সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

সিজার অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু: নার্স- চিকিৎসকসহ কর্তৃপক্ষ পলাতক

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাথি আক্তার পরী নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়েছেন।

 

গতকাল শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোড় এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরী উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।

 

পরীর শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুত্রবধূর প্রসববেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে ৫ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) অন্যত্র সিজার করার কথা বললে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরী। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর পরীকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়- ক্লিনিকে কোনো অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, পরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি। এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লিনিকের সব স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরী মারা গেছে।

কোন চিকিৎসক সিজার করেছে জানতে চাইলে তিনি সিজারকারী চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি। তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরীর সিজার অপারেশন করেছে।

 

এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরও ওই ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

সিজার অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু: নার্স- চিকিৎসকসহ কর্তৃপক্ষ পলাতক

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাথি আক্তার পরী নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়েছেন।

 

গতকাল শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোড় এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরী উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।

 

পরীর শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুত্রবধূর প্রসববেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে ৫ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) অন্যত্র সিজার করার কথা বললে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরী। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর পরীকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়- ক্লিনিকে কোনো অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, পরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি। এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লিনিকের সব স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরী মারা গেছে।

কোন চিকিৎসক সিজার করেছে জানতে চাইলে তিনি সিজারকারী চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি। তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরীর সিজার অপারেশন করেছে।

 

এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরও ওই ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।