সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

শাহজাদপুরে চাঁদা না দেওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত বাবা-ছেলে, নেতৃত্বে কারা!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে  চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাপর ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে অন্তরকে (২৫) প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলেোপাতাড়ি কুপিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসময় দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় আহত অন্তরের পিতা ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ্সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

গত বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরের রবীন্দ্র কাছাড়ি বাড়ির পাশে কাপড় হাটে এই নৃশংস  হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। হামলাকারীরা পৌর সদরের দ্বাবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

 

 

এসময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় স্থানীয়রা অন্তরকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে আহত ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের এমন নৃশংস হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় এমন শসস্ত্র হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। সেইসাথে এই  হামলার নেতৃত্ব এবং কিশোর গ্যাংয়ের মদদদাতাদের খুজে বের করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয়ের শাহজাদপুর নামে এক আইডি থেকে এ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া অভিযোগ তুলেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার রাতে দ্বারিয়াপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা দুইভাই শাহজাদপুরে পরিষ্কার রাজনীতি করি, আমাদের নামে কোন অপবাদ নেই। আমাদের দুই ভাইয়ের নাম জরিয়ে একটি ভুয়া আইডি থেকে সম্মানহানী করার জন্য মিথ্যা প্রচারনা করছে। এই অপপ্রচারের নিন্দা জানান এবং যেসকল সন্ত্রাসীরা নিরীহ ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে তাদের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হল- পৌর এলাকার দাবারিয়া গ্রামের হাজী নুর ইসলামের ছেলে আবুল বাশার চেনি (৫৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন সরকার(৪৩)। এছাড়াও সিসি টিভি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে। আটককৃতরা তো কিশোর নয় এমন প্রশ্নের জব্বাবে ওসি বলেন, এনারা মদদদাতা।

 

এব্যাপারে আহত ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, গতকাল দুপুরে বেশ কয়েকজন কিশোর আমার ছেলে অন্তরকে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করে। সে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ২৫/৩০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের উপরে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও তারা কুপিয়ে আহত করে ।

 

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মনববন্ধন ও সমাবেশ করেন। এসময় সমাবেশে বক্তব্য দেন, উপজেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মনছুর আলী, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, হাটের পরিচালক নাদিম হোসেন, রবিউল ইসলাম, শ্রমিক নেতা খোকন আলী প্রমুখ।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং চাঁদা না দেওয়ায় এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় ৬-৮ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, আসামীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী বা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

শাহজাদপুরে চাঁদা না দেওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত বাবা-ছেলে, নেতৃত্বে কারা!

আপডেট টাইম : ০৬:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে  চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাপর ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে অন্তরকে (২৫) প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলেোপাতাড়ি কুপিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসময় দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় আহত অন্তরের পিতা ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ্সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

গত বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরের রবীন্দ্র কাছাড়ি বাড়ির পাশে কাপড় হাটে এই নৃশংস  হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। হামলাকারীরা পৌর সদরের দ্বাবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

 

 

এসময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় স্থানীয়রা অন্তরকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে আহত ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের এমন নৃশংস হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় এমন শসস্ত্র হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। সেইসাথে এই  হামলার নেতৃত্ব এবং কিশোর গ্যাংয়ের মদদদাতাদের খুজে বের করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয়ের শাহজাদপুর নামে এক আইডি থেকে এ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া অভিযোগ তুলেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার রাতে দ্বারিয়াপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা দুইভাই শাহজাদপুরে পরিষ্কার রাজনীতি করি, আমাদের নামে কোন অপবাদ নেই। আমাদের দুই ভাইয়ের নাম জরিয়ে একটি ভুয়া আইডি থেকে সম্মানহানী করার জন্য মিথ্যা প্রচারনা করছে। এই অপপ্রচারের নিন্দা জানান এবং যেসকল সন্ত্রাসীরা নিরীহ ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে তাদের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হল- পৌর এলাকার দাবারিয়া গ্রামের হাজী নুর ইসলামের ছেলে আবুল বাশার চেনি (৫৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন সরকার(৪৩)। এছাড়াও সিসি টিভি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে। আটককৃতরা তো কিশোর নয় এমন প্রশ্নের জব্বাবে ওসি বলেন, এনারা মদদদাতা।

 

এব্যাপারে আহত ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, গতকাল দুপুরে বেশ কয়েকজন কিশোর আমার ছেলে অন্তরকে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করে। সে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ২৫/৩০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের উপরে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও তারা কুপিয়ে আহত করে ।

 

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মনববন্ধন ও সমাবেশ করেন। এসময় সমাবেশে বক্তব্য দেন, উপজেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মনছুর আলী, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, হাটের পরিচালক নাদিম হোসেন, রবিউল ইসলাম, শ্রমিক নেতা খোকন আলী প্রমুখ।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং চাঁদা না দেওয়ায় এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় ৬-৮ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, আসামীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী বা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।