সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম Logo সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতা গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের Logo খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু Logo শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ Logo মাধবদীতে সুতা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, বিপাকে টেক্সটাইল মিল মালিকরা Logo ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান Logo এআই যেন কোনোভাবেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

আশুলিয়ায় ৭০ কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: শিল্প পুলিশ

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশিল্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। বাহিনীটির-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু আছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করছিল। এ সময় কয়েকজনকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।”

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।”

গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো তাদের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কেউ আটক নেই। এ ছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি এপিসিসহ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।”

মামলার বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ একযোগে কাজ করছে। দুই বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শ্রমিকরা কর্মপ্রিয় মানুষ। তারা কাজ করতে চান। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাদের (শ্রমিক) ইন্ধন জোগাচ্ছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিয়ে তাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময় শ্রমিকরা একত্র হয়ে হইচই করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিল্প পুলিশ সুপার জানান, সরকার ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মালিকপক্ষ নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গিয়ে আবারও উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বাইরে থেকে দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি এসে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে তারা উসকানি দিচ্ছেন। এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তারা জানেন না। তবে, তারা শ্রমিক নন, বহিরাগত উসকানিদাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বেশ সক্রিয়। কোথায় শ্রমিকেরা নামছেন, কোথায় গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে কিংবা কোথায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে তারা প্রচার চালাচ্ছেন।

জনতার কণ্ঠ / কেএম

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম

আশুলিয়ায় ৭০ কারখানা বন্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: শিল্প পুলিশ

আপডেট টাইম : ০২:০০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশিল্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। বাহিনীটির-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু আছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করছিল। এ সময় কয়েকজনকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।”

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।”

গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো তাদের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কেউ আটক নেই। এ ছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি এপিসিসহ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।”

মামলার বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ একযোগে কাজ করছে। দুই বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শ্রমিকরা কর্মপ্রিয় মানুষ। তারা কাজ করতে চান। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাদের (শ্রমিক) ইন্ধন জোগাচ্ছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিয়ে তাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময় শ্রমিকরা একত্র হয়ে হইচই করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিল্প পুলিশ সুপার জানান, সরকার ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মালিকপক্ষ নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গিয়ে আবারও উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বাইরে থেকে দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি এসে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে তারা উসকানি দিচ্ছেন। এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তারা জানেন না। তবে, তারা শ্রমিক নন, বহিরাগত উসকানিদাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বেশ সক্রিয়। কোথায় শ্রমিকেরা নামছেন, কোথায় গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে কিংবা কোথায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে তারা প্রচার চালাচ্ছেন।

জনতার কণ্ঠ / কেএম