সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

১৬ হাজার কিমি নৌপথের পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই: শেখ রবিউল আলম

দেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘অষ্টম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো- বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান জাতি যে আমাদের সমুদ্র, নদী এবং জলরাশির আধিক্য অনেক বেশি। প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটারের মতো নৌপথ আমাদের আছে প্রাকৃতিকভাবে। কিন্তু আমরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা এই খাতের প্রতিটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রজয় ও সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে সম্ভাবনাময় এ খাতকে পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এখন উপলব্ধি করছে, সমুদ্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। এর যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সম্পদ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধাসম্পন্ন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যদিও সেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

 

 

বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লালদিয়া ও পানগাঁওসহ বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনালের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডকেও কনটেইনার টার্মিনালে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। মাছ আহরণ থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। সরকার এ খাতের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

 

 

 

 

 

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা যেভাবে এগোতে চান, সরকার সেভাবেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

 

 

 

 

ফসিল জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তিতে রাতারাতি রূপান্তর অনেক সময় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোতে হবে।

 

 

 

 

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে সামুদ্রিক ও অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বৈঠক, সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, বন্দর পরিচালনা ও অফশোর কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

১৬ হাজার কিমি নৌপথের পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই: শেখ রবিউল আলম

আপডেট টাইম : ১২:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘অষ্টম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো- বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান জাতি যে আমাদের সমুদ্র, নদী এবং জলরাশির আধিক্য অনেক বেশি। প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটারের মতো নৌপথ আমাদের আছে প্রাকৃতিকভাবে। কিন্তু আমরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা এই খাতের প্রতিটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রজয় ও সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে সম্ভাবনাময় এ খাতকে পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এখন উপলব্ধি করছে, সমুদ্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। এর যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সম্পদ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধাসম্পন্ন গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যদিও সেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

 

 

বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লালদিয়া ও পানগাঁওসহ বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনালের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডকেও কনটেইনার টার্মিনালে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্বালানি, লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। মাছ আহরণ থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। সরকার এ খাতের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

 

 

 

 

 

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা যেভাবে এগোতে চান, সরকার সেভাবেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

 

 

 

 

ফসিল জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তিতে রাতারাতি রূপান্তর অনেক সময় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোতে হবে।

 

 

 

 

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে সামুদ্রিক ও অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বৈঠক, সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, বন্দর পরিচালনা ও অফশোর কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।