আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১৬৯টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকেরা।
আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে।
উপজেলার মধ্য শিহিপাশা এলাকার গোসাই দাসের বাড়ির দুর্গামন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। অধিকাংশ প্রতিমার কাঠামো নির্মাণ ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রং-তুলির আঁচড় ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগরেরা।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও চলছে নানা প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কাজ, কোথাও মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জা। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যস্ত আয়োজকেরাও।
প্রতিমাশিল্পী সজল পাল বলেন, রং ও প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার খরচও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব দীনেশ চন্দ্র হালদার বলেন, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৬৯টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।
পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিমা নির্মাণ, রং ও সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

মৃদুল দাস, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















