মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আট বছরের প্রবাসজীবনের সঞ্চয়, স্বর্ণালংকার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মো. জসিম (৪০) নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার মুন্নি তাঁর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো প্রায় ৩৫ লাখ টাকা এবং ঘরে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই অন্য এক যুবককে বিয়ে করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় গত সোমবার গজারিয়া থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জসিম। অভিযুক্তরা হলেন—জসিমের স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার মুন্নি (৩০), শ্বশুর হযরত আলী (৫৫) এবং চর বাউশিয়া এলাকার মো. রাসেল (৩০)। মুন্নি ও হযরত আলী গজারিয়ার চেঙ্গারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক চেঙ্গারকান্দি গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে মোর্শেদা আক্তার মুন্নিকে বিয়ে করেন জসিম। তাঁদের সংসারে জেরিন (১৪) নামে এক মেয়ে ও ইয়াসিন (১২) নামে এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান জসিম।
প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা তিনি বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী মুন্নির ব্যাংক হিসাবে পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। প্রায় চার বছর আগে দেশে ফিরে স্ত্রীকে ওই টাকার হিসাব দিতে বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন বলে দাবি জসিমের।
জসিমের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকা, এবং নগদ অর্থ নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান মুন্নি।
জসিম বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তিনি স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরে আসতে বলেন। এ সময় মুন্নি ও তাঁর বাবা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
জসিম আরও অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর কোনো আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই তাঁর স্ত্রী মুন্নি চর বাউশিয়া এলাকার মো. রাসেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















