শরতের নীল আকাশের নিচে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজ সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সবুজ আর সবুজ। উপজেলার মাঠজুড়ে যেন সবুজ গালিচা বিছানো। আর সেই সবুজ গালিচার সঙ্গে মিশে আছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।
পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়াসহ নিত্যদিনের নানা খরচের জোগান আসে এই ফসলের মাঠ থেকেই। আর মাত্র মাসখানেক পর ধানের শীষ পেকে সোনালি রঙ ধারণ করবে—ধানের গোলা ভরে উঠবে নতুন ফসলে—এমন আশায় দিন-রাত নানা স্বপ্নে বিভোর কৃষকেরা।
রোববার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের প্রত্যাশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের আরও পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। এ বছর আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন।
ধানের সামগ্রিক অবস্থা ভালো থাকলেও কোথাও কোথাও ইঁদুরের উপদ্রবের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। এতে কিছু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিদলা ইউনিয়নের গড় মাসুয়া গ্রামের কৃষক সফির উদ্দিন ও কোনা মেছেরা গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া জানান, পোকার আক্রমণে তাদের ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব উদ্দিন ও জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, কিছু জমিতে ইঁদুরের কারণে ক্ষতি হলেও তা কাটিয়ে উঠতে পারলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।
কৃষকেরা জানান, সময়মতো তেল, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হলে চাষাবাদ আরও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে ফসলের রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা চান তারা।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমনের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমির আইল ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পার্চিং করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।

আকিল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















