ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ আর অসন্তোষ—দেশের অ্যাথলেটিকসে এ যেন চেনা চিত্র। গত আসরেই নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ফল নিয়ে আপত্তি উঠল, ছিল বিতর্কও। আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফলের মাধ্যমে সেই বিতর্ক এড়াতে চায় ফেডারেশন।
গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তার ভাষ্য, ফটোফিনিশের নিখুঁত ও দ্রুত ফলাফলের জন্য থাকবেন সাতজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, দর্শকদের জন্য থাকবে তিন-চারটি ডিসপ্লে বোর্ড। প্রতিটি ইভেন্ট শেষের ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মিলবে ফলাফল। অর্থাৎ অপেক্ষা কম, স্বচ্ছতা বেশি; এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
আয়োজনের কাঠামোও গোছানো। তিন দিনের এই আসরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ইভেন্ট ৪০টি। ফুটবল মাঠ রক্ষায় থ্রো ইভেন্টগুলো হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। পদকজয়ীরা পাবেন যথাক্রমে ৬, ৫ ও ৩ হাজার টাকা, আর রেকর্ডধারীদের জন্য আছে ২০ হাজার টাকা।
মূল পৃষ্ঠপোষক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন; এ ছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ কুড়ির বেশি প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিচ্ছে। ফেডারেশন সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবেরের আহ্বান, ছোট পরিসরে হলেও সবাই যেন অ্যাথলেটিকসের পাশে থাকে।
ব্যানারজুড়ে পৃষ্ঠপোষকদের লোগো থাকলেও সরকারি ছুটির কারণে এখন নিজেদের অর্থেই ব্যয় সামলাচ্ছেন ফেডারেশন কর্তারা। সাধারণ সম্পাদকের হিসাবে সামারে খরচ হয় ৪০-৫০ লাখ টাকার মতো। রাষ্ট্রপতির আগমনে উদ্বোধনী আয়োজনে কিছুটা ব্যয় আছে, তবে বাড়তি কিছু করা হচ্ছে না। দৃষ্টি এখন সামনের পাকিস্তান এসএ গেমসেও। নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি স্বর্ণ-রুপা-ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ১০টি পদকের লক্ষ্য ঠিক করেছে। সঙ্গে দাবি, অ্যাথলেটিকসের জন্য আলাদা ভেন্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের স্থায়ী আবাসন ক্যাম্প।
অ্যাথলেটিক্সকে বলা হয় সব খেলার জননী। আশি-নব্বইয়ের দশকে দেশে যার জনপ্রিয়তা ও দক্ষিণ এশীয় অর্জন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রযুক্তির এই প্রস্তুতি সেই হারানো আস্থা ফেরাতে পারবে কি না, উত্তর মিলবে ট্র্যাকের স্বচ্ছতায়।

ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 

























