সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আমার বাবাকে হত্যা করতে চাইছে: ইমরান খানের ছেলের অভিযোগ

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তার ছেলে সুলাইমান খান।

বাবাকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এজন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন সুলাইমান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সুলাইমানের দাবি, গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও ইমরান খানের আইনজীবীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

এর আগে ইমরান অভিযোগ করেছিলেন, কারাগারে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাঁর জীবন বিপন্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুলাইমান লেখেন, ‘আগস্টে আমার বাবা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং মিসরের সরকার যেমন মোহাম্মদ মুরসিকে হত্যা করেছিল, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীও তাকে একই পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরপর থেকে কেউ আমার বাবাকে দেখেনি বা তাঁর কথা শোনেনি।

’
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ২০১৯ সালে আদালতে শুনানি চলাকালে মারা যান। ইমরান খান আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার পরিণতিও মুরসির মতো হতে পারে।

সুলাইমান আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে তারা তাকে হত্যা করতে চাইছে। কারণ তিনি এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁকে ভয় পায় তারা। সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটলে এর জন্য কে দায়ী, তা নিয়ে যেন কারও কোনো ভুল না থাকে।’

ইমরান খানের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তার পরিবার। সুলাইমানের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশ উপেক্ষা করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাকে একাকি বন্দি করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার।

আগস্টে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া লিখিত জবাবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইমরান খান সরকারের কোনো নির্বাহী আদেশে আটক নন বরং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দেওয়া সাজা ভোগ করছেন একজন ‘দণ্ডিত বন্দি’ হিসেবে।

৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতি ও ঘুষসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন এবং সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুলাইমান ও তার ভাই কাসিম খানকে বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালানোর জন্য পাকিস্তান সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। পাঞ্জাব প্রদেশের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে তাদের আটক করা হয়েছিল। সোমবার প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা তাদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর কথা জানান।

এদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আয়োজিত একটি সমাবেশে হাজারো সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের দিকে দীর্ঘ পদযাত্রা করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ইমরানের মুক্তি, কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ বাড়ানো এবং পছন্দের চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন।

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পিটিআই এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘জরুরি অবস্থার আড়ালে অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলন দুর্বল করতেই কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কারাগারে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে বিরোধ এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে। তার জীবননাশের আশঙ্কা এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুলাইমান খানের বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার বাবাকে হত্যা করতে চাইছে: ইমরান খানের ছেলের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৯:০২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তার ছেলে সুলাইমান খান।

বাবাকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এজন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন সুলাইমান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সুলাইমানের দাবি, গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও ইমরান খানের আইনজীবীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

এর আগে ইমরান অভিযোগ করেছিলেন, কারাগারে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাঁর জীবন বিপন্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুলাইমান লেখেন, ‘আগস্টে আমার বাবা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং মিসরের সরকার যেমন মোহাম্মদ মুরসিকে হত্যা করেছিল, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীও তাকে একই পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরপর থেকে কেউ আমার বাবাকে দেখেনি বা তাঁর কথা শোনেনি।

’
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ২০১৯ সালে আদালতে শুনানি চলাকালে মারা যান। ইমরান খান আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার পরিণতিও মুরসির মতো হতে পারে।

সুলাইমান আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে তারা তাকে হত্যা করতে চাইছে। কারণ তিনি এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁকে ভয় পায় তারা। সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটলে এর জন্য কে দায়ী, তা নিয়ে যেন কারও কোনো ভুল না থাকে।’

ইমরান খানের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তার পরিবার। সুলাইমানের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশ উপেক্ষা করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাকে একাকি বন্দি করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার।

আগস্টে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া লিখিত জবাবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইমরান খান সরকারের কোনো নির্বাহী আদেশে আটক নন বরং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দেওয়া সাজা ভোগ করছেন একজন ‘দণ্ডিত বন্দি’ হিসেবে।

৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতি ও ঘুষসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন এবং সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুলাইমান ও তার ভাই কাসিম খানকে বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালানোর জন্য পাকিস্তান সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। পাঞ্জাব প্রদেশের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে তাদের আটক করা হয়েছিল। সোমবার প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা তাদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর কথা জানান।

এদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আয়োজিত একটি সমাবেশে হাজারো সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের দিকে দীর্ঘ পদযাত্রা করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ইমরানের মুক্তি, কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ বাড়ানো এবং পছন্দের চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন।

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পিটিআই এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘জরুরি অবস্থার আড়ালে অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলন দুর্বল করতেই কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কারাগারে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে বিরোধ এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে। তার জীবননাশের আশঙ্কা এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুলাইমান খানের বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

জনতার কণ্ঠ / কেএম