সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

সলঙ্গায় অবৈধ প্লাস্টিক কারখানার গর্জন, হুমকিতে পাঠশালা ও উপাসনালয়ের শান্তি

নদী পারাপারের পরিচিত বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট। যে স্থানটিতে থাকার কথা ছিল নির্মল বাতাস আর গ্রামীণ নীরবতা, সেখানেই এখন দিন-রাত চলছে এক বিষাক্ত ‘প্লাস্টিক দানবে’র তাণ্ডব।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট এলাকায় আবাসিক পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গড়ে উঠেছে ৪-৫টি অবৈধ প্লাস্টিক ক্রাশিং ফ্যাক্টরি।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত ভারী মেশিনে পুরনো প্লাস্টিক কেটে বস্তাবন্দি করায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যাহত হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনা।

​শব্দদূষণে বিপন্ন শিক্ষা ও ইবাদত:
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাগুলোর একদম কোল ঘেঁষেই রয়েছে স্থানীয় বিদ্যালয় ও মসজিদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিকট শব্দে অনবরত চলছে প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন।মেশিনের শব্দে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের কণ্ঠ ভেসে যাচ্ছে অজানায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, এই মেহেীদ ফকির ,শামসুল, জলিলের প্লাস্টিক কাটার ভারি মেশিনের  বিকট শব্দের দাপটে পাশের মসজিদে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে মুসল্লিদের।​

ঝুঁকিতে ফুসফুস, মিলেনি পরিবেশের ছাড়পত্র:শুধু শব্দই নয়, বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠছে চারপাশের বাতাস। পুরনো প্লাস্টিক গুঁড়ো করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা। বিষাক্ত এই ধুলোবালি ও কণা ফুসফুসে প্রবেশ করায় স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসিক এলাকায় এভাবে কারখানা চালানোর পেছনে নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স। আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো এক অজানা খুঁটির জোরে অবাধে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব কারখানা।

​স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, বসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে এভাবে কারখানা না চালাতে বারবার অনুরোধ করা হলেও কারখানা মালিকেরা তা কানে তোলেননি। এতে দিন দিন এলাকার মানুষের ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে।

​এলাকাবাসী, মসজিদের মুসল্লি ও স্কুলের অভিভাবকদের এখন একটাই দাবি—শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের শান্তিতে ইবাদতের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে এসব অবৈধ ফ্যাক্টরী অপসারণ ও সিলগালা করা হোক। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)”র” জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, তুহিন আলম জানান, প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন ব্যবহারে পরিবেশের কাজ পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

সলঙ্গায় অবৈধ প্লাস্টিক কারখানার গর্জন, হুমকিতে পাঠশালা ও উপাসনালয়ের শান্তি

আপডেট টাইম : ০৫:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নদী পারাপারের পরিচিত বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট। যে স্থানটিতে থাকার কথা ছিল নির্মল বাতাস আর গ্রামীণ নীরবতা, সেখানেই এখন দিন-রাত চলছে এক বিষাক্ত ‘প্লাস্টিক দানবে’র তাণ্ডব।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট এলাকায় আবাসিক পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গড়ে উঠেছে ৪-৫টি অবৈধ প্লাস্টিক ক্রাশিং ফ্যাক্টরি।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত ভারী মেশিনে পুরনো প্লাস্টিক কেটে বস্তাবন্দি করায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যাহত হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনা।

​শব্দদূষণে বিপন্ন শিক্ষা ও ইবাদত:
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাগুলোর একদম কোল ঘেঁষেই রয়েছে স্থানীয় বিদ্যালয় ও মসজিদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিকট শব্দে অনবরত চলছে প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন।মেশিনের শব্দে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের কণ্ঠ ভেসে যাচ্ছে অজানায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, এই মেহেীদ ফকির ,শামসুল, জলিলের প্লাস্টিক কাটার ভারি মেশিনের  বিকট শব্দের দাপটে পাশের মসজিদে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে মুসল্লিদের।​

ঝুঁকিতে ফুসফুস, মিলেনি পরিবেশের ছাড়পত্র:শুধু শব্দই নয়, বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠছে চারপাশের বাতাস। পুরনো প্লাস্টিক গুঁড়ো করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা। বিষাক্ত এই ধুলোবালি ও কণা ফুসফুসে প্রবেশ করায় স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসিক এলাকায় এভাবে কারখানা চালানোর পেছনে নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই বৈধ কোনো কাগজপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স। আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো এক অজানা খুঁটির জোরে অবাধে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব কারখানা।

​স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, বসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে এভাবে কারখানা না চালাতে বারবার অনুরোধ করা হলেও কারখানা মালিকেরা তা কানে তোলেননি। এতে দিন দিন এলাকার মানুষের ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে।

​এলাকাবাসী, মসজিদের মুসল্লি ও স্কুলের অভিভাবকদের এখন একটাই দাবি—শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের শান্তিতে ইবাদতের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে এসব অবৈধ ফ্যাক্টরী অপসারণ ও সিলগালা করা হোক। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)”র” জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, তুহিন আলম জানান, প্লাস্টিক কাটার ভারী মেশিন ব্যবহারে পরিবেশের কাজ পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।