সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

ইরানের বাজারে আইফোন ১৮-সহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্য, দাম বেশি

নিষেধাজ্ঞা ও আমদানি জটিলতা সত্ত্বেও তেহরানের চারসু মলের মতো বিপণিবিতানে সর্বশেষ মডেলের মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব ফোন কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। ছবি: আলজাজিরা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বাধা সত্ত্বেও ইরানের বাজারে আসছে সর্বশেষ মডেলের স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য। তবে সরকারি শুল্ক, নিবন্ধন ফি ও আমদানি জটিলতার কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের আইফোন ১৮ সিরিজ বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই মডেলগুলো বিক্রি শুরু হয় তেহরানের বিভিন্ন দোকানে। ইরানে অ্যাপলের সরাসরি কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

 

 

 

তেহরানের বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার চারসু মলের এক ব্যবসায়ী আলজাজিরাকে জানান, এখন ফোন আমদানির প্রক্রিয়া অনেক বেশি জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে অনেক পণ্য ইরানে আসত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৯ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের ঘোষণা দেয়।

 

 

এরপর কিছু ব্যবসায়ী ওমান থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে ফোন আনার চেষ্টা করেন। সেপ্টেম্বরে ইরানের সব বিমান সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর বিমান চলাচল আরও কমে যায়। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমানে অধিকাংশ ফোনই চোরাই পথে দেশে ঢুকছে। অনেক পণ্য ইরাকে নিয়ে আসার পর সেখান থেকে স্থলপথে ইরানে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

ফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, কম্পিউটারের গ্রাফিকস ও প্রসেসিং ইউনিট, প্লেস্টেশন এবং স্টারলিংকের যন্ত্রপাতিও নানা পথে ইরানের বাজারে আসছে। তবে দাম অনেক বেশি। তেহরানে চলতি সপ্তাহে অ্যাপলের ১৫ ইঞ্চি ম্যাকবুক এয়ার এম৪-এর দাম পড়েছে ১ হাজার ৪৫০ ডলারের বেশি, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের গড় খুচরা দামের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। এক টেরাবাইটের প্লেস্টেশন ৫ স্লিম ডিস্ক সংস্করণের দাম প্রায় ৭৩০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দোকানের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

 

 

 

মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি। আমদানি করা ফোনের নিবন্ধন ফি সরকারকে না দিলে ৩০ দিন পর সেটিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায় না। প্রায় ১০ বছর আগে চোরাচালান ও দুর্নীতি ঠেকানোর কথা বলে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ফোনের মূল্যের ওপর নির্ভর করে আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে অন্যান্য সরকারি ফি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়ারেন্টি বাবদ খরচ যুক্ত হলে কোনো কোনো ফোনের অতিরিক্ত ব্যয় মূল দামের অর্ধেক ছাড়িয়ে যায়।

নিবন্ধন করালেও ইন্টারনেট ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। ইরান সরকার অনলাইনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বিভিন্ন বিদেশি সেবা ব্যবহারের সুযোগও সীমিত।

 

 

 

ইরানের রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট তাসনিম সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের মোবাইল ফোন আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ফোনের দাম ছিল ৬০০ ডলারের বেশি। এছাড়া বিমানে আসা যাত্রীরা প্রায় ৪৭ কোটি ডলারের ফোন এনেছেন, যার বেশির ভাগই উন্নত মডেলের। চোরাই পথে আসা ফোনের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

ইরানের বাজারে আইফোন ১৮-সহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্য, দাম বেশি

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বাধা সত্ত্বেও ইরানের বাজারে আসছে সর্বশেষ মডেলের স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য। তবে সরকারি শুল্ক, নিবন্ধন ফি ও আমদানি জটিলতার কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের আইফোন ১৮ সিরিজ বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই মডেলগুলো বিক্রি শুরু হয় তেহরানের বিভিন্ন দোকানে। ইরানে অ্যাপলের সরাসরি কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

 

 

 

তেহরানের বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার চারসু মলের এক ব্যবসায়ী আলজাজিরাকে জানান, এখন ফোন আমদানির প্রক্রিয়া অনেক বেশি জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে অনেক পণ্য ইরানে আসত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৯ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের ঘোষণা দেয়।

 

 

এরপর কিছু ব্যবসায়ী ওমান থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে ফোন আনার চেষ্টা করেন। সেপ্টেম্বরে ইরানের সব বিমান সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর বিমান চলাচল আরও কমে যায়। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমানে অধিকাংশ ফোনই চোরাই পথে দেশে ঢুকছে। অনেক পণ্য ইরাকে নিয়ে আসার পর সেখান থেকে স্থলপথে ইরানে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

ফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, কম্পিউটারের গ্রাফিকস ও প্রসেসিং ইউনিট, প্লেস্টেশন এবং স্টারলিংকের যন্ত্রপাতিও নানা পথে ইরানের বাজারে আসছে। তবে দাম অনেক বেশি। তেহরানে চলতি সপ্তাহে অ্যাপলের ১৫ ইঞ্চি ম্যাকবুক এয়ার এম৪-এর দাম পড়েছে ১ হাজার ৪৫০ ডলারের বেশি, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের গড় খুচরা দামের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। এক টেরাবাইটের প্লেস্টেশন ৫ স্লিম ডিস্ক সংস্করণের দাম প্রায় ৭৩০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দোকানের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

 

 

 

মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি। আমদানি করা ফোনের নিবন্ধন ফি সরকারকে না দিলে ৩০ দিন পর সেটিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায় না। প্রায় ১০ বছর আগে চোরাচালান ও দুর্নীতি ঠেকানোর কথা বলে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ফোনের মূল্যের ওপর নির্ভর করে আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে অন্যান্য সরকারি ফি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়ারেন্টি বাবদ খরচ যুক্ত হলে কোনো কোনো ফোনের অতিরিক্ত ব্যয় মূল দামের অর্ধেক ছাড়িয়ে যায়।

নিবন্ধন করালেও ইন্টারনেট ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। ইরান সরকার অনলাইনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বিভিন্ন বিদেশি সেবা ব্যবহারের সুযোগও সীমিত।

 

 

 

ইরানের রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট তাসনিম সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের মোবাইল ফোন আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ফোনের দাম ছিল ৬০০ ডলারের বেশি। এছাড়া বিমানে আসা যাত্রীরা প্রায় ৪৭ কোটি ডলারের ফোন এনেছেন, যার বেশির ভাগই উন্নত মডেলের। চোরাই পথে আসা ফোনের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।