সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কবির দায়বদ্ধতা

ছবি: বিপুল চন্দ্র রায়

বিপুল চন্দ্র রায়

 

 

কবিতা তো শুধু শব্দ নয়, এক অবরুদ্ধ আত্মার মুক্তি,
অন্যায়ের আঁধারে জ্বলে ওঠা, এক চিরন্তন যুক্তি।
কবির কবিতা কোনো সস্তা খ্যাতির কাঙাল নয়,
সে তো এক অবাধ্য দ্রোহের শাণিত নামান্তর।

 

যেখানে চাটুকারিতার আসরে সত্য হয় নিলাম,
সেখানে কবির শব্দরা করে নির্ভীক যুদ্ধ ঘোষণা।
কবিতা কোনো ড্রয়িংরুমের সুদৃশ্য শোপিস নয়,
বরং উত্তপ্ত রাজপথের একমুঠো তপ্ত স্লোগান।

 

কবি যখন লেখেন, তিনি তখন কভু একা নন,
কলমের ডগায় ভিড় করে সেই নির্বাক মানুষগুলো,
যাদের কথা বলার অধিকার সস্তায় বিক্রি হয়েছে,
কবি তাদের জীবনের তরে লড়ে যান আমরণ।

 

কবিকে ভাবায়
মিশে থাকে ফুটপাতে শোয়া আকাশের মানচিত্র,
কবিকে আরও ভাবায়
শ্রমিকের ফাটা গোড়ালি থেকে ঝরে পড়া রক্ত।
নিস্তব্ধ মাঝরাতে যখন চিরে ওঠে শিশুর আর্তনাদ,
ক্ষুধার জ্বালায় কাঁপে যখন আগামীর ভবিষ্যৎ,
তখনই সাদা পৃষ্ঠায় নামে এক প্রচণ্ড প্লাবন,
অক্ষরগুলো হয়ে ওঠে এক একটি জ্বলন্ত দহন।

 

কবির কোনো ট্রফি নেই, নেই কোনো মেডেল,
তাঁর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সত্য চিনে নেওয়া এক জোড়া চোখ,
আর অন্যায়ের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হওয়া এক জোড়া হাত,
যা যুগান্তরের আর্তনাদে খোলে মুক্তির রুদ্ধদ্বার।

 

কবির কবিতা কোনো বিশ্রামের আয়েশী ছায়া নয়,
বরং আগন্তুক বিপ্লবের এক অনির্দিষ্ট রণধ্বনি।
পুরস্কারের মোহে নয়, কবি তো কেবল বেঁচে থাকেন,
লাঞ্ছিত মানুষের বুক চিরে আসা গগনবিদারী চিৎকারে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

কবির দায়বদ্ধতা

আপডেট টাইম : ০৮:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বিপুল চন্দ্র রায়

 

 

কবিতা তো শুধু শব্দ নয়, এক অবরুদ্ধ আত্মার মুক্তি,
অন্যায়ের আঁধারে জ্বলে ওঠা, এক চিরন্তন যুক্তি।
কবির কবিতা কোনো সস্তা খ্যাতির কাঙাল নয়,
সে তো এক অবাধ্য দ্রোহের শাণিত নামান্তর।

 

যেখানে চাটুকারিতার আসরে সত্য হয় নিলাম,
সেখানে কবির শব্দরা করে নির্ভীক যুদ্ধ ঘোষণা।
কবিতা কোনো ড্রয়িংরুমের সুদৃশ্য শোপিস নয়,
বরং উত্তপ্ত রাজপথের একমুঠো তপ্ত স্লোগান।

 

কবি যখন লেখেন, তিনি তখন কভু একা নন,
কলমের ডগায় ভিড় করে সেই নির্বাক মানুষগুলো,
যাদের কথা বলার অধিকার সস্তায় বিক্রি হয়েছে,
কবি তাদের জীবনের তরে লড়ে যান আমরণ।

 

কবিকে ভাবায়
মিশে থাকে ফুটপাতে শোয়া আকাশের মানচিত্র,
কবিকে আরও ভাবায়
শ্রমিকের ফাটা গোড়ালি থেকে ঝরে পড়া রক্ত।
নিস্তব্ধ মাঝরাতে যখন চিরে ওঠে শিশুর আর্তনাদ,
ক্ষুধার জ্বালায় কাঁপে যখন আগামীর ভবিষ্যৎ,
তখনই সাদা পৃষ্ঠায় নামে এক প্রচণ্ড প্লাবন,
অক্ষরগুলো হয়ে ওঠে এক একটি জ্বলন্ত দহন।

 

কবির কোনো ট্রফি নেই, নেই কোনো মেডেল,
তাঁর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সত্য চিনে নেওয়া এক জোড়া চোখ,
আর অন্যায়ের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হওয়া এক জোড়া হাত,
যা যুগান্তরের আর্তনাদে খোলে মুক্তির রুদ্ধদ্বার।

 

কবির কবিতা কোনো বিশ্রামের আয়েশী ছায়া নয়,
বরং আগন্তুক বিপ্লবের এক অনির্দিষ্ট রণধ্বনি।
পুরস্কারের মোহে নয়, কবি তো কেবল বেঁচে থাকেন,
লাঞ্ছিত মানুষের বুক চিরে আসা গগনবিদারী চিৎকারে।