সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অপহরণ ও চাঁদা দাবির মামলায় ডিজিএফআই-আনসারসহ ৬ জন কারাগারে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দফতরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

 

 

 

 

এদিন তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলাম।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

 

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মো. শরিফ (৩২) মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন।

প্রতিবেশী জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে জিয়াউল মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের রোড নম্বর ৬-এর ১৭ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
সেখানে জিয়াউল তাকে রেখে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান।

 

 

 

 

এর কিছুক্ষণ পর আল মামুন, নুরুজ্জামান, সোহেল রানা ও মামলার অপর এক আসামি ওই বাসায় প্রবেশ করে শরিফকে আটকে রাখেন। এ সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাদের কবল থেকে মুক্তি পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপরও তারা সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করেন এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এজাহারে আরও বলা হয়, শরিফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনজন অভিযুক্ত তাকে বাসা থেকে নামিয়ে মুকুল গাজীর সঙ্গে থাকা একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অপর আসামি মাহফুজুর রহমান। পরে তাকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গাড়ি থেকে নেমে চা খেতে গেলে শরিফ পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

 

 

 

 

এ সময় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় ব্যবহৃত টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় শরিফ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

অপহরণ ও চাঁদা দাবির মামলায় ডিজিএফআই-আনসারসহ ৬ জন কারাগারে

আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ডিজিএফআই সদর দফতরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

 

 

 

 

এদিন তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলাম।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

 

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মো. শরিফ (৩২) মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন।

প্রতিবেশী জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে জিয়াউল মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের রোড নম্বর ৬-এর ১৭ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
সেখানে জিয়াউল তাকে রেখে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান।

 

 

 

 

এর কিছুক্ষণ পর আল মামুন, নুরুজ্জামান, সোহেল রানা ও মামলার অপর এক আসামি ওই বাসায় প্রবেশ করে শরিফকে আটকে রাখেন। এ সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাদের কবল থেকে মুক্তি পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপরও তারা সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করেন এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এজাহারে আরও বলা হয়, শরিফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনজন অভিযুক্ত তাকে বাসা থেকে নামিয়ে মুকুল গাজীর সঙ্গে থাকা একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অপর আসামি মাহফুজুর রহমান। পরে তাকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গাড়ি থেকে নেমে চা খেতে গেলে শরিফ পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

 

 

 

 

এ সময় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় ব্যবহৃত টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় শরিফ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।