নরসিংদীর মাধবদীর সুতা বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে বিপাকে পড়েছেন টেক্সটাইল শিল্পের মালিকরা। বাজারের গুটিকয়েক সুতা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন কাপড় উৎপাদনকারী মিল মালিকরা। অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানার কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী টেক্সটাইল মালিকদের অভিযোগ, মাধবদী বাজারের গরুরহাট এলাকার চার-পাঁচজন সুতা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের ইচ্ছামতো নির্ধারিত দামে সুতা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং সুতা কিনতে গিয়ে মিল মালিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সুতার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কাপড় উৎপাদনের সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত কাপড় বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে মিল মালিকদের।
তাদের দাবি, এ পরিস্থিতিতে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে সুতা বাজারে অস্থিরতা কমছে না।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মাধবদী বাজারের সুতা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ওঠা সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা। পাশাপাশি বাজারে সুতার দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুতা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















