বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাইলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব মঞ্চ হয়ে গেছে, আজাদি, যার সঙ্গে বাংলার সাথে সম্পর্ক নাই। আমি যে বললাম, হয়তো দেখা যাবে আমাকে ব্র্যান্ড করে ফেলবে ভারতীয় দালাল, র’এর দালাল। কিন্তু আমি বলবো, এইটা বলার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, জীবন দিতে গিয়েছিলাম। এই ভূখন্ড তৈরি হয়েছে বলেই আমি মন্ত্রী হয়েছি। দেশকে ভালোবাসতে শুধু বক্তৃতা নয়, পরিশিলীত হতে হবে। তবেই বাংলা ভাষা রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমাদের ভাষাটাকে কিন্তু সুরক্ষিত করতে পারি নাই। এ জন্যই পারি নাই, আমরা ইতিহাসের ব্যাপারে যত্নবান ছিলাম না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সেই জাতি উন্নতি করতে পারে না।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নিজের ভাষাটাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করি নাই বলে আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ জন্ম হয়নি। এই যে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বলে ইনকিলাব। ইনকিলাব তো অন্যদের ভাষা, যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আমার রক্তক্ষরণ হয়। আমি নিজেকে মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী মনে করি। সেজেন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম জীবন দেওয়ার জন্য। ছাত্রজীবনে সমাজ পরিবর্তণের জন্য রাজনীতি করতাম। ইনকিলাব, আজাদি যেটা আমাদের ভাষাই নয়, সেটিই আমাদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষার যে ইতিহাস, অনেক কম ভাষারই এমন ইতিহাস আছে। নিজেকে ভালবাসুন, নিজের ভাষাকে ভালোবাসুন, নিজের যা সবকিছুকে ভালোবাসুন। তাহলেই দেশ ঘুরে দাঁড়াবে। নিজের ভাষা, নিজের সাংস্কৃতি আমাদের গড়তে হবে, কেউ গড়ে দিয়ে যাবে না। একুশে ফেব্রুয়ারি আসলো ফুল দিলাম, মায়ের ভাষায় গান গাইলাম, সভা সেমিনার করলাম তারপর শেষ, তাহলে তো চলবে না।
আমাদের মধ্যে হীনমন্যতা আছে যে, বাংলা ভাষাটা একটু নীচু, ইংরেজী ভাষা একটু উচু। ইংরেজী বললে কুলীন, বাংলা বললে এভারেজ। শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে নয়, শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে অনেক বেশি আছে। ভালো ইংরেজী না বলতে পারলে সমাজে সমাদৃত হয় না।
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মন্তব্য করেন, তারা মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকেছে, মাথা খেয়েছে, বেহেশতের টিকিট। আমাদের অর্ধশিক্ষিত মা বোনদের মধ্যে ওয়ার্ক করেছে। তা না হলে ভোটের প্যার্টান এরকম হওয়ার কথা না।
ভাষা দিবসে প্রোগ্রাম করলাম, কালচালারাল অনুষ্ঠান করলাম, এটা করলেই শুধু হবে না। আমরা কিন্তু রিয়াল থ্রেডের মধ্যে আছি। তরুণ প্রজন্মকে ভাবতে হবে, নইলে আস্তে আসে এক্সট্রিম ব্রাইটের দিকে চলে যাবে। এই যে গণতন্ত্র শুরু হয়েছে, আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটছি। কিন্তু পরবর্তীতে কি হবে আমরা বলতে পারবো না।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ করুণা রানী সাহা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক কামরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
এর আগে শনিবার ভোররাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তির সোপান শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন মন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















