সহযোগীতা নিয়ে তার চিকিৎসা করেছেন। ২০১১সালে চাকরি হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। এখন কালো টাকা সাদা করতে যোগ দিয়েছেন একাধিক পুকুরের ব্যবসায়।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে পরে কথা বলতে চাইলেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর পরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

 

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি বলে জানালেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন।

 

 

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জ নলছিয়া এলাকার ফুলজোর নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফুলজোর নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি সলঙ্গা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, “স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানলে সলঙ্গা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুক লাইভে এসে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ফেসবুক লাইভে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৬ জুন) বিকালে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ সেলিম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মিছিলটি প্রচার করা হয়। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতাকর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এসময় তারা“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

ফেসবুক লাইভে প্রচারিত মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

 

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শত শত ড্রেজার, কাটার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরঅঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ০.৪৯ টাকা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তবে রযেল মাঝির ইনভেস্টর হলেন সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকায় অবস্থানরত পেশাদার সুদের ব্যবসায়ী এবং শেয়ার মার্কেটের জুয়াড়ি ফরিদ আহমেদ মাল।

 

 

 

নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্তূপের বালুর পরিবর্তে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানছে। ফলে নদীর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে নৌপথে ঘুরে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার চারাত্রায় বালুর স্তূপের নিচে ও স্তূপের আগ থেকেই প্রায় প্রায় ৫০-৬০ টি কাটার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদ্মার ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী জনপদ। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ নদীভাঙনে নড়িয়ায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙনের হাত থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদীপথে চর খননের কাজও করা হয়। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে ফেলা হয়েছে ১১ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ। এ কাজে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বলেন, নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে আমরা আর এখানে টিকে থাকতে পারব না। ফসলি জমিতে ধান চাষ করা যাবে না, কৃষিকাজও হুমকির মুখে পড়বে। বালুর স্তুপ অপসারণের নামে তারা আসলে নদীর তলদেশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি এবং সুদের ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি ফরিদ মাল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি বলেন, আমরা নিলামের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছি। মাঝখানে প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনেই বালুর স্তূপ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

 

 

আর ফরিদ আহমেদ মাল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেইনি। এসব অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

 

 

 

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য উপজেলা তিনটি দপ্তর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আমাদের রিপোর্ট দিবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপন গ্রহন করবো।

 

 

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান, পরিমাপ সঠিক আছে কি-না তা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই বদ্ধ পরিকর। ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রত্যেকটা পণ্যের উচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।

 

 

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বরত এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর সংস্থার গ্রধানগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন এবং সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআই-কে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। জনগণ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক মনে করে।

 

 

শিল্প সচিব বলেন, মানুষের আস্থার জায়গায় বিএসটিআই পৌছাতে পেরেছে। বিএসটিআই’র ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুলনা ও চট্রগ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন ও ল্যাবরেটরি নির্মান, ১০ জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোতেও করা হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- দেশের ১১টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরিসহ আঞ্চলিক ভবন নির্মাণ, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আরও ৪২টি জেলায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ে নতুন ১৩ তলা ভবনসহ রসায়ন ও পদার্থ উইংয়ে ৬৭টি অত্যাধুনিক ল্যাব এবং ২১টি মেট্রোলজি ল্যাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হালাল পণ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কাথাও তুলে ধরেণ বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব)। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিএসটিআই বাসস্থান, খাদ্যপণ্যসহ সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মান প্রণয়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন ) উপজেলার কৃষকগঞ্জ বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। উল্লাপাড়ার টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া টেরিটোরির বেলকুচি উপজেলার কান্দাপাড়া বাজারের ডিলার মো: রইচ উদ্দিন, উল্লাপাড়া টেরিটোরির সেলস অফিসার মধুসূদন কুমার মন্ডল প্রমুখ।

 

 

 

কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। আরও বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

 

উঠানের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগল হত্যা, প্রতিবাদে গৃহবধূ নিহত

আশুলিয়ার তাজপুরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপবান বেগমের মৃত্যু হয়।

 

 

 

নিহত রূপবান বেগম (৪৫) নামে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা ও জয়নাল সরকারের স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি আলিয়া সরকার একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবান বেগমের একটি ছাগল আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলটিকেই কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে রূপবান বেগমের সঙ্গে আলিয়া সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবানের পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

 

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

 

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জীবিত থাকাকালে তার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আলিয়া সরকারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়া হয়। পরে রূপবান বেগমের মৃত্যুর হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।