সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

লাশ পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী সেই যুবক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আসামি মো. ইয়াছিন আরাফাত। ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার বিডি লিমিটেডে সংঘটিত বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দিপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক মূল নেতৃত্বদানকারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ডিএমপির সহযোগিতায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেইটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করা, ভিকটিম দিপু চন্দ্র দাসকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে গেটের সামনে হত্যা এবং পরে রশি দিয়ে লাশ টেনে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে ওই আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫)। তিনি ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ির কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।

 

পুলিশ আরও জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত প্রায় ১৮ মাস ধরে কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদের ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পলাতক অবস্থায় টানা ১২ দিন তিনি ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় অবস্থান করেন এবং আত্মগোপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন। এমনকি সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার জন্য যোগদান করেছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে।

 

পূর্ববর্তী তদন্তে সংগৃহীত তথ্য, ঘটনার দিন ফ্যাক্টরির গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং এরই মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামির জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

 

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর। মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, দিপু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ৯ জন আসামি একই ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

 

 

এ মামলায় এরই মধ্যে ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের পুলিশের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

লাশ পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী সেই যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১২:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার বিডি লিমিটেডে সংঘটিত বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দিপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক মূল নেতৃত্বদানকারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ডিএমপির সহযোগিতায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেইটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করা, ভিকটিম দিপু চন্দ্র দাসকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে গেটের সামনে হত্যা এবং পরে রশি দিয়ে লাশ টেনে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে ওই আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫)। তিনি ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ির কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।

 

পুলিশ আরও জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত প্রায় ১৮ মাস ধরে কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদের ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পলাতক অবস্থায় টানা ১২ দিন তিনি ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় অবস্থান করেন এবং আত্মগোপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন। এমনকি সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার জন্য যোগদান করেছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে।

 

পূর্ববর্তী তদন্তে সংগৃহীত তথ্য, ঘটনার দিন ফ্যাক্টরির গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং এরই মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামির জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

 

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর। মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, দিপু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ৯ জন আসামি একই ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

 

 

এ মামলায় এরই মধ্যে ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের পুলিশের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।