সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

স্বর্ণকার থেকে যেভাবে কোটিপতি!

 

দোলন ধর শুরুতে ছিলেন স্বর্ণকার। সময়ের ব্যবধানে চট্টগ্রামের হাজারী লেইনের কেসি দে রোডে গড়ে তুলেছেন স্বর্ণের কারখানা।

অভিজাত শপিং মল মিমি সুপার মার্কেটেও দিয়েছেন স্বর্ণের শোরুম।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দোলন ধরকে নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, চলছে নানা আলোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০-২২ বছর আগে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে পরিমল মার্কেটের নিচতলার শেষ দিকে স্বর্ণের কারখানার জন্য প্রথম দোকান নেন দোলন ধর। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘কৃষ্ণ বাবু’ নামের একজন কারিগর কাজ করতেন।

দোলন ধরের ব্যবসার জন্য ওই কারিগরকে ‘আলাদিনের চেরাগ’ বলে মনে করা হতো। কৃষ্ণ বাবু ওই দোকানেই থাকতেন।

তার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বর্ণ চুরির মহোৎসব পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৫-২০ বছর আগে হাতের চুড়ি (সলিড চুড়ি) ও বালা তৈরির ক্ষেত্রে আট আনা স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে দুই আনা দিয়ে অলংকার বুঝিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ভরি স্বর্ণ পাওয়া যেত বলেও জানা গেছে।

তার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বর্ণ চুরির মহোৎসব পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৫-২০ বছর আগে হাতের চুড়ি (সলিড চুড়ি) ও বালা তৈরির ক্ষেত্রে আট আনা স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে দুই আনা দিয়ে অলংকার বুঝিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ভরি স্বর্ণ পাওয়া যেত বলেও জানা গেছে।

কারিগর কৃষ্ণ গুজরাট থেকে নকল স্বর্ণের বালাও নিয়ে আসতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থলবন্দর দিয়ে বস্তায় বস্তায় নকল স্বর্ণালংকার এনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হতো। এ ছাড়া অভিজাত শ্রেণির ক্রেতাদের স্বর্ণের বিস্কুটের (পিস) তৈরি বেশি দামের অলংকার দেওয়ার কথা বলে দেশি স্বর্ণালংকার গলিয়ে নতুন অলংকার তৈরি করে অর্থ উপার্জন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষ্ণ বাবু ছাড়াও দোলন ধরের বিশ্বস্ত কারিগর হিসেবে যোগ দেন তার আত্মীয় বিপ্লব। দোলন ধরের উত্থানের পেছনে বন্ধকী ব্যবসারও বেশ প্রভাব ছিল বলে জানা গেছে।

তিলক নামের এক কারিগরের কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ এনে সমিতির নাম ব্যবহার করে কেসি দে রোডের একটি স্বর্ণের দোকানে নোটিশ লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন দোলন ধর। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওই দোকানের মালিক তালা ভেঙে ফেলেন।

পরিমল মার্কেটের তৃতীয় তলায় বেশ কয়েকটি দোকান নিয়ে সেঞ্চুরি ডিজাইন সেন্টার গড়ে তোলেন দোলন ধর। এরপর পাশের মার্কেটে একটি দোকান নিয়ে মার্কেটের দেয়াল ভেঙে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। মার্কেটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ বাধা দেননি বলে জানা গেছে।

দোলন ধরের ভাইয়ের শোরুম রয়েছে চট্টগ্রামের আরেক অভিজাত শপিং সেন্টার নিউ মার্কেটে।

পরিমল মার্কেটের একজন দোকানি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, দোলন বাবু শুরুতে ছিলেন স্বর্ণকার। পরে শোরুম ও কারখানার মালিক হয়েছেন। এখন তিনি অনেক বড় লোক। প্রাইভেট কার নিয়ে পরিমল মার্কেটে নিজের কারখানায় আসেন তিনি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে দোলন ধরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। মিমি সুপার মার্কেটের শোরুম ও পরিমল মার্কেটের সেঞ্চুরি ডিজাইন সেন্টারও বন্ধ পাওয়া যায়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বর্ণকার থেকে যেভাবে কোটিপতি!

আপডেট টাইম : ১০:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

দোলন ধর শুরুতে ছিলেন স্বর্ণকার। সময়ের ব্যবধানে চট্টগ্রামের হাজারী লেইনের কেসি দে রোডে গড়ে তুলেছেন স্বর্ণের কারখানা।

অভিজাত শপিং মল মিমি সুপার মার্কেটেও দিয়েছেন স্বর্ণের শোরুম।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দোলন ধরকে নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, চলছে নানা আলোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০-২২ বছর আগে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে পরিমল মার্কেটের নিচতলার শেষ দিকে স্বর্ণের কারখানার জন্য প্রথম দোকান নেন দোলন ধর। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘কৃষ্ণ বাবু’ নামের একজন কারিগর কাজ করতেন।

দোলন ধরের ব্যবসার জন্য ওই কারিগরকে ‘আলাদিনের চেরাগ’ বলে মনে করা হতো। কৃষ্ণ বাবু ওই দোকানেই থাকতেন।

তার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বর্ণ চুরির মহোৎসব পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৫-২০ বছর আগে হাতের চুড়ি (সলিড চুড়ি) ও বালা তৈরির ক্ষেত্রে আট আনা স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে দুই আনা দিয়ে অলংকার বুঝিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ভরি স্বর্ণ পাওয়া যেত বলেও জানা গেছে।

তার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বর্ণ চুরির মহোৎসব পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৫-২০ বছর আগে হাতের চুড়ি (সলিড চুড়ি) ও বালা তৈরির ক্ষেত্রে আট আনা স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে দুই আনা দিয়ে অলংকার বুঝিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ভরি স্বর্ণ পাওয়া যেত বলেও জানা গেছে।

কারিগর কৃষ্ণ গুজরাট থেকে নকল স্বর্ণের বালাও নিয়ে আসতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থলবন্দর দিয়ে বস্তায় বস্তায় নকল স্বর্ণালংকার এনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হতো। এ ছাড়া অভিজাত শ্রেণির ক্রেতাদের স্বর্ণের বিস্কুটের (পিস) তৈরি বেশি দামের অলংকার দেওয়ার কথা বলে দেশি স্বর্ণালংকার গলিয়ে নতুন অলংকার তৈরি করে অর্থ উপার্জন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষ্ণ বাবু ছাড়াও দোলন ধরের বিশ্বস্ত কারিগর হিসেবে যোগ দেন তার আত্মীয় বিপ্লব। দোলন ধরের উত্থানের পেছনে বন্ধকী ব্যবসারও বেশ প্রভাব ছিল বলে জানা গেছে।

তিলক নামের এক কারিগরের কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ এনে সমিতির নাম ব্যবহার করে কেসি দে রোডের একটি স্বর্ণের দোকানে নোটিশ লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন দোলন ধর। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওই দোকানের মালিক তালা ভেঙে ফেলেন।

পরিমল মার্কেটের তৃতীয় তলায় বেশ কয়েকটি দোকান নিয়ে সেঞ্চুরি ডিজাইন সেন্টার গড়ে তোলেন দোলন ধর। এরপর পাশের মার্কেটে একটি দোকান নিয়ে মার্কেটের দেয়াল ভেঙে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। মার্কেটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ বাধা দেননি বলে জানা গেছে।

দোলন ধরের ভাইয়ের শোরুম রয়েছে চট্টগ্রামের আরেক অভিজাত শপিং সেন্টার নিউ মার্কেটে।

পরিমল মার্কেটের একজন দোকানি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, দোলন বাবু শুরুতে ছিলেন স্বর্ণকার। পরে শোরুম ও কারখানার মালিক হয়েছেন। এখন তিনি অনেক বড় লোক। প্রাইভেট কার নিয়ে পরিমল মার্কেটে নিজের কারখানায় আসেন তিনি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে দোলন ধরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। মিমি সুপার মার্কেটের শোরুম ও পরিমল মার্কেটের সেঞ্চুরি ডিজাইন সেন্টারও বন্ধ পাওয়া যায়।