সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কামারখন্দে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে কামারখন্দ থানার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার (১জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার চৌবাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মৃত রফিক সরকারের ছেলে মো. মনিরুল সরকার (২৬) এবং রায় দৌলতপুর গ্রামের মো. ইনসান আলীর ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (২৯)।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।

গজারিয়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৭ জন আটক

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার চর বলাকী গ্রামে স্থানীয় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৭ (সাত) জনকে আটক করা হয়েছে।
এ সংক্রান্তে গজারিয়া থানায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু করা হয়। এর আগে সোমবার (১ জুন) চর বলাকী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন চর বলাকী গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬৫), মৃত ফজলুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রধান (৫০),  মাহফুজ প্রধানের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩২), শুকুর আলীর ছেলে মোঃ জান্নাত (৩১), টান বলাকী গ্রামের মাহফুজ মেম্বারের ছেলে  মোঃ মাসুম (৪৫) ও মনজুর আলম (৪৪) এবং কেরামত আলী মাস্টারের ছেলে মোঃ মাজহারুল।
পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদেরকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে  অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নরসিংদীতে অস্ত্র ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়

নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার বাঁশগাড়িতে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে মটর সাইকেলসহ পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায়ের  অভিযোগ পাওয়া গেছে অত্র এলকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট রুবেলে বিরুদ্ধে। ঈদের চারদিন আগে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা গেছে, টঙ্গী হিমারদীগি কেরানীর টেক এলকার বাসিন্দা মোঃ অনিক শেখ ঈদের আগে অত্র বাঁশগাড়ি এলাকায় মটর সাইকেল করে তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলো।

 

কিন্তু হঠাৎ একদল যুবক আচমকা এসে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার মটর সাইকেল সহ তাকে চোখ বেধে নিয়ে যায়। পরবর্তী তাকে দুইদিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালাই বলে অভিযোগ করে তিনি। তারপর মোবাইল যোগে তার পরিবারে কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপন, তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় যদি মুক্তিপনের টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।

 

এসব হুমকি ও দিনবর অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় করে অত্র এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট রুবেল। এবং তার সাছে থাকা আর ওয়ান ফাইভ মটর সাইকেলটি (যার রেজিষ্টেশন নং- ঢাকা মেট্রো-ল ৭১-৮৬২৬) ছিন্তাই করে রেখে দেয়।

 

এবিষয়ে আরোও জানা যে, এই ছোট রুবেল তার সন্ত্রাসী বাহানী প্রকাশ্যে অস্ত্র মহরা দিয়ে বিভিন্ন জনের ভূমি দখল সহ মানুষকে আটকে রেখে মুক্তিপন আদায় করেন।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সংবাদকর্মীরা বাঁশগাড়ি এলাকায় গেলে  মো. হাসিম হাসিম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন,  এই ছোট রুবেল কাঁধে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এতে করে গ্রামে আতঙ্ক ছড়াই। তার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায় ও মুক্তিপন আদায় করে। তাই তার বিষয়ে কেউ মুখ খোলতে ভয় পায়।

 

রায়পুরা থানার ওসির নিকট মোবাইল যোগে জানতে চাইলে, তিনি সংবাদ কর্মীদেরকে জানান বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন,  অপরাধ যেই করুক না কোনো কেউ আইনের উর্ধে না, আমরা মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় যেই অপরাধ করুক না কোনো আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

 

তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের

আসন্ন তাড়াশ পৌরসভা নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক সাকলাইন আহমেদ হৃদয়।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয় তাড়াশ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে বর্তমানে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল পদে আছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয় তার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, _”আমি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছি ৫নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবা করার জন্য। আমার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাঙা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। নির্বাচিত হলে এই তিনটি সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবো। এছাড়া ওয়ার্ডের প্রতিটি গলিতে স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা আছে।”
তিনি আরও বলেন, _”আমি বিএনপির রাজনীতি করি, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আমার পরিচয় হবে শুধু ৫নং ওয়ার্ডের সেবক। দল-মত নির্বিশেষে সকল ভোটারের অধিকার রক্ষায় আমি কাজ করবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আমার রাজনীতির মূলমন্ত্র।”
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের নাম ঘোষণার পর ৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের মতো জনবান্ধব প্রতিনিধি পেলে ৫নং ওয়ার্ডের চেহারা পাল্টে যাবে।

 

রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে ব্যানার। তাঁদের কণ্ঠে একটাই দাবি—মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শান্ত (২৫) নামের যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহসভাপতি রিনা বেগম এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুর।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “গত ২৬ এপ্রিল আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমার মেয়ের সঙ্গে জঘন্য ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমি কোনো আপস চাই না। আমি আমার মেয়ের বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “একজন অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পরও যদি অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের ফাঁসি ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

শেষ বিদায়ে তোফায়েল আহমেদ, অনুষ্ঠিত জানাজা

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এর আগে, জানাজা ঘিরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের ২য় জানাজার জন্য প্রস্তুত করা হয় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ। তবে জানাজাটি ঘিরে জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এদিকে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটুর নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী জানাজাস্থলে এসে জানাজা করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, জানাজাকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া হয় তবে তারা তা প্রতিহত করবে। পরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম জানাজাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে যান।

সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটু বলেন, ২০২২ সালে গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি নুরে আলম নিহত হন। তার জানাজা সরকারি স্কুল মাঠে আয়োজন করলে করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ নুরে আলমের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।

 

গাজীপুরে প্রতিবেশীদের দ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন যুবক

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘর্ষে আজিজুল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে সোমবার (১ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত আজিজুল উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ি এলাকার মো. হানিফ মিয়ার ছেলে। 

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ী এলাকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে আজিজুল তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। এ সময় প্রতিবেশী শামীম ও জালাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে আজিজুলের কাছে জানতে চায় কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে।

 

 

এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়‌। পরে আজিজুলের সঙ্গে প্রতিবেশী শামীম ও জালাল উদ্দিনদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এক পর্যায়ে লাঠির আঘাতে আজিজুল গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

 

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা নিহত অন্তত ১০

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানী কিয়েভ ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রো। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে চারজন এবং দিনিপ্রোতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ।

 

 

হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে।

 

 

কিয়েভের মেয়র জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন রুশ বাহিনীর পরপর দুটি হামলায় আংশিক ধসে পড়েছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লাভ কমে আসা এবং হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

মঙ্গলবার জিএমটি ৭টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৩২.৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৬২.৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

 

 

মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার দিকে। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে ভিন্নধর্মী বার্তা আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও স্বর্ণবাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

 

 

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।

 

এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। পরে আদালত দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মূলতবি করে পরবর্তীতে আজ (মঙ্গলবার) আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বলেন, সব সাক্ষী আদালতে উপস্থিত আছে। সময় সংকুলান হলে আজই সবার সাক্ষ্য শেষ হতে পারে।

এদিকে সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।

 

 

এর আগে গতকাল (সোমবার) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

 

 

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

 

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

 

ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অযৌক্তিক বলল ফ্রান্স

লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট।

 

 

ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননের অভ্যন্তরে গভীরভাবে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি এবং চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকতে পারে না।

 

 

বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতও থেমে নেই। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, ইরান হিজবুল্লাহর প্রধান মিত্র হিসেবে এখনো সমর্থন বজায় রেখেছে। দেশটি জানিয়েছে, লেবাননে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো শান্তি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

ফ্রান্স লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর এবং যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগেও দেশটি এমন আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী কোনো আন্তর্জাতিক আহ্বানই পাত্তা দিচ্ছে না।

 

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি সাংস্কৃতিক বন্ধন: সহকারী হাইকমিশনার

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিকভাবে গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভবনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মনোজ কুমার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি আশা করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও অগ্রসর হবে।

তিনি আরও বলেন, যোগব্যায়ামের ইতিহাস, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং বিশ্বব্যাপী এর বিস্তৃত প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, রাজশাহী–৩ ও রাজশাহী–৫ আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

পরে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগব্যায়াম অনুশীলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

রামিসার মরদেহ উদ্ধারের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত, জানালেন বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে মেয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা। সাক্ষ্যতে শিশু রামিসাকে কীভাবে দরজা ভেঙে লাশ খুঁজে পান, ওইসময় কী করেছিলেন ও কী কী দেখেছিলেন তা জানান তিনি।

 

 

সাক্ষ্যগ্রহণে মান্নান মোল্লা আদালতে জানান, স্ত্রীর ফোন পেয়ে ৩০ মিনিটের ভেতর বাসায় আসেন। এসে দেখেন অনেক মানুষ দরজার সামনে জড়ো। দরজা না খোলায় হাতুড়ি নিয়ে আসেন। এরপর লক তালা ভাঙার পর দেখেন ভেতরে আসামি স্বপ্না। বাথরুমে পড়ে আছে রক্ত।

 

 

দরজা ভাঙার পর আসামি স্বপ্নাকে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে কোথায়?’ কিন্তু তখন চুপ ছিলেন স্বপ্না। পরে বাথরুমে রামিসার খণ্ডিত মাথা দেখতে পান।

মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তিনি।

এদিন প্রথমে রামিসার বাবা সাক্ষ্য দেন। দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। সকাল ১১টা ৩ মিনিটের দিকে পারভীনের সাক্ষ্য শুরু হয়। এসময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা আদালতে বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হই। এরপর বনানীর কাকলীতে অফিসে যাই। অফিসে যাবার পর ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আমার স্ত্রী পারভীন আক্তার আমাকে ফোন করেন। ফোন পেয়ে বাসায় যাই ৩০ মিনিটের ভেতর।’

 

 

‘এসে দেখি আমার বাসার বিল্ডিংয়ের মেইন গেইটের সামনে অনেক লোক জড়ো। এরপর আমি দৌড় দিয়ে তিন তালায় আমার ফ্ল্যাটের সামনে যাই। সেখানেও দেখি অনেক লোক জড়ো হয়ে আছে। তখন আমার স্ত্রী বলেন, সোহেলদের ফ্ল্যাটের মধ্যে আমাদের মেয়ে রামিসাকে আটকে রেখেছে। সেখানে রাজু, আমার স্ত্রীসহ অনেকে ছিল। রাজু তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল,’ বলেন তিনি।

 

 

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলেনি। তাই আমি নিচে দৌড়ে তাড়াতাড়ি গিয়ে একটা হাতুড়ি নিয়ে আসি। এরপর আমি দরজার বোল্ড লক ভাঙার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে বোল্ড লক ভাঙা হয়। সে লকের ছিদ্র দিয়ে স্বপ্নাকে দেখি। টয়লেটের রুমের ভিতর দেখি অনেক রক্ত। তখন দরজা ভাঙার পর সোহেল-স্বপ্নার কমন রুমের দরজা বন্ধ পাই। স্বপ্নাকে বলি আমার মেয়ে কোথায়? কিন্তু স্বপ্না কিছু বলে না। চুপ ছিল। পরে টয়লেটে বালতির মধ্যে মেয়ের খণ্ডিত মাথা দেখি। তার দেহ খোঁজার জন্য দুই রুমে থাকা দমদরজাও ভেঙে ফেলা হয়। সেখানেও নেই। এরপর সোহেলদের রুমের ভেতর স্টিলের খাটের নিচে মাথাবিহীন আমার মেয়ে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। তারপর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। আমি থানায় মামলা করি।’

 

 

সাক্ষ্য শেষে আব্দুল মান্নানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ। এরপর বেলা ১১টার দিকে তার জেরা শেষ হয়। এরপর ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এদিন আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন- ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

 

 

এদিকে সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে। এসময় তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।

 

 

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল।

 

 

তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকে আসক্ত থাকতেন সোহেল। ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে বাথরুমে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। রামিসা চিৎকার করে কান্নাকাটি করায় ও পরিবারকে জানানোর কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে মাথা ও হাত কেটে হত্যা করে সোহেল। এ ছাড়া লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না।

 

রায়গঞ্জে শীর্ষ ডাকাতসহ ৬ আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও নিয়মিত মামলার ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২ জুন) রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুখ্যাত ডাকাত আক্তার মন্ডল (৫০)। তিনি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর কোদলা গ্রামের সোনা মন্ডলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ৪ ধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

 

এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন— আবু তালেব (২৮), পিতা আলিমুদ্দিন, গ্রাম বন্দিহার; মো. রেজাউল করিম (৪০), পিতা আবুল হোসেন, গ্রাম চান্দাইকোনা; রিপন (২৩), পিতা মজিদ সেখ, গ্রাম চর ব্রাহ্মণবাড়িয়া; মো. শয়ন মিয়া ওরফে জাকারিয়া (৩০), পিতা স্বপন মিয়া, গ্রাম চান্দাইকোনা এবং নিয়মিত মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী ভুট্ট খলিফা (৩৮), পিতা রইচ উদ্দিন, গ্রাম নিঝুরি উত্তরপাড়া।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু তালেবের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলা, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক মামলার ওয়ারেন্ট এবং অপর আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ স্কোর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।”

 

মায়ের মৃতদেহে পচন, খোঁজ নেয়নি বুয়েট শিক্ষক ‍ও যুগ্নসচিব ছেলে

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ এবং পারিবারিক দায়িত্বহীনতা নিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ওই বাসায় যায়। পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

পুলিশের ধারণা, নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে। এ সময় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পচনজনিত ক্ষয় দেখা যায়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বশির জানান, নুরজাহান বেগম ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মেয়েটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। বৃদ্ধা দীর্ঘ সময় সাড়া না দেওয়ায় একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন নার্সকে ডাকা হয়। পরে নার্স ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে বাসার কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায়। সেখানে পরিচর্যার অভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

 

ওসি মো. হাসান বশির আরও জানান, নিহত নুরজাহান বেগমের পরিবারে দুই ছেলে রয়েছেন। তাদের একজন সরকারি যুগ্মসচিব এবং অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তারা আলাদা বাসায় থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বজনদের দায়িত্ব ও বৃদ্ধা নারীর দীর্ঘদিনের একাকিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন একটি ঘটনায় উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ সন্তানদের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ সরকারে ‘অস্বস্তি’

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীপেন দেওয়ান সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে,তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে সরকার ও প্রশাসনে। এদিকে দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, শিগগির মন্ত্রিসভায় কয়েকটি নতুন মুখ যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেইসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে।

 

গতকাল দেওয়া পদত্যাগপত্রে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে তিনি পদত্যাগ করে অন্যদের মনেও ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন। সরকার নতুন। আমরাও নতুন। সবকিছু এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। ফলে একটু টেনশন তো হয়-ই। কখন আবার ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে চলে আসে। তবে দীপেন দেওয়ান অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। মন্ত্রিসভায় এমন লোকের দরকার ছিল।

 

দীপেন দেওয়ান কেন পদত্যাগ করেছেন—এমন প্রশ্ন সচিবালয়ের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউই সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারছেন না। এ নিয়ে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে সরকারের ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে।

 

৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

 

২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

 

দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি ‘বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অন্যতম সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তিনিও পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা।

 

পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

পদত্যাগ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ: দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখান। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের প্রধান পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন।

 

রাঙামাটি বিএনপি অফিসের সামনে প্রায় আধাঘণ্টার জন্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা তীব্র ভোগান্তির শিকার হন।

 

রাঙামাটি জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, বিএনপি বা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কারও সঙ্গে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। তিনি হঠাৎ করে কেন পদত্যাগ করলেন তা বুঝতে পারছি না। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তিনি তো সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় দুর্গম পাহাড়ে গিয়েছেন। তাহলে তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ করছি।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনছি পদত্যাগের বিষয়টি। তিনি আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ আমরা মেনে নিতে পারছি না। এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় মন্ত্রী পদে বহাল করার।

 

শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ: সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মুখ দেখা যাবে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ এমপির নাম বেশ আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি নরসিংদী থেকে আরও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন নারী এমপির নাম মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনা রয়েছে। আর বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিগগির দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

সূত্র: কালবেলা

 

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে শিশুসহ প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উপজেলার মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, একটি প্রাইভেটকার ভোরে ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার পথে মালীগ্রাম এলাকায় একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন।

 

এসময় একটি শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

 

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিশুটির মৃত্যু হয়।

 

শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

 

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশা, কম দৃশ্যমানতা কিংবা দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিতে পারেন।

 

চৌহালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: আটক ২

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মাস্ক পরে ঝটিকা মিছিল করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে।

 

রোববার (৩১ মে) বিকেলে ও সন্ধ্যায় উপজেলার পৃথক স্থান থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাদের আটক করে।আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চরসলিমাবাদ গ্রামের সাইফুল মোল্লার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী এস এন সাব্বির হোসেন (১৯) এবং রেহাইপুখুরিয়া গ্রামের মাসুদ জামানের ছেলে মুত্তাকিন হোসেন (২১)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে মুখমণ্ডলে মাস্ক পরিধান করে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। পরে এই ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী এস এন সাব্বিরকে রোববার বিকেলে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই পূর্বপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে একই দিন সন্ধ্যার দিকে রেহাইপুখুরিয়া এলাকা থেকে অপর কর্মী মুত্তাকিন হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌহালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মাস্ক পরে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের শাহজাদপুর থানার একটি চলমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেটের দাবি

চার শতাধিক চরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেটের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১ টার সময় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় চরাঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি কথা তুলে ধরা হয়। নদী ভাঙন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বন্যা, খরাসহ যোগাযোগের মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষের কথা তুলে সম্মেলনে। এবং তাদের বঞ্চিত অধিকার ফিরে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীরা তাদের দাবি আদায়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা প্রতিনিয়ত দুঃখ কষ্টে শিকার হওয়ার বর্ণনা দেন। চরবাসীরা বলেন, গেল ঈদে আমরা ঈদ উৎসব উদযাপন কি জিনিস জানি না। আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্যোগের শিকার হই। বন্যা, খরা, নদী ভাঙন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অনেক ধরনের মৌলিক ন্যায্য অধিকার থেকে আমরা চরের মানুষ বঞ্চিত। বিত্তবান মানুষজন আসে যায় সহযোগিতা করে কিন্তু তা দিয়ে তো জীবন চলে না।
পরে ভুক্তভোগীরা দাবি করে বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমাদের অধিকার চাই। এটা আমাদের নাগরিক অধিকার। দেশে প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বাস করে। আমাদের এই মানুষ গুলোর জন্য চর বিষয়ক একটা মন্ত্রণালয় চাই এবং আমাদের জন্য সরকারি খাত থেকে আলাদা বাজেট করা হোক।
এ সময় জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় চার শতাধিক পরিবার চরের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের প্রতিদিন কোন না কোন সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা প্রায় জেলার সব চরঞ্চলে গিয়ে দেখেছি সব জায়গায় একই অবস্থা। কোথায় চরের মানুষের কোন উন্নতি নাই। তাদের হয়ে কথা বলারও কেউ নাই। আমরা যখন যাই আমাদের কে ঘিরে ধরে অভিযোগ জানায়।
তিনি আরও বলেন, তাদের অধিকার টুকু আদায়ের জন্য আমরা ৭ দফা দাবি তুলে ধরছি। আমরা চাই দেশের সবার মত তাদেরও অধিকার তাদের কে দেওয়া হোক। তাদের প্রতি সঠিক মূল্যায়ন করা হোক।
সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন, চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দীন রিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইদ আহমেদ বাবু, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার প্রমুখ।

ভাড়ার চার্ট না থাকায় সিএনজি মালিক সমিতির জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুন। এ সময় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতির বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কামারখন্দ থেকে সিরাজগঞ্জ রুটে নির্ধারিত ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এছাড়া ভাড়া আরও ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, “অভিযানের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সমিতির চেইন মাস্টার তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।”

 

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

তোফায়েল আহমেদের জানাজা থেকে কয়েকজনে আটক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) এ ঘটনা ঘটে। আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক।

 

জানা গেছে, তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে হঠাৎ উপস্থিত কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যথাসময়ে স্মুথলি মরদেহবাহী গাড়ি যাতে করে যেতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। আর যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কতজনকে আটক করা হয়, সেই সংখ্যাটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। যাচাই-বাছাই করে জানানো হবে।’

 

আটকরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাকে ধরা হয়েছে। তবে যদি আটককৃতদের মধ্যে সাধারণ কেউ থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

 

উল্লেখ্য, আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বর্ষীয়ান এই নেতার পরবর্তী জানাজা হবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে।

 

তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

 

চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে টাকা ছিনতাই: ছুরিকাঘাতে আহত দুই যুবক

নওগাঁর রাণীনগরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুই যুবককে লক্ষ্য করে চোখে-মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল খালেক মন্ডল (৪০)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন তার সঙ্গী সাহাবুল হোসেনও (৩২)।
রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের খলিশাকুড়ি মোড়ের ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহত উভয়ই উপজেলার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, রাতোয়াল গ্রামের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে করজগ্রাম পার হয়ে খলিশাকুড়ি মোড়ের কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়ির সামনে এসে পড়ে। এরপর তারা দুজনের চোখে-মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে প্রায় ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খালেকের পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। খালেককে বাঁচাতে এগিয়ে আসা সাহাবুলও হাতে ছুরিকাঘাত ও মারধরের শিকার হন।
ছুরিকাঘাতে খালেকের পেটের নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়। পরে সড়কে গাড়ির আলো দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় খালেককে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সাহাবুল হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা তিনটি মোটরসাইকেলে ৬ থেকে ৭ জন ছিল। তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে থাকা ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে খালেক মন্ডলের এখনো জ্ঞান না ফেরায় তার কাছ থেকে কোনো টাকা নিয়েছে কিনা জানা যায়নি। এটি ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, তাও স্পষ্ট নয়।”
রাণীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুলফিকার জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত হালিমা’র পরিবারের পাশে কামরুজ্জামান রতন এমপি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গণধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের শিকার সেই গৃহবধু হালিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সোমবার (১ জুন) বিকাল ৫টায় উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়ন এর জামালদী গ্রামের  হালিমার পৈত্রিক বাড়িতে সহমর্মিতা জানানোর জন্য উপস্থিত হন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ডা:হামিদা মোস্তফা,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন আহমদ,জেলা যুব দলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক আসলামুজোহা চৌধুরী তপন,হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক মাহাবুল আলম খাঁন, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,বিএনপি নেতা মমিন মৃধা,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুম আহমেদ,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন যে কোন প্রয়োজনে পরিবারটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,অপরাধীরা জবাববন্দি দিয়েছেন, রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে,আমরাও এ বিষয়ে সজাগ থাকবো এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতরা যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।  তিনি  মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দোয়ার জন্য  পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বেলকুচিতে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার: আটক ২

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর মুকুন্দগাঁতী পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলার পুঠিয়াবাড়ী ও গাইবান্ধা জেলার আসমতপুর থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার বিকালে বেলকুচি থানায় প্রেস বিফিং করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঈমাম জাফর।

প্রেস বিফিং সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে রাতে বেলকুচি পৌর মুকুন্দগাঁতী পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে গাড়ি হারিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশে পাশে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল টি নিয়ে যাচ্ছে। পরে মোটরসাইকেরের মালিক শাহাদৎ হোসেন থানায় লিখিত অভিযোত দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই নয়ন কুমার ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার পুঠিয়াবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৭) ও গাইবান্ধা জেলার আসমতপুর এলাকার এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে আতোয়ার (৩৫)কে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঈমাম জাফর বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শেষ জীবনে কােণঠাসা ছিলেন দাপুটে রাজনীতিক তােফায়েল

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

 

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মি. আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে ছিলেন।

 

তোফায়েল আহমেদ ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ২২শে অক্টোবর।

 

বিরাশি বছর বয়সের দাপুটে এই রাজনীতিক তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে এসে দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

 

যদিও স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচ দশকে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু জীবনের শেষ এক দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে থাকায় তিনি নিজেকে অবহেলিত মনে করতেন।দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারানো মি. আহমেদের মাঝে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ একাধিক রাজনীতিক।

 

তবে তারা বলছেন, দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব, কোন্দলের কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ আদর্শচ্যুত হননি। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই ছিলেন।

 

 

তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কেউ কেউ। তারা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন এবং মন্ত্রিত্ব ও এলাকার রাজনীতি- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোফায়েল আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের শাসনে দুই দফায় মন্ত্রী ছিলেন মি. আহমেদ।

 

 

পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে পড়ায় তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন চলাফেরা করতে।

 

 

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
ছবির ক্যাপশান,স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের নেতা হয়ে ওঠেন যেভাবে

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯ এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি।

 

এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে ছিলেন এবং জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

 

তোফায়েল আহমেদ বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পরই সে সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে প্রথম কাতারে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ। উনসত্তরেই ছাত্রলীগের সভাপতি হন মি. আহমেদ।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল।

 

ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে রুপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

 

ওই বছরই ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করেছিল। সেই জনসভা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদলে যায়। জাতীয়ভাবে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়।

 

রাজনীতিতে প্রভাব

সাতাশ বছর বয়সে মি. আহমেদ ১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।

বাংলাদেশর স্বাধীনতা লাভের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব নিযোগ করেন।

 

সে সময়ের একাধিক রাজনীতিক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার যে রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে তোফায়েল আহমেদের হাতে আনঅফিসিয়ালি সেই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল।

 

মি: আহমেদ ১৯৭৩ সালে নিজের জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও আট বার নৌকা প্রতীকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।

 

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন তিনি ৩৩ মাস জেল খেটেছিলেন।

পরে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সে সময় মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলেন। সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন মি. আহমেদ।

 

শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি মি. আহমেদ। অবশ্য ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দলটির টানা দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

তবে পরের দফায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তার দল আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করলেও সেই মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি তিনি।

 

রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন আন্দোলন গড়ে তোলা, সেই আন্দোলনে তিন জোটের রুপরেখা প্রণয়নে মি. আহমেদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি।

 

তবে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়েছিলেন তোফায়েল আহমদে।

 

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা চতুর্থ দফার আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী হতে পারেননি মি. আহমেদ। তবে ওই সরকারের পতন হয় মাত্র সাত মাসের মাথায় জুলাই গণ-অভ্যুযত্থানে।

 

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকারে মন্ত্রী যেমন হতে পারেননি, অন্যদিকে দলেও তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা।

 

কেন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দলীয় রাজনীতিতে

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। দলটির যে নেতারা সে সময় তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

পরে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে মি. আহমেদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আশির দশকের শেষ দিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়।

 

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নেতারা বলেন, পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনার পর তোফায়েল আহমেদ যদিও জেল খেটেছেন, কিন্তু সে সময় মি. আহমেদ শক্ত অবস্থান নেন নি। এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের।

 

শেখ হাসিনা কয়েকবার বক্তব্যেও তার সেই ধারণা প্রকাশ করেছেন। এটি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শীতল সম্পর্কের একটি বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতাদের অনেকে।

 

আর দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে মি. আহমেদকে।

 

আশির দশকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, মি. আহমেদ তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হতে না পেরে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে।

 

আওয়ামী লীগের নীতনির্ধিারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছিল মি. আহমেদকে। সর্বশেষ তিনি দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না।

 

দলীয় রাজনীতিতে হতাশার বিষয়ে মি. আহমেদ নিজেও ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কাছে বিভিন্ন সময় শেয়ার করতেন।

 

তার সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। যদিও মি. সেলিম কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি করেন। কিন্তু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় দলগুলোর মধ্যে লিঁয়াজো করতে গিয়ে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়েছিল।

 

বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরেননি এবং রাজনীতির যাত্রায় থেমে যাননি।

 

তবে এক এগারোর সরকার হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সময়ে তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভূমিকার জন্য পরবর্তীতে দলের রাজনীততে বেশি বেকায়দায় পড়েছিলেন তারা।

 

সেই সরকার রাজনীতিতে সংস্কারের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা ও বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সে সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ তাদের দল আওয়ামী লীগে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। বিএনপিরও কয়েকজন নেতা তাদের দলে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন।

আওয়ামী লীগেও সংস্কারপন্থী বলে ওই চার নেতার একটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল।

 

সেই এক এগারোর সরকার তাদের সংস্কার ও দুই নেত্রীর মাইনাস করার ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এক পর্যায়ে দুই নেত্রীর নেতৃত্বেই দলদুটো ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছে এবং বিদায় নিতে হয়েছে সেই সরকারকে।

 

কিন্তু রাজনীতিতে কপাল পোড়ে সেই সংস্কারপন্থীদের। তোফায়েল আহমেদ দলে চিহ্নিত হন সংস্কারপন্থী হিসেবে এবং একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলীয় রাজনীতিতে।

 

এরপর টানা সাড়ে পনেরো বছরের আওয়ামী লীগের শাসনে যদিও তোফায়েল আহমেদ একবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল।

 

সেই পরিস্থিতি তোফায়েল আহমেদ কতটা সামলে উঠতে পেরেছিলেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও কারও কারও সেই প্রশ্ন রয়েছে।

 

তবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

এমন এক সময় তিনি চিরবিদায় নিলেন, যখন দলটি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় চরম সংকটে রয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

 

 

গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
​আহতরা হলেন মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক মুসার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক শহর আলীর বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে ঈদগাহ এলাকায় শহর আলীর সঙ্গে মুসার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় এবং অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুসা বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত কয়েক মাস আগে শহর আলী এবং তার ছেলে আমাকে মারধর করেছিল। আজ দুপুর ১২টার দিকে ঈদগাহ এলাকায় আমার সাথে শহর আলীর দেখা হয়। আমি তার কাছে বিষয়টির মীমাংসার ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শহর আলী নিজেকে বিএনপি বলে দাবি করলেও সে মূলত যুবলীগ নেতা নাজমুল হোসেনের লোক।’
যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের পার্টি অফিসসহ আমার বসতঘর এবং নুর ইসলাম, ইকবাল হোসেন, শুক্কুর আলী ও জিকুর ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়।’
​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আনোয়ার হোসেনের লোকজন বিনা উস্কানিতে আমাকে ধাওয়া ও মারধরের চেষ্টা করে। পার্টি অফিস ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়ি ও কার্যালয় ভাঙচুর করে দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটি কোনো দলীয় বিরোধ নয় বরং ব্যক্তি কেন্দ্রিক সমস্যা।’

হিলিতে ৩ মামলা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সুজন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুরে তিনটি ভিন্ন থানার একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. সুজন ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ওই গ্রামেরই তার চাচার বাড়ি থেকে আসামি সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন ইসলাম নওদাপাড়া গ্রামের মো. কাফাজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দিনাজপুরের হাকিমপুর ও বিরামপুর থানা, ঢাকার পল্লবী থানা এবং সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ওয়ারেন্ট থাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় নওদাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর আজ যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আসামিকে বিজ্ঞ দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের এমন বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি: সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’

 

সোমবার (১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

এ সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।

সোমবার এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।

 

এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

 

মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

 

 

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।

 

এ সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা, ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।

 

 

ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

 

রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

 

সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের সেতুতে দর্শনার্থীদের ভীড়

যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উপভোগে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করছেন মানুষ। ঈদকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন ইকোনমিক জোনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেছনে নির্মিত ব্রিজটি এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন এই মনোরম স্থানে। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে কাছ থেকে যমুনা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীর বুকে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। সন্ধ্যার সময় প্রকৃতির অপূর্ব রূপে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।
ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদীর স্বচ্ছ জলরাশি। এক পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অন্য পাশে বিস্তীর্ণ বালুর মাঠ এবং নদীর দুই তীরে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ এ স্থানটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঈদের আনন্দকে ঘিরে ব্রিজের ওপর গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান। ফলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিনোদনের পাশাপাশি উপভোগ করছেন নানা ধরনের খাবারও।
এছাড়া নৌকায় চড়ে যমুনা নদী ও যমুনা সেতুর আশপাশ ঘুরে দেখার সুযোগ থাকায় স্থানটি ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন পুরোপুরি চালু হওয়ার পাশাপাশি এ এলাকার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ইকোনমিক জোনের এই ব্রিজ ও আশপাশের এলাকা ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, নদী, সেতু ও আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয়ে স্থানটি ইতোমধ্যেই বিনোদনপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

চলে গেলে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ

বাংলাদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই।

 

সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি এক মেয়ে, নাতি-নাতনি, রাজনৈতিক সহকর্মীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

 

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। 

 

তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

 

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি থাকাকালীন তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও আরও ৮ বার স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক অধিনায়ক রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর এ সদস্য ১৯৯৬ সালের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

নিখোঁজের ২৬ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে ২৬ দিন পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানাধীন ব্রহ্মগাছা গ্রামের বাসিন্দা বেলি রানী ভৌমিকের মেয়ে পলি কুমারী ভৌমিক (১৭) গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানায় জিডি নং-২৯২, তারিখ ৬ মে ২০২৬ রেকর্ড করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোরীর অবস্থান গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ১ নম্বর কাটাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে পলি কুমারী ভৌমিককে উদ্ধার করা হয় এবং তাকে হেফাজতে রাখা ব্যক্তি রবিউল আলম (৪৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল আলমের পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কয়রা এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত রবিউলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন , কিশোরীর বক্তব্য, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সড়কে বিছানো খড়ে বাইক পিছলে পড়ে প্রাণ গেল শ্যালক-দুলাভাইয়ের

শুকানোর জন্য সড়কের ওপর বিছানো খড় এবার কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে রাস্তায় ছড়িয়ে রাখা খড়ে পিছলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন সম্পর্কে দুলাভাই ও শ্যালক। এঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা বোন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​সোমবার (১ লা জুন) দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন- কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৮) এবং তাঁর শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলটি খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ের ওপর চাকা পিছলে গিয়ে তারা ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনের স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চলতি ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কসহ জেলার বেশিরভাগ সড়কেই নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে রাস্তা দখল করে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। সড়কে শুকাতে দেওয়া এই খড়ের কারণেই মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

​ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল আলম দুর্ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত করে বলেন, রাস্তায় শুকাতে দেওয়া খড়ের কারণেই মোটরসাইকেলটি পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন অগ্রাধিকার : ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।

খবর :আলজাজিরা

সোমবার (১ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা জানি। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

 

বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, আজ সকালেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

ইরানি মুখপাত্র বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তেহরানের রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে। ওয়াশিংটন এসব হামলাকে আত্মরক্ষামূলক অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

 

হান্নান মাসউদের জন্য দুই ঘণ্টা আটকে থাকলো ফেরি: ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সংসদ আদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর (বন্ধ) করা অবস্থায় ফেরি ‘মহানন্দা’তে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হান্নান মাসউদকে যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানায়, ফেরি মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় ছেড়ে আসে।

 

যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। পরবর্তী ফেরি লোড আনলোড ও মাল-গাড়ি উঠানামা করতে সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে ৭টার কিছুক্ষণ আগে বা পরে ফেরি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে ফেরি ছাড়ে প্রায় রাত ৯টার সময়।

 

বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ গাড়িগুলোর জন্য কাউন্টারে বুকিং নিলেও ফেরি আনলোড হওয়ার পর গাড়ি তুলতে দেওয়া হয়নি। এতে মানুষজন প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে।

 

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন ফেরি ছাড়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ছাড়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য এতোগুলো মানুষ যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে উনি কেমন জনপ্রতিনিধি। তাছাড়া সঠিক সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর ও জেলা শহর মাইজদী গিয়ে বাসে না উঠতে পারলে রাতের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সারারাত বাস কাউন্টারে বসে থাকতে হবে, আবার আগামীকাল অফিসেও যাওয়া যাবে না।

 

 

ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, ৫টা ৪০ মিনিটে আমাদের ফেরি নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। আনলোড ও লোডে গড়ে ৪০ মিনিট করে সময়ের দরকার হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এমপি সাহেব আসবেন ফেরি ছাড়তে একটু দেরি হবে। তাই আমরা প্রথমে গাড়িগুলো উঠাতে দেয়নি। এনিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা ৪৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা দেরি হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

তবে এই বিষয়ে সাংসদ হান্নান মাসুদের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোষ্ট করেন। তাতে তারা ফেরি ঘাটের অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঘাট পরিদর্শনে গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। একটি গ্রুপ এই বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন বলে তারা প্রচার করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপ-পরিচালক রাকিবকে সৈয়দপুরে সংবর্ধনা

সৈয়দপুরের সন্তান ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল হাসান রাকিব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এনজিও ব্যুরোতে উপ-পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদল। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস.এম ওবায়দুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সহ-সভাপতি ও তাতীদলের আহ্বায়ক আনিস আনসারি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক এবং এম.এ পারভেজ লিটন।
এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী রশিদুল হক সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ তারেক আজিজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বসুনিয়া মিজু, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান সরকার দিনার এবং পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ কামরান উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোমিনুল ইসলাম রাব্বি।
বক্তারা বলেন, ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই রাকিবুল হাসান রাকিব এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা এ নিয়োগকে সৈয়দপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, তারেক রহমান যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করতে জানেন। রাকিবের এই অর্জন তারই প্রমাণ।
প্রধান বক্তা শাহীন আক্তার শাহীন বলেন, রাকিব অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী একজন কর্মী। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সে আজকের অবস্থানে এসেছে।
সভাপতির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ আরমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

সোমবার (১ জুন) সকালে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত ৪১ সেকেন্ডের একটি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিও ফুটেজে ক্যাপশন দেয়া হয়েছে,” শরীয়তপুর ০১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশনায়…..শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধরন সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল।”

 

বিক্ষোভ মিছিলের ফুটেজে বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার ভোররাতে শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধরন সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে দিয়ে মিছিলটি যাচ্ছিল।

 

“জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাঁসবে, শেখ হাসিন ভয় নাই-রাজপথ ছাঁড়ি নাই, শরীয়তপুরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি-এসব শ্লোগান দিচ্ছিল মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা।

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহআলম বলেন, ভোর রাতে অর্থাৎ অন্ধকার থাকতে থাকতে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ধর্ষণের দায় স্বীকার করে সোহেল রানা বললেন, হত্যা করেছে ডলার

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানা ধর্ষণের দায় স্বীকার করলেও নিজে হত্যা করেননি বলে সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি শুধু ধর্ষণ করেছি, হত্যা করেছে ডলার।

 

 

সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়। এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় শুনানির জন্য তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

পরে বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হয়।

 

এ সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।

 

সোহেল রানা এ সময় তার ডিএনএ টেস্ট না নিয়ে রিপোর্ট অটোমেটিক লেখা হয়েছে বলেও দাবি করেন। নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা।

 

 

সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।

 

 

এদের মধ্যে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসে পুলিশ।

 

 

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

 

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

 

 

এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হয়েছে।

 

 

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কথা বলছি না। শুধু এ মামলায় নিজের প্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করব।

 

এদিকে মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হচ্ছে। তবে রায় হলেই তো হবে না, এটি কার্যকর করাটাই আসল। আর সেটি থমকে যায় মূলত উচ্চ আদালতে।

 

তিনি আরও জানান, তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে আশা করি এটি দ্রুত শেষ হবে। না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে করতে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

 

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

 

দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর প্রতিবাদ করায় ঈদের দিনে খুন হন শাকিল

সিরাজগঞ্জে ঈদের দিনে গলায় ছুরিকাঘাতে শাকিল (২৩) নামে এক যুবক খুনের ঘটনার তিনদিনে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী মো. রাকিবকে (২৫) কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার রাকিব (২৫) সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের গুপিরপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। ভিকটিম শাকিল একই ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

 

সোমবার (১ জুন) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ছোনগাছা বাজারের চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আসামিদের গ্রেপ্তারে সদর থানা ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম কাজ শুরু করে।

 

পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার চকোরয়িা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

 

হত্যার কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বেশ কিছুদিন আগে আসামি রাকিব ছোনগাছা বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে শাকিল ও তার বন্ধুদের কথা কাটাকাটি হয়। হত্যাকাণ্ডের ৩/৪দিন আগে সেলুনে চুলকাটাকে কেন্দ্র করেও ভিকটিম শাকিলের সঙ্গে রাকিব ও অপর দুই আসামি সাব্বির এবং শাকিলের কথা কাটাকাটি হয়।

 

এসব ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টায় ছোনগাছা বাজারের পাশে চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলের গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

 

এ ঘটনায়  নিহত শাকিলের ভাই মো. রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজেদের শেষ মুহূর্তে ঝালিয়ে নিতে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে ব্রাজিলের খেলায়। দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

 

 

তবে কিছুক্ষণ পরই পানামা সমতায় ফেরে। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিল ফরোয়ার্ড মাথিউস কুনহার শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়।

 

সমতায় ফেরার পর দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত গোলে আবারও লিড পায় সেলেসাওরা। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।

 

বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় ব্রাজিল। পানামার রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ান তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। এরপর লুকাস পাকেতার নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে স্কোরলাইন আরও বড় হয়।

 

শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইগর থিয়াগো। এরপর ডিফেন্ডার দানিলো প্রতিপক্ষের বক্সে চমৎকার দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রাজিলের ষষ্ঠ গোলটি করেন। অন্যদিকে পানামার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি আসে হার্ভের দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শট থেকে।

 

পুরো ম্যাচে বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণভাগে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে ব্রাজিল। তাদের মোট ১৪টি শটের বিপরীতে প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.২৬। বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন কৌশল ও খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখার সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন দলের কোচ।

 

এই ম্যাচের পর আগামী ৭ জুন মিশরের বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘সি’ গ্রুপে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে পরবর্তী দুই ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের।

 

বেঙ্গালরুর ঘরেই থাকলো আইপিএলের শিরোপা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে আজ গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে আরসিবি। শিরোপার লড়াইয়ে আরও একবার বিরাট কোহলির মাস্টারক্লাস ব্যাটিং দেখল ক্রিকেট দুনিয়া।

 

 

আহমেদবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে গুজরাটকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আরসিবি। আগে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি গুজরাট। দলের মূল শক্তি দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুবমান গিল শুরু থেকেই কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতেও পারেননি তারা। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে দলের ২২ রানের মাথাতে। ৮ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান গিল। তাকে ফিরিয়েছেন জশ হ্যাজলউড। পরের ওভারেই সুদর্শনকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। মাত্র ২৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে গুজরাট।

 

সেখানেই অনেকটা কোমর ভেঙে যায় গুজরাটের ইনিংসের। এরপরেও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বাকি ব্যাটাররা। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন তিনে নামা জস বাটলার এবং চারে নামা নিশান্ত সিঁধু দেখেশুনে এগিয়েছেন দুজন। বাটলার অনেক সময় নিলেও সেভাবে রান বের করতে পারেননি। আরেক প্রান্তে নিশান্তও ছিলেন নড়বড়ে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স।

বাটলার ২৩ বলে ১৯ রানের শম্বুকগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন। এর আগেই ফিরেছেন ১৮ বলে ২০ রান করা নিশান্ত সিঁধু। পাঁচে নেমে দলের হাল ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এক প্রান্ত ধরে রেখে খেলে গেছেন তিনি। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে রানও বের করেছেন। বাকিদের মধ্যে আরশাদ খান ৬ বলে ১৫ রান করেছেন। অন্য কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি।

 

 

কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তোলেন সুন্দর। লড়াকু ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন একদম শেষ পর্যন্ত। সুন্দরের ব্যাটে ভর করেই দেড়শ পার করে গুজরাট। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় গুজরাট টাইটান্স। ৩৭ বলে ৫০ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সুন্দর।

 

 

আরসিবির হয়ে ৩ উইকেট নেন রাসিখ সালাম। ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউড। এছাড়া ১ উইকেট তোলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।

 

 

জবাব দিতে নেমে আরসিবিকে ভালো শুরু এনে দেন ভেঙ্কাটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি। দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঝড়ের গতিতে এগোতে থাকে আরসিবির ইনিংস। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ভেঙ্কাটেশ এবং কোহলি। ওপেনিং জুটিতে চলে আসে ৬২ রান। ১৬ বলে ৩২ রান করে বিদায় নেন ভেঙ্কাটেশ। পরের ওভারে বিদায় নেন তিনে নামা দেবদূত পাড়িক্কালও। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তোলে আরসিবি।

 

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন বিরাট কোহলি। চারে নেমে কোহলির সাথে যোগ দেন অধিনায়ক রজত পতিদার। দুজনের ব্যাট ভর করে এগিয়ে চলেছে আরসিবির ইনিংস। পতিদার ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৩ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক। ক্রুনাল পান্ডিয়া ২ বলে ১ রান করেছেন। এক ওভারের মধ্যেই পতিদার এবং ক্রুনালকে ফেরান রশিদ খান। তবে কোহলিকে ঠেকানো যায়নি। মাত্র ২৫ বলেই ফিফটি ছুঁয়েছেন রান তাড়ার অঘোষিত রাজা কোহলি। টিম ডেভিড নেমে ১৭ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন।

 

 

ডেভিডের বিদায়ের পর কোহলির সাথে যোগ দেন জিতেশ শর্মা। ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটে চলেছেন বিরাট কোহলি। মাঝে একবার গিলের হাতে ধরা পড়লেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল লেগে গিয়েছিল মাঠের সাথে। ফলে বেঁচে যান কোহলি। শেষ পর্যন্ত কোহলির ছক্কাতেই শিরোপা জেতে আরসিবি। ১২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। ৪২ বলে ৭৫ রান করে টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন জিতেশ শর্মা।

 

গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাদা এবং আরশাদ খান।

 

 

রামিসা হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে আজ

আজ সোমবার (১ জুন) শুরু হচ্ছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ।

 

আজকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

 

গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল।

 

 

অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।

 

অকটেন-পেট্রলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়লো

অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের মূল্য লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (৩১ মে) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

 

এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রিমূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা লিটার, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

 

সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

 

এর আগে মে মাসে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল

 

হাসপাতালের পচা ডিম-বাসি রুটি খেয়ে দুই রোগী অসুস্থ্য

​মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের সকালের নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম। অস্বাস্থ্যকর এই খাবার খেয়ে অন্তত দুইজন রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ওয়ার্ডের রোগীদের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহকৃত পাউরুটির প্যাকেটে থাকা মেয়াদের তারিখ একদিন আগেই শেষ হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধ ডিমগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় অধিকাংশ রোগীই এই নাস্তা খেতে পারেননি।
রোগী ইব্রাহিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুটিতে ছত্রাক পড়ে গেছে আর ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। হাসপাতালের খাবার খেলে মানুষ সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
​রোগীর স্বজন মানসুরা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাত বছর বয়সী ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। সকালের নাস্তায় যে রুটি দেওয়া হয়েছে তার মেয়াদ গতকালই শেষ হয়েছে। ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার খেয়ে অন্তত একজন নারী রোগী বমি ও অসুস্থ অনুভব করেছেন। কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়ি চলে গেলেন।’
​হাসপাতালে ভর্তি ডায়াবেটিস রোগী হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কি মানুষ নই? গরু-ছাগলকেও কেউ এমন পচা খাবার দেয় না। চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’
জানা গেছে, হাসপাতালে নাস্তা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী নামের ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বরাবরই নির্বিকার।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​এ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার আরশাদ কবির বলেন, ‘একজন রোগী রুটি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি যদি সত্য হয় তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।’
​এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কিশোরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় স্কুলছাত্র নিহত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় মোতালেব হোসেন জীম বাবু (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের ময়দান পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জীম বাবু রনচন্ডী খদ্দারপাড়া গ্রামের আক্তারুল ইসলামের ছেলে। তিনি রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জীম বাবু মোটরসাইকেলযোগে রনচন্ডী বাজার থেকে বড়ভিটা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ময়দান পাড়া এলাকায় পৌঁছালে রংপুরগামী একটি কাভার্ড ভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে পাশ দিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর একটি পিকআপ গাড়ির নিচে চলে যান এবং গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সামনে অত্যন্ত একটি কঠিন সময় অপেক্ষা করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সামনে প্রথমত অত্যন্ত একটি কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের সামনে একইসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে আমাদের হেসেখেলে চলে গেলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন; আমরা সে ধারায় চেষ্টা করছি দেশকে পরিচালনা করতে।

 

 

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

 

বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দল, যার নীতি আছে, আদর্শ আছে, ম্যানিফেস্টো আছে। যেই ম্যানিফেস্টো আমরা মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলাম ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে। দেশের মানুষ এই ম্যানিফেস্টো দেখেছে, ‍বুঝেছে। ১২ তারিখ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য।

 

 

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে প্রায় এক ও অভিন্নভাবে দেখতো। সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছিলেন। সেই পথই অনুসরণ করতে হবে।

 

 

তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

২৪ ঘণ্টায় গৃবধু হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

গণধর্ষণের পর হত্যা নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার মূল রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ পিবিআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, গত ২৯ মে ২০২৩ তারিখে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া থানার জামলদী (হোসেন্দী) গ্রামের মো. মহসিন বেপারীর কন্যা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি চৌকস টিম ৩০ মে ২০২৩ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু কালাম (৪৮), বড় ভাটেরচর এলাকার মো. জামাল হোসেন (৪৪), মো. রাসেল মিয়া (৪৪) এবং মো. আলামিন প্রধান (৫০)।
পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা আক্তারের কাছে আসামি আবু কালামের আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা এবং আসামি রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং আসামি জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সম্মানহানি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসামিরা হালিমা আক্তারকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমা আক্তারকে ডেকে আনা হয়। এরপর একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে গজারিয়ার ‘বড় ভাটেরচর’ চকের ভেতরের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা পর্যায়ক্রমে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে পৈশাচিকতার চরম রূপ হিসেবে হালিমার পরনে থাকা প্যান্ট/টাইটস দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ও আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

জয়পুরহাটে বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার, ৫ নেতাকে শোকজ

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘অসাংগঠনিক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একই কমিটির আরও ৫ নেতাকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
​রোববার (৩১ মে) দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার (৩০ মে) দেশব্যাপী জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম (মাহবুব মেম্বার) কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করেননি। উল্টো তারা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে সোনামুখী ইউনিয়নের জাফরপুর স্কুল মাঠে অশ্লীল নাচ-গান এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ছিলেন। তাদের এই আচরণ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে জেলা বিএনপির নির্দেশে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়।
​এদিকে, একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আরও ৫ নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি। বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহমেদ রানা স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
​শোকজপ্রাপ্ত নেতারা হলেন- সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক এবং ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিনহাজ।
​নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ৩০ মে জাতীয় শোকের দিন থাকা সত্ত্বেও তারা দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শোক পালন না করে জাফরপুর স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে আনন্দ উৎসবে মেতে ছিলেন, যা সংগঠনের নীতিবহির্ভূত ও একটি গর্হিত কাজ। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের কারও সম্মতি নেওয়া হয়নি, যা গুরুতর সংগঠনবিরোধী কাজ।
​আগামী ৭ দিনের মধ্যে নোটিশপ্রাপ্তদের সন্তোষজনক ও যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সিরাজদিখানে ৩ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ আবিরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ইয়াহিয়া (৭০), রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত শরীফ উদ্দিন বেপারীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদ (৬২) এবং মালখানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল কাজী (৬০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইয়াহিয়াকে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরদিকে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদ ও বাবুল কাজীকে উপজেলার ইমামগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে সৈয়দপুর আব্দুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সমর্থকরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন পঞ্চসার ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকাকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোফাজ্জল (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চসার ইউনিয়নের জনৈক এক ব্যক্তির বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন অভিযুক্ত মোফাজ্জল। এই সুবাদে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মোফাজ্জল বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কক্ষে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ মে, ২০২৬ তারিখে। সেদিন রাত ৩টার দিকে মোফাজ্জল যখন কিশোরীকে ধর্ষণ করছিল, তখন ভিকটিমের বাবা-মা বিষয়টি দেখে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মোফাজ্জল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৩০ মে, ২০২৬ রাতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযুক্ত মোফাজ্জলকে ঐ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।ধর্ষক মোফাজ্জল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার মেলাপাড়া গ্রামের মৃত আকরাম শরীফের ছেলে। এই জঘন্য ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চোট নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও নেইমারকে বাদ দিচ্ছে না ব্রাজিল

ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের চোট নিয়ে যতই গুঞ্জন থাকুক না কেন, তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

 

 

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের কাফ ইনজুরি (পায়ের পেশির চোট) নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

 

 

গত ১৭ মে থেকে ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে আছেন নেইমার। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে তিনি ব্রাজিলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি।

 

 

দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহে আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাকেন। শুরুতে নেইমারের ক্লাব সান্তোস জানিয়েছিল, তার পায়ে সামান্য ফোলা রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ফিট হয়ে উঠবেন।

 

 

তবে ব্রাজিল দলে যোগ দেওয়ার পর নতুন পরীক্ষায় দেখা যায়, নেইমারের চোট আসলে ‘গ্রেড-টু’ স্তরের পেশির টান, যার কারণে তাকে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

 

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নেইমারের চোট যে ফোলা নয় বরং ‘গ্রেড-টু’ পর্যায়ের আগে জানলে তিনি তাকে স্কোয়াডে রাখতেন কি না? প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ রসিকতা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার দাদার যদি চাকা থাকত, তবে তিনি আস্ত একটা গাড়ি হতেন! আমি যখনই স্কোয়াড ঠিক করেছি, নেইমার সেই ২৬ জনের মধ্যেই ছিল।


ইতালিয়ান এই কোচ পরিষ্কার করেন, নেইমারকে ২৬ সদস্যের দলে নির্বাচন করার পরই কেবল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তার চিকিৎসার দায়িত্ব হাতে নিয়েছে।

 

 

আনচেলত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নেইমার ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলতে না পারলেও, গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ।

 

 

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই ফিট হয়ে উঠবে। যদি প্রথম ম্যাচে সে ফিট নাও থাকে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই ফিট হয়ে যাবে। এই ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।’

 

 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন করতে যাচ্ছি না। যে ২৬ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই বিশ্বকাপে খেলবেন।’

 

 

আনচেলত্তি জানান, দলে নেইমারের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মাঠে ফেরার জন্য নেইমার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

 

 

১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পর, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৮ জুন হাইতি এবং ২৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

স্বামীর সঙ্গে ফটোশুটে পূর্ণমা

এবার এক মনোমুগ্ধকর ব্রাইডাল ফটোশুটে হাজির হয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমে নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এই নায়িকা যা মুহূর্তেই আলোচনায় চলে আসে নেটদুনিয়ায়।

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, হালকা গোলাপি রঙের ঝলমলে ব্রাইডাল পোশাকে সেজেছেন পূর্ণিমা। সঙ্গে মানানসই সবুজ পাথরের গয়না, কপালে টিকলি এবং পরিপাটি মেকআপে তাকে দেখা গেছে যা এনে দিয়েছে এক রাজকীয় আবহ।

 

কখনও ক্যামেরার দিকে মিষ্টি হাসিতে তাকিয়ে, কখনও ওড়না হাতে খেলাচ্ছলে পোজ দিয়ে নিজের সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, পূর্ণিমা তার স্বামী আশফাকুর রহমানের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়ে রোম্যান্টিক স্টাইলে পোজ নিচ্ছেন। চারপাশে ছড়ানো হচ্ছে গোলাপ ফুলের পাপড়ি। স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে থাকা পূর্ণিমার সেই মুহূর্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভক্তদের।

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। পূর্ণিমার চিরযৌবনা রূপ লাবণ্য নিয়ে এক নেটিজেন লেখেন, ‘হিরোইন কখনো বুড়ো হয় না। কেননা তারা মন থেকেই নিজের সৌন্দর্যকে অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘পূর্ণিমা কি কখনো বুড়ি হবে না?’ আরেকজনের ভাষ্য, ‘ছোটবেলায় যেমন দেখেছি, এখন দেখি তার থেকে বয়স আরও কমে গেছে। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না।’

 

 

আবার স্বামীর সঙ্গে পূর্ণিমার এমন রোম্যান্টিক পোজ দেখে একজন মজা করে লিখেছেন, ‘আপা, দুলাভাইরে দিয়ে একটা রোম্যান্টিক ছবি বানাতে পারেন।’

 

 

উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আসছেন পূর্ণিমা। অভিনয়ের পাশাপাশি তার রূপ সৌন্দর্যও বরাবরই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তিন প্রজন্মের নায়িকা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রীকে ভক্তরা ‘চিরযৌবনা’ বলেও অভিহিত করেন। সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়লেও, পূর্ণিমার সৌন্দর্যের আবেদন যেন এখনো আগের মতোই অটুট।

2 thoughts on “কামারখন্দে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

কামারখন্দে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ০৪:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে কামারখন্দ থানার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার (১জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার চৌবাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মৃত রফিক সরকারের ছেলে মো. মনিরুল সরকার (২৬) এবং রায় দৌলতপুর গ্রামের মো. ইনসান আলীর ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (২৯)।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।

গজারিয়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৭ জন আটক

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার চর বলাকী গ্রামে স্থানীয় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৭ (সাত) জনকে আটক করা হয়েছে।
এ সংক্রান্তে গজারিয়া থানায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু করা হয়। এর আগে সোমবার (১ জুন) চর বলাকী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন চর বলাকী গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬৫), মৃত ফজলুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রধান (৫০),  মাহফুজ প্রধানের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩২), শুকুর আলীর ছেলে মোঃ জান্নাত (৩১), টান বলাকী গ্রামের মাহফুজ মেম্বারের ছেলে  মোঃ মাসুম (৪৫) ও মনজুর আলম (৪৪) এবং কেরামত আলী মাস্টারের ছেলে মোঃ মাজহারুল।
পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদেরকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে  অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নরসিংদীতে অস্ত্র ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়

নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার বাঁশগাড়িতে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে মটর সাইকেলসহ পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায়ের  অভিযোগ পাওয়া গেছে অত্র এলকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট রুবেলে বিরুদ্ধে। ঈদের চারদিন আগে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা গেছে, টঙ্গী হিমারদীগি কেরানীর টেক এলকার বাসিন্দা মোঃ অনিক শেখ ঈদের আগে অত্র বাঁশগাড়ি এলাকায় মটর সাইকেল করে তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলো।

 

কিন্তু হঠাৎ একদল যুবক আচমকা এসে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার মটর সাইকেল সহ তাকে চোখ বেধে নিয়ে যায়। পরবর্তী তাকে দুইদিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালাই বলে অভিযোগ করে তিনি। তারপর মোবাইল যোগে তার পরিবারে কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপন, তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় যদি মুক্তিপনের টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।

 

এসব হুমকি ও দিনবর অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় করে অত্র এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট রুবেল। এবং তার সাছে থাকা আর ওয়ান ফাইভ মটর সাইকেলটি (যার রেজিষ্টেশন নং- ঢাকা মেট্রো-ল ৭১-৮৬২৬) ছিন্তাই করে রেখে দেয়।

 

এবিষয়ে আরোও জানা যে, এই ছোট রুবেল তার সন্ত্রাসী বাহানী প্রকাশ্যে অস্ত্র মহরা দিয়ে বিভিন্ন জনের ভূমি দখল সহ মানুষকে আটকে রেখে মুক্তিপন আদায় করেন।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সংবাদকর্মীরা বাঁশগাড়ি এলাকায় গেলে  মো. হাসিম হাসিম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন,  এই ছোট রুবেল কাঁধে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এতে করে গ্রামে আতঙ্ক ছড়াই। তার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায় ও মুক্তিপন আদায় করে। তাই তার বিষয়ে কেউ মুখ খোলতে ভয় পায়।

 

রায়পুরা থানার ওসির নিকট মোবাইল যোগে জানতে চাইলে, তিনি সংবাদ কর্মীদেরকে জানান বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন,  অপরাধ যেই করুক না কোনো কেউ আইনের উর্ধে না, আমরা মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় যেই অপরাধ করুক না কোনো আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

 

তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের

আসন্ন তাড়াশ পৌরসভা নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক সাকলাইন আহমেদ হৃদয়।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয় তাড়াশ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে বর্তমানে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল পদে আছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয় তার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, _”আমি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছি ৫নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবা করার জন্য। আমার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাঙা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। নির্বাচিত হলে এই তিনটি সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবো। এছাড়া ওয়ার্ডের প্রতিটি গলিতে স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা আছে।”
তিনি আরও বলেন, _”আমি বিএনপির রাজনীতি করি, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আমার পরিচয় হবে শুধু ৫নং ওয়ার্ডের সেবক। দল-মত নির্বিশেষে সকল ভোটারের অধিকার রক্ষায় আমি কাজ করবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আমার রাজনীতির মূলমন্ত্র।”
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের নাম ঘোষণার পর ৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাকলাইন আহমেদ হৃদয়ের মতো জনবান্ধব প্রতিনিধি পেলে ৫নং ওয়ার্ডের চেহারা পাল্টে যাবে।

 

রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে ব্যানার। তাঁদের কণ্ঠে একটাই দাবি—মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শান্ত (২৫) নামের যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহসভাপতি রিনা বেগম এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুর।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “গত ২৬ এপ্রিল আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমার মেয়ের সঙ্গে জঘন্য ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমি কোনো আপস চাই না। আমি আমার মেয়ের বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “একজন অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পরও যদি অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের ফাঁসি ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

শেষ বিদায়ে তোফায়েল আহমেদ, অনুষ্ঠিত জানাজা

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এর আগে, জানাজা ঘিরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের ২য় জানাজার জন্য প্রস্তুত করা হয় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ। তবে জানাজাটি ঘিরে জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এদিকে সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটুর নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী জানাজাস্থলে এসে জানাজা করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, জানাজাকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া হয় তবে তারা তা প্রতিহত করবে। পরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম জানাজাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে যান।

সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটু বলেন, ২০২২ সালে গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি নুরে আলম নিহত হন। তার জানাজা সরকারি স্কুল মাঠে আয়োজন করলে করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ নুরে আলমের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।

 

গাজীপুরে প্রতিবেশীদের দ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন যুবক

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘর্ষে আজিজুল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে সোমবার (১ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত আজিজুল উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ি এলাকার মো. হানিফ মিয়ার ছেলে। 

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলার বরমী পাইতলবাড়ী এলাকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে আজিজুল তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। এ সময় প্রতিবেশী শামীম ও জালাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে আজিজুলের কাছে জানতে চায় কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে।

 

 

এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়‌। পরে আজিজুলের সঙ্গে প্রতিবেশী শামীম ও জালাল উদ্দিনদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এক পর্যায়ে লাঠির আঘাতে আজিজুল গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

 

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা নিহত অন্তত ১০

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানী কিয়েভ ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রো। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে চারজন এবং দিনিপ্রোতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ।

 

 

হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে।

 

 

কিয়েভের মেয়র জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন রুশ বাহিনীর পরপর দুটি হামলায় আংশিক ধসে পড়েছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লাভ কমে আসা এবং হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

মঙ্গলবার জিএমটি ৭টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৩২.৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৬২.৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

 

 

মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার দিকে। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে ভিন্নধর্মী বার্তা আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও স্বর্ণবাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

 

 

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।

 

এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। পরে আদালত দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মূলতবি করে পরবর্তীতে আজ (মঙ্গলবার) আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বলেন, সব সাক্ষী আদালতে উপস্থিত আছে। সময় সংকুলান হলে আজই সবার সাক্ষ্য শেষ হতে পারে।

এদিকে সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।

 

 

এর আগে গতকাল (সোমবার) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

 

 

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

 

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

 

ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অযৌক্তিক বলল ফ্রান্স

লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট।

 

 

ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননের অভ্যন্তরে গভীরভাবে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি এবং চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকতে পারে না।

 

 

বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতও থেমে নেই। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, ইরান হিজবুল্লাহর প্রধান মিত্র হিসেবে এখনো সমর্থন বজায় রেখেছে। দেশটি জানিয়েছে, লেবাননে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো শান্তি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

ফ্রান্স লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর এবং যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগেও দেশটি এমন আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী কোনো আন্তর্জাতিক আহ্বানই পাত্তা দিচ্ছে না।

 

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি সাংস্কৃতিক বন্ধন: সহকারী হাইকমিশনার

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিকভাবে গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভবনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মনোজ কুমার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি আশা করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও অগ্রসর হবে।

তিনি আরও বলেন, যোগব্যায়ামের ইতিহাস, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং বিশ্বব্যাপী এর বিস্তৃত প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, রাজশাহী–৩ ও রাজশাহী–৫ আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

পরে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগব্যায়াম অনুশীলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

রামিসার মরদেহ উদ্ধারের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত, জানালেন বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে মেয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা। সাক্ষ্যতে শিশু রামিসাকে কীভাবে দরজা ভেঙে লাশ খুঁজে পান, ওইসময় কী করেছিলেন ও কী কী দেখেছিলেন তা জানান তিনি।

 

 

সাক্ষ্যগ্রহণে মান্নান মোল্লা আদালতে জানান, স্ত্রীর ফোন পেয়ে ৩০ মিনিটের ভেতর বাসায় আসেন। এসে দেখেন অনেক মানুষ দরজার সামনে জড়ো। দরজা না খোলায় হাতুড়ি নিয়ে আসেন। এরপর লক তালা ভাঙার পর দেখেন ভেতরে আসামি স্বপ্না। বাথরুমে পড়ে আছে রক্ত।

 

 

দরজা ভাঙার পর আসামি স্বপ্নাকে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে কোথায়?’ কিন্তু তখন চুপ ছিলেন স্বপ্না। পরে বাথরুমে রামিসার খণ্ডিত মাথা দেখতে পান।

মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তিনি।

এদিন প্রথমে রামিসার বাবা সাক্ষ্য দেন। দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। সকাল ১১টা ৩ মিনিটের দিকে পারভীনের সাক্ষ্য শুরু হয়। এসময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা আদালতে বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হই। এরপর বনানীর কাকলীতে অফিসে যাই। অফিসে যাবার পর ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আমার স্ত্রী পারভীন আক্তার আমাকে ফোন করেন। ফোন পেয়ে বাসায় যাই ৩০ মিনিটের ভেতর।’

 

 

‘এসে দেখি আমার বাসার বিল্ডিংয়ের মেইন গেইটের সামনে অনেক লোক জড়ো। এরপর আমি দৌড় দিয়ে তিন তালায় আমার ফ্ল্যাটের সামনে যাই। সেখানেও দেখি অনেক লোক জড়ো হয়ে আছে। তখন আমার স্ত্রী বলেন, সোহেলদের ফ্ল্যাটের মধ্যে আমাদের মেয়ে রামিসাকে আটকে রেখেছে। সেখানে রাজু, আমার স্ত্রীসহ অনেকে ছিল। রাজু তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল,’ বলেন তিনি।

 

 

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলেনি। তাই আমি নিচে দৌড়ে তাড়াতাড়ি গিয়ে একটা হাতুড়ি নিয়ে আসি। এরপর আমি দরজার বোল্ড লক ভাঙার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে বোল্ড লক ভাঙা হয়। সে লকের ছিদ্র দিয়ে স্বপ্নাকে দেখি। টয়লেটের রুমের ভিতর দেখি অনেক রক্ত। তখন দরজা ভাঙার পর সোহেল-স্বপ্নার কমন রুমের দরজা বন্ধ পাই। স্বপ্নাকে বলি আমার মেয়ে কোথায়? কিন্তু স্বপ্না কিছু বলে না। চুপ ছিল। পরে টয়লেটে বালতির মধ্যে মেয়ের খণ্ডিত মাথা দেখি। তার দেহ খোঁজার জন্য দুই রুমে থাকা দমদরজাও ভেঙে ফেলা হয়। সেখানেও নেই। এরপর সোহেলদের রুমের ভেতর স্টিলের খাটের নিচে মাথাবিহীন আমার মেয়ে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। তারপর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। আমি থানায় মামলা করি।’

 

 

সাক্ষ্য শেষে আব্দুল মান্নানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ। এরপর বেলা ১১টার দিকে তার জেরা শেষ হয়। এরপর ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এদিন আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন- ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

 

 

এদিকে সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে। এসময় তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।

 

 

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল।

 

 

তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকে আসক্ত থাকতেন সোহেল। ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে বাথরুমে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। রামিসা চিৎকার করে কান্নাকাটি করায় ও পরিবারকে জানানোর কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে মাথা ও হাত কেটে হত্যা করে সোহেল। এ ছাড়া লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না।

 

রায়গঞ্জে শীর্ষ ডাকাতসহ ৬ আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও নিয়মিত মামলার ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২ জুন) রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুখ্যাত ডাকাত আক্তার মন্ডল (৫০)। তিনি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর কোদলা গ্রামের সোনা মন্ডলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ৪ ধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

 

এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন— আবু তালেব (২৮), পিতা আলিমুদ্দিন, গ্রাম বন্দিহার; মো. রেজাউল করিম (৪০), পিতা আবুল হোসেন, গ্রাম চান্দাইকোনা; রিপন (২৩), পিতা মজিদ সেখ, গ্রাম চর ব্রাহ্মণবাড়িয়া; মো. শয়ন মিয়া ওরফে জাকারিয়া (৩০), পিতা স্বপন মিয়া, গ্রাম চান্দাইকোনা এবং নিয়মিত মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী ভুট্ট খলিফা (৩৮), পিতা রইচ উদ্দিন, গ্রাম নিঝুরি উত্তরপাড়া।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু তালেবের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলা, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক মামলার ওয়ারেন্ট এবং অপর আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ স্কোর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।”

 

মায়ের মৃতদেহে পচন, খোঁজ নেয়নি বুয়েট শিক্ষক ‍ও যুগ্নসচিব ছেলে

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ এবং পারিবারিক দায়িত্বহীনতা নিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ওই বাসায় যায়। পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

পুলিশের ধারণা, নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে। এ সময় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পচনজনিত ক্ষয় দেখা যায়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বশির জানান, নুরজাহান বেগম ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মেয়েটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। বৃদ্ধা দীর্ঘ সময় সাড়া না দেওয়ায় একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন নার্সকে ডাকা হয়। পরে নার্স ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে বাসার কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায়। সেখানে পরিচর্যার অভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

 

ওসি মো. হাসান বশির আরও জানান, নিহত নুরজাহান বেগমের পরিবারে দুই ছেলে রয়েছেন। তাদের একজন সরকারি যুগ্মসচিব এবং অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তারা আলাদা বাসায় থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বজনদের দায়িত্ব ও বৃদ্ধা নারীর দীর্ঘদিনের একাকিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন একটি ঘটনায় উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ সন্তানদের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ সরকারে ‘অস্বস্তি’

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীপেন দেওয়ান সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে,তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে সরকার ও প্রশাসনে। এদিকে দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, শিগগির মন্ত্রিসভায় কয়েকটি নতুন মুখ যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেইসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে।

 

গতকাল দেওয়া পদত্যাগপত্রে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে তিনি পদত্যাগ করে অন্যদের মনেও ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন। সরকার নতুন। আমরাও নতুন। সবকিছু এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। ফলে একটু টেনশন তো হয়-ই। কখন আবার ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে চলে আসে। তবে দীপেন দেওয়ান অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। মন্ত্রিসভায় এমন লোকের দরকার ছিল।

 

দীপেন দেওয়ান কেন পদত্যাগ করেছেন—এমন প্রশ্ন সচিবালয়ের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউই সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারছেন না। এ নিয়ে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে সরকারের ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে।

 

৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

 

২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

 

দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি ‘বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অন্যতম সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। তিনিও পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা।

 

পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

পদত্যাগ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ: দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখান। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের প্রধান পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন।

 

রাঙামাটি বিএনপি অফিসের সামনে প্রায় আধাঘণ্টার জন্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা তীব্র ভোগান্তির শিকার হন।

 

রাঙামাটি জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, বিএনপি বা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কারও সঙ্গে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। তিনি হঠাৎ করে কেন পদত্যাগ করলেন তা বুঝতে পারছি না। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তিনি তো সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় দুর্গম পাহাড়ে গিয়েছেন। তাহলে তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ করছি।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনছি পদত্যাগের বিষয়টি। তিনি আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ আমরা মেনে নিতে পারছি না। এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় মন্ত্রী পদে বহাল করার।

 

শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ: সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মুখ দেখা যাবে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ এমপির নাম বেশ আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি নরসিংদী থেকে আরও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন নারী এমপির নাম মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনা রয়েছে। আর বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিগগির দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

সূত্র: কালবেলা

 

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে শিশুসহ প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উপজেলার মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, একটি প্রাইভেটকার ভোরে ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার পথে মালীগ্রাম এলাকায় একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন।

 

এসময় একটি শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

 

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিশুটির মৃত্যু হয়।

 

শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

 

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশা, কম দৃশ্যমানতা কিংবা দ্রুতগতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিতে পারেন।

 

চৌহালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: আটক ২

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মাস্ক পরে ঝটিকা মিছিল করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে।

 

রোববার (৩১ মে) বিকেলে ও সন্ধ্যায় উপজেলার পৃথক স্থান থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাদের আটক করে।আটককৃতরা হলেন- উপজেলার চরসলিমাবাদ গ্রামের সাইফুল মোল্লার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী এস এন সাব্বির হোসেন (১৯) এবং রেহাইপুখুরিয়া গ্রামের মাসুদ জামানের ছেলে মুত্তাকিন হোসেন (২১)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে মুখমণ্ডলে মাস্ক পরিধান করে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। পরে এই ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী এস এন সাব্বিরকে রোববার বিকেলে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই পূর্বপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে একই দিন সন্ধ্যার দিকে রেহাইপুখুরিয়া এলাকা থেকে অপর কর্মী মুত্তাকিন হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌহালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মাস্ক পরে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের শাহজাদপুর থানার একটি চলমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেটের দাবি

চার শতাধিক চরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেটের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১ টার সময় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় চরাঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি কথা তুলে ধরা হয়। নদী ভাঙন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বন্যা, খরাসহ যোগাযোগের মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষের কথা তুলে সম্মেলনে। এবং তাদের বঞ্চিত অধিকার ফিরে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীরা তাদের দাবি আদায়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা প্রতিনিয়ত দুঃখ কষ্টে শিকার হওয়ার বর্ণনা দেন। চরবাসীরা বলেন, গেল ঈদে আমরা ঈদ উৎসব উদযাপন কি জিনিস জানি না। আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্যোগের শিকার হই। বন্যা, খরা, নদী ভাঙন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অনেক ধরনের মৌলিক ন্যায্য অধিকার থেকে আমরা চরের মানুষ বঞ্চিত। বিত্তবান মানুষজন আসে যায় সহযোগিতা করে কিন্তু তা দিয়ে তো জীবন চলে না।
পরে ভুক্তভোগীরা দাবি করে বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমাদের অধিকার চাই। এটা আমাদের নাগরিক অধিকার। দেশে প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বাস করে। আমাদের এই মানুষ গুলোর জন্য চর বিষয়ক একটা মন্ত্রণালয় চাই এবং আমাদের জন্য সরকারি খাত থেকে আলাদা বাজেট করা হোক।
এ সময় জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় চার শতাধিক পরিবার চরের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের প্রতিদিন কোন না কোন সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা প্রায় জেলার সব চরঞ্চলে গিয়ে দেখেছি সব জায়গায় একই অবস্থা। কোথায় চরের মানুষের কোন উন্নতি নাই। তাদের হয়ে কথা বলারও কেউ নাই। আমরা যখন যাই আমাদের কে ঘিরে ধরে অভিযোগ জানায়।
তিনি আরও বলেন, তাদের অধিকার টুকু আদায়ের জন্য আমরা ৭ দফা দাবি তুলে ধরছি। আমরা চাই দেশের সবার মত তাদেরও অধিকার তাদের কে দেওয়া হোক। তাদের প্রতি সঠিক মূল্যায়ন করা হোক।
সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন, চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দীন রিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইদ আহমেদ বাবু, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার প্রমুখ।

ভাড়ার চার্ট না থাকায় সিএনজি মালিক সমিতির জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুন। এ সময় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতির বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কামারখন্দ থেকে সিরাজগঞ্জ রুটে নির্ধারিত ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এছাড়া ভাড়া আরও ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, “অভিযানের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন না করায় সিএনজি মালিক সমিতিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সমিতির চেইন মাস্টার তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।”

 

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

তোফায়েল আহমেদের জানাজা থেকে কয়েকজনে আটক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) এ ঘটনা ঘটে। আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক।

 

জানা গেছে, তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে হঠাৎ উপস্থিত কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যথাসময়ে স্মুথলি মরদেহবাহী গাড়ি যাতে করে যেতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। আর যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কতজনকে আটক করা হয়, সেই সংখ্যাটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। যাচাই-বাছাই করে জানানো হবে।’

 

আটকরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাকে ধরা হয়েছে। তবে যদি আটককৃতদের মধ্যে সাধারণ কেউ থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

 

উল্লেখ্য, আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বর্ষীয়ান এই নেতার পরবর্তী জানাজা হবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে।

 

তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

 

চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে টাকা ছিনতাই: ছুরিকাঘাতে আহত দুই যুবক

নওগাঁর রাণীনগরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুই যুবককে লক্ষ্য করে চোখে-মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল খালেক মন্ডল (৪০)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন তার সঙ্গী সাহাবুল হোসেনও (৩২)।
রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের খলিশাকুড়ি মোড়ের ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহত উভয়ই উপজেলার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, রাতোয়াল গ্রামের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে করজগ্রাম পার হয়ে খলিশাকুড়ি মোড়ের কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়ির সামনে এসে পড়ে। এরপর তারা দুজনের চোখে-মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে প্রায় ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খালেকের পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। খালেককে বাঁচাতে এগিয়ে আসা সাহাবুলও হাতে ছুরিকাঘাত ও মারধরের শিকার হন।
ছুরিকাঘাতে খালেকের পেটের নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়। পরে সড়কে গাড়ির আলো দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় খালেককে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সাহাবুল হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা তিনটি মোটরসাইকেলে ৬ থেকে ৭ জন ছিল। তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে থাকা ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে খালেক মন্ডলের এখনো জ্ঞান না ফেরায় তার কাছ থেকে কোনো টাকা নিয়েছে কিনা জানা যায়নি। এটি ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, তাও স্পষ্ট নয়।”
রাণীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুলফিকার জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত হালিমা’র পরিবারের পাশে কামরুজ্জামান রতন এমপি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গণধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের শিকার সেই গৃহবধু হালিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সোমবার (১ জুন) বিকাল ৫টায় উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়ন এর জামালদী গ্রামের  হালিমার পৈত্রিক বাড়িতে সহমর্মিতা জানানোর জন্য উপস্থিত হন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ডা:হামিদা মোস্তফা,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন আহমদ,জেলা যুব দলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক আসলামুজোহা চৌধুরী তপন,হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক মাহাবুল আলম খাঁন, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,বিএনপি নেতা মমিন মৃধা,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুম আহমেদ,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন যে কোন প্রয়োজনে পরিবারটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,অপরাধীরা জবাববন্দি দিয়েছেন, রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে,আমরাও এ বিষয়ে সজাগ থাকবো এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতরা যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।  তিনি  মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দোয়ার জন্য  পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বেলকুচিতে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার: আটক ২

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর মুকুন্দগাঁতী পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলার পুঠিয়াবাড়ী ও গাইবান্ধা জেলার আসমতপুর থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার বিকালে বেলকুচি থানায় প্রেস বিফিং করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঈমাম জাফর।

প্রেস বিফিং সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে রাতে বেলকুচি পৌর মুকুন্দগাঁতী পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে গাড়ি হারিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশে পাশে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল টি নিয়ে যাচ্ছে। পরে মোটরসাইকেরের মালিক শাহাদৎ হোসেন থানায় লিখিত অভিযোত দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই নয়ন কুমার ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার পুঠিয়াবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৭) ও গাইবান্ধা জেলার আসমতপুর এলাকার এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে আতোয়ার (৩৫)কে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঈমাম জাফর বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শেষ জীবনে কােণঠাসা ছিলেন দাপুটে রাজনীতিক তােফায়েল

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

 

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মি. আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে ছিলেন।

 

তোফায়েল আহমেদ ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ২২শে অক্টোবর।

 

বিরাশি বছর বয়সের দাপুটে এই রাজনীতিক তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে এসে দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

 

যদিও স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচ দশকে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু জীবনের শেষ এক দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে থাকায় তিনি নিজেকে অবহেলিত মনে করতেন।দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারানো মি. আহমেদের মাঝে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ একাধিক রাজনীতিক।

 

তবে তারা বলছেন, দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব, কোন্দলের কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ আদর্শচ্যুত হননি। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই ছিলেন।

 

 

তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কেউ কেউ। তারা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন এবং মন্ত্রিত্ব ও এলাকার রাজনীতি- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোফায়েল আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের শাসনে দুই দফায় মন্ত্রী ছিলেন মি. আহমেদ।

 

 

পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে পড়ায় তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন চলাফেরা করতে।

 

 

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
ছবির ক্যাপশান,স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরে নৌকা প্রতীকেই নয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের নেতা হয়ে ওঠেন যেভাবে

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯ এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি।

 

এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে ছিলেন এবং জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

 

তোফায়েল আহমেদ বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পরই সে সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে প্রথম কাতারে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ। উনসত্তরেই ছাত্রলীগের সভাপতি হন মি. আহমেদ।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল।

 

ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে রুপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

 

ওই বছরই ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করেছিল। সেই জনসভা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদলে যায়। জাতীয়ভাবে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়।

 

রাজনীতিতে প্রভাব

সাতাশ বছর বয়সে মি. আহমেদ ১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।

বাংলাদেশর স্বাধীনতা লাভের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব নিযোগ করেন।

 

সে সময়ের একাধিক রাজনীতিক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার যে রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে তোফায়েল আহমেদের হাতে আনঅফিসিয়ালি সেই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল।

 

মি: আহমেদ ১৯৭৩ সালে নিজের জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও আট বার নৌকা প্রতীকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।

 

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন তিনি ৩৩ মাস জেল খেটেছিলেন।

পরে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সে সময় মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলেন। সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন মি. আহমেদ।

 

শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি মি. আহমেদ। অবশ্য ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দলটির টানা দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

তবে পরের দফায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তার দল আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করলেও সেই মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাননি তিনি।

 

রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন আন্দোলন গড়ে তোলা, সেই আন্দোলনে তিন জোটের রুপরেখা প্রণয়নে মি. আহমেদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি।

 

তবে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়েছিলেন তোফায়েল আহমদে।

 

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা চতুর্থ দফার আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী হতে পারেননি মি. আহমেদ। তবে ওই সরকারের পতন হয় মাত্র সাত মাসের মাথায় জুলাই গণ-অভ্যুযত্থানে।

 

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকারে মন্ত্রী যেমন হতে পারেননি, অন্যদিকে দলেও তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা।

 

কেন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দলীয় রাজনীতিতে

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। দলটির যে নেতারা সে সময় তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

পরে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে মি. আহমেদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আশির দশকের শেষ দিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়।

 

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নেতারা বলেন, পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনার পর তোফায়েল আহমেদ যদিও জেল খেটেছেন, কিন্তু সে সময় মি. আহমেদ শক্ত অবস্থান নেন নি। এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের।

 

শেখ হাসিনা কয়েকবার বক্তব্যেও তার সেই ধারণা প্রকাশ করেছেন। এটি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শীতল সম্পর্কের একটি বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতাদের অনেকে।

 

আর দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে মি. আহমেদকে।

 

আশির দশকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, মি. আহমেদ তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হতে না পেরে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে।

 

আওয়ামী লীগের নীতনির্ধিারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছিল মি. আহমেদকে। সর্বশেষ তিনি দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না।

 

দলীয় রাজনীতিতে হতাশার বিষয়ে মি. আহমেদ নিজেও ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কাছে বিভিন্ন সময় শেয়ার করতেন।

 

তার সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। যদিও মি. সেলিম কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি করেন। কিন্তু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় দলগুলোর মধ্যে লিঁয়াজো করতে গিয়ে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়েছিল।

 

বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরেননি এবং রাজনীতির যাত্রায় থেমে যাননি।

 

তবে এক এগারোর সরকার হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সময়ে তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভূমিকার জন্য পরবর্তীতে দলের রাজনীততে বেশি বেকায়দায় পড়েছিলেন তারা।

 

সেই সরকার রাজনীতিতে সংস্কারের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা ও বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সে সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ তাদের দল আওয়ামী লীগে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। বিএনপিরও কয়েকজন নেতা তাদের দলে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন।

আওয়ামী লীগেও সংস্কারপন্থী বলে ওই চার নেতার একটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল।

 

সেই এক এগারোর সরকার তাদের সংস্কার ও দুই নেত্রীর মাইনাস করার ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এক পর্যায়ে দুই নেত্রীর নেতৃত্বেই দলদুটো ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছে এবং বিদায় নিতে হয়েছে সেই সরকারকে।

 

কিন্তু রাজনীতিতে কপাল পোড়ে সেই সংস্কারপন্থীদের। তোফায়েল আহমেদ দলে চিহ্নিত হন সংস্কারপন্থী হিসেবে এবং একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলীয় রাজনীতিতে।

 

এরপর টানা সাড়ে পনেরো বছরের আওয়ামী লীগের শাসনে যদিও তোফায়েল আহমেদ একবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল।

 

সেই পরিস্থিতি তোফায়েল আহমেদ কতটা সামলে উঠতে পেরেছিলেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও কারও কারও সেই প্রশ্ন রয়েছে।

 

তবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

 

এমন এক সময় তিনি চিরবিদায় নিলেন, যখন দলটি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় চরম সংকটে রয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

 

 

গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
​আহতরা হলেন মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক মুসার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক শহর আলীর বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে ঈদগাহ এলাকায় শহর আলীর সঙ্গে মুসার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় এবং অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুসা বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত কয়েক মাস আগে শহর আলী এবং তার ছেলে আমাকে মারধর করেছিল। আজ দুপুর ১২টার দিকে ঈদগাহ এলাকায় আমার সাথে শহর আলীর দেখা হয়। আমি তার কাছে বিষয়টির মীমাংসার ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শহর আলী নিজেকে বিএনপি বলে দাবি করলেও সে মূলত যুবলীগ নেতা নাজমুল হোসেনের লোক।’
যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের পার্টি অফিসসহ আমার বসতঘর এবং নুর ইসলাম, ইকবাল হোসেন, শুক্কুর আলী ও জিকুর ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়।’
​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আনোয়ার হোসেনের লোকজন বিনা উস্কানিতে আমাকে ধাওয়া ও মারধরের চেষ্টা করে। পার্টি অফিস ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়ি ও কার্যালয় ভাঙচুর করে দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটি কোনো দলীয় বিরোধ নয় বরং ব্যক্তি কেন্দ্রিক সমস্যা।’

হিলিতে ৩ মামলা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সুজন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুরে তিনটি ভিন্ন থানার একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. সুজন ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ওই গ্রামেরই তার চাচার বাড়ি থেকে আসামি সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন ইসলাম নওদাপাড়া গ্রামের মো. কাফাজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দিনাজপুরের হাকিমপুর ও বিরামপুর থানা, ঢাকার পল্লবী থানা এবং সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ওয়ারেন্ট থাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় নওদাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর আজ যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আসামিকে বিজ্ঞ দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের এমন বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি: সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’

 

সোমবার (১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

এ সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।

সোমবার এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।

 

এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

 

মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

 

 

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।

 

এ সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা, ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে।

 

 

ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

 

রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

 

সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের সেতুতে দর্শনার্থীদের ভীড়

যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উপভোগে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করছেন মানুষ। ঈদকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন ইকোনমিক জোনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেছনে নির্মিত ব্রিজটি এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন এই মনোরম স্থানে। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে কাছ থেকে যমুনা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীর বুকে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। সন্ধ্যার সময় প্রকৃতির অপূর্ব রূপে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।
ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদীর স্বচ্ছ জলরাশি। এক পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অন্য পাশে বিস্তীর্ণ বালুর মাঠ এবং নদীর দুই তীরে দৃষ্টিনন্দন বাঁধ এ স্থানটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঈদের আনন্দকে ঘিরে ব্রিজের ওপর গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান। ফলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিনোদনের পাশাপাশি উপভোগ করছেন নানা ধরনের খাবারও।
এছাড়া নৌকায় চড়ে যমুনা নদী ও যমুনা সেতুর আশপাশ ঘুরে দেখার সুযোগ থাকায় স্থানটি ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন পুরোপুরি চালু হওয়ার পাশাপাশি এ এলাকার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ইকোনমিক জোনের এই ব্রিজ ও আশপাশের এলাকা ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, নদী, সেতু ও আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয়ে স্থানটি ইতোমধ্যেই বিনোদনপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

চলে গেলে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ

বাংলাদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই।

 

সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি এক মেয়ে, নাতি-নাতনি, রাজনৈতিক সহকর্মীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

 

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। 

 

তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

 

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি থাকাকালীন তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও আরও ৮ বার স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক অধিনায়ক রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর এ সদস্য ১৯৯৬ সালের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

নিখোঁজের ২৬ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে ২৬ দিন পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানাধীন ব্রহ্মগাছা গ্রামের বাসিন্দা বেলি রানী ভৌমিকের মেয়ে পলি কুমারী ভৌমিক (১৭) গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানায় জিডি নং-২৯২, তারিখ ৬ মে ২০২৬ রেকর্ড করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোরীর অবস্থান গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ১ নম্বর কাটাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে পলি কুমারী ভৌমিককে উদ্ধার করা হয় এবং তাকে হেফাজতে রাখা ব্যক্তি রবিউল আলম (৪৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল আলমের পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কয়রা এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত রবিউলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন , কিশোরীর বক্তব্য, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সড়কে বিছানো খড়ে বাইক পিছলে পড়ে প্রাণ গেল শ্যালক-দুলাভাইয়ের

শুকানোর জন্য সড়কের ওপর বিছানো খড় এবার কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে রাস্তায় ছড়িয়ে রাখা খড়ে পিছলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন সম্পর্কে দুলাভাই ও শ্যালক। এঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা বোন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​সোমবার (১ লা জুন) দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন- কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৮) এবং তাঁর শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলটি খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে সড়কে শুকাতে দেওয়া খড়ের ওপর চাকা পিছলে গিয়ে তারা ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনের স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চলতি ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কসহ জেলার বেশিরভাগ সড়কেই নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে রাস্তা দখল করে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। সড়কে শুকাতে দেওয়া এই খড়ের কারণেই মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

​ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল আলম দুর্ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত করে বলেন, রাস্তায় শুকাতে দেওয়া খড়ের কারণেই মোটরসাইকেলটি পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন অগ্রাধিকার : ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।

খবর :আলজাজিরা

সোমবার (১ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা জানি। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

 

বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, আজ সকালেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

ইরানি মুখপাত্র বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তেহরানের রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে। ওয়াশিংটন এসব হামলাকে আত্মরক্ষামূলক অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

 

হান্নান মাসউদের জন্য দুই ঘণ্টা আটকে থাকলো ফেরি: ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সংসদ আদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর (বন্ধ) করা অবস্থায় ফেরি ‘মহানন্দা’তে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হান্নান মাসউদকে যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানায়, ফেরি মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় ছেড়ে আসে।

 

যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। পরবর্তী ফেরি লোড আনলোড ও মাল-গাড়ি উঠানামা করতে সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে ৭টার কিছুক্ষণ আগে বা পরে ফেরি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে ফেরি ছাড়ে প্রায় রাত ৯টার সময়।

 

বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ গাড়িগুলোর জন্য কাউন্টারে বুকিং নিলেও ফেরি আনলোড হওয়ার পর গাড়ি তুলতে দেওয়া হয়নি। এতে মানুষজন প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে।

 

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন ফেরি ছাড়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ছাড়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য এতোগুলো মানুষ যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে উনি কেমন জনপ্রতিনিধি। তাছাড়া সঠিক সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর ও জেলা শহর মাইজদী গিয়ে বাসে না উঠতে পারলে রাতের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সারারাত বাস কাউন্টারে বসে থাকতে হবে, আবার আগামীকাল অফিসেও যাওয়া যাবে না।

 

 

ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, ৫টা ৪০ মিনিটে আমাদের ফেরি নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। আনলোড ও লোডে গড়ে ৪০ মিনিট করে সময়ের দরকার হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এমপি সাহেব আসবেন ফেরি ছাড়তে একটু দেরি হবে। তাই আমরা প্রথমে গাড়িগুলো উঠাতে দেয়নি। এনিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা ৪৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা দেরি হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

তবে এই বিষয়ে সাংসদ হান্নান মাসুদের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোষ্ট করেন। তাতে তারা ফেরি ঘাটের অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঘাট পরিদর্শনে গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। একটি গ্রুপ এই বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন বলে তারা প্রচার করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপ-পরিচালক রাকিবকে সৈয়দপুরে সংবর্ধনা

সৈয়দপুরের সন্তান ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল হাসান রাকিব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এনজিও ব্যুরোতে উপ-পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদল। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস.এম ওবায়দুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সহ-সভাপতি ও তাতীদলের আহ্বায়ক আনিস আনসারি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক এবং এম.এ পারভেজ লিটন।
এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী রশিদুল হক সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ তারেক আজিজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বসুনিয়া মিজু, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান সরকার দিনার এবং পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ কামরান উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোমিনুল ইসলাম রাব্বি।
বক্তারা বলেন, ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই রাকিবুল হাসান রাকিব এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা এ নিয়োগকে সৈয়দপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, তারেক রহমান যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করতে জানেন। রাকিবের এই অর্জন তারই প্রমাণ।
প্রধান বক্তা শাহীন আক্তার শাহীন বলেন, রাকিব অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী একজন কর্মী। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সে আজকের অবস্থানে এসেছে।
সভাপতির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ আরমান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

সোমবার (১ জুন) সকালে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত ৪১ সেকেন্ডের একটি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিও ফুটেজে ক্যাপশন দেয়া হয়েছে,” শরীয়তপুর ০১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশনায়…..শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধরন সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল।”

 

বিক্ষোভ মিছিলের ফুটেজে বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার ভোররাতে শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধরন সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে দিয়ে মিছিলটি যাচ্ছিল।

 

“জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাঁসবে, শেখ হাসিন ভয় নাই-রাজপথ ছাঁড়ি নাই, শরীয়তপুরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি-এসব শ্লোগান দিচ্ছিল মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা।

 

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহআলম বলেন, ভোর রাতে অর্থাৎ অন্ধকার থাকতে থাকতে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ধর্ষণের দায় স্বীকার করে সোহেল রানা বললেন, হত্যা করেছে ডলার

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানা ধর্ষণের দায় স্বীকার করলেও নিজে হত্যা করেননি বলে সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি শুধু ধর্ষণ করেছি, হত্যা করেছে ডলার।

 

 

সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়। এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় শুনানির জন্য তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

পরে বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হয়।

 

এ সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।

 

সোহেল রানা এ সময় তার ডিএনএ টেস্ট না নিয়ে রিপোর্ট অটোমেটিক লেখা হয়েছে বলেও দাবি করেন। নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা।

 

 

সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।

 

 

এদের মধ্যে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসে পুলিশ।

 

 

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

 

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

 

 

এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হয়েছে।

 

 

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কথা বলছি না। শুধু এ মামলায় নিজের প্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করব।

 

এদিকে মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হচ্ছে। তবে রায় হলেই তো হবে না, এটি কার্যকর করাটাই আসল। আর সেটি থমকে যায় মূলত উচ্চ আদালতে।

 

তিনি আরও জানান, তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে আশা করি এটি দ্রুত শেষ হবে। না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে করতে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

 

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

 

দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর প্রতিবাদ করায় ঈদের দিনে খুন হন শাকিল

সিরাজগঞ্জে ঈদের দিনে গলায় ছুরিকাঘাতে শাকিল (২৩) নামে এক যুবক খুনের ঘটনার তিনদিনে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী মো. রাকিবকে (২৫) কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার রাকিব (২৫) সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের গুপিরপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। ভিকটিম শাকিল একই ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

 

সোমবার (১ জুন) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ছোনগাছা বাজারের চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আসামিদের গ্রেপ্তারে সদর থানা ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম কাজ শুরু করে।

 

পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার চকোরয়িা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

 

হত্যার কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বেশ কিছুদিন আগে আসামি রাকিব ছোনগাছা বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে শাকিল ও তার বন্ধুদের কথা কাটাকাটি হয়। হত্যাকাণ্ডের ৩/৪দিন আগে সেলুনে চুলকাটাকে কেন্দ্র করেও ভিকটিম শাকিলের সঙ্গে রাকিব ও অপর দুই আসামি সাব্বির এবং শাকিলের কথা কাটাকাটি হয়।

 

এসব ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টায় ছোনগাছা বাজারের পাশে চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলের গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

 

এ ঘটনায়  নিহত শাকিলের ভাই মো. রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজেদের শেষ মুহূর্তে ঝালিয়ে নিতে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে ব্রাজিলের খেলায়। দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

 

 

তবে কিছুক্ষণ পরই পানামা সমতায় ফেরে। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিল ফরোয়ার্ড মাথিউস কুনহার শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়।

 

সমতায় ফেরার পর দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত গোলে আবারও লিড পায় সেলেসাওরা। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।

 

বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় ব্রাজিল। পানামার রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ান তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। এরপর লুকাস পাকেতার নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে স্কোরলাইন আরও বড় হয়।

 

শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইগর থিয়াগো। এরপর ডিফেন্ডার দানিলো প্রতিপক্ষের বক্সে চমৎকার দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রাজিলের ষষ্ঠ গোলটি করেন। অন্যদিকে পানামার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি আসে হার্ভের দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শট থেকে।

 

পুরো ম্যাচে বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণভাগে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে ব্রাজিল। তাদের মোট ১৪টি শটের বিপরীতে প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.২৬। বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন কৌশল ও খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখার সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন দলের কোচ।

 

এই ম্যাচের পর আগামী ৭ জুন মিশরের বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘সি’ গ্রুপে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে পরবর্তী দুই ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের।

 

বেঙ্গালরুর ঘরেই থাকলো আইপিএলের শিরোপা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে আজ গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে আরসিবি। শিরোপার লড়াইয়ে আরও একবার বিরাট কোহলির মাস্টারক্লাস ব্যাটিং দেখল ক্রিকেট দুনিয়া।

 

 

আহমেদবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে গুজরাটকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আরসিবি। আগে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি গুজরাট। দলের মূল শক্তি দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুবমান গিল শুরু থেকেই কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতেও পারেননি তারা। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে দলের ২২ রানের মাথাতে। ৮ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান গিল। তাকে ফিরিয়েছেন জশ হ্যাজলউড। পরের ওভারেই সুদর্শনকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। মাত্র ২৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে গুজরাট।

 

সেখানেই অনেকটা কোমর ভেঙে যায় গুজরাটের ইনিংসের। এরপরেও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বাকি ব্যাটাররা। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন তিনে নামা জস বাটলার এবং চারে নামা নিশান্ত সিঁধু দেখেশুনে এগিয়েছেন দুজন। বাটলার অনেক সময় নিলেও সেভাবে রান বের করতে পারেননি। আরেক প্রান্তে নিশান্তও ছিলেন নড়বড়ে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স।

বাটলার ২৩ বলে ১৯ রানের শম্বুকগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন। এর আগেই ফিরেছেন ১৮ বলে ২০ রান করা নিশান্ত সিঁধু। পাঁচে নেমে দলের হাল ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এক প্রান্ত ধরে রেখে খেলে গেছেন তিনি। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে রানও বের করেছেন। বাকিদের মধ্যে আরশাদ খান ৬ বলে ১৫ রান করেছেন। অন্য কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি।

 

 

কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তোলেন সুন্দর। লড়াকু ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন একদম শেষ পর্যন্ত। সুন্দরের ব্যাটে ভর করেই দেড়শ পার করে গুজরাট। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় গুজরাট টাইটান্স। ৩৭ বলে ৫০ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সুন্দর।

 

 

আরসিবির হয়ে ৩ উইকেট নেন রাসিখ সালাম। ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউড। এছাড়া ১ উইকেট তোলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।

 

 

জবাব দিতে নেমে আরসিবিকে ভালো শুরু এনে দেন ভেঙ্কাটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি। দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঝড়ের গতিতে এগোতে থাকে আরসিবির ইনিংস। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ভেঙ্কাটেশ এবং কোহলি। ওপেনিং জুটিতে চলে আসে ৬২ রান। ১৬ বলে ৩২ রান করে বিদায় নেন ভেঙ্কাটেশ। পরের ওভারে বিদায় নেন তিনে নামা দেবদূত পাড়িক্কালও। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তোলে আরসিবি।

 

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন বিরাট কোহলি। চারে নেমে কোহলির সাথে যোগ দেন অধিনায়ক রজত পতিদার। দুজনের ব্যাট ভর করে এগিয়ে চলেছে আরসিবির ইনিংস। পতিদার ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৩ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক। ক্রুনাল পান্ডিয়া ২ বলে ১ রান করেছেন। এক ওভারের মধ্যেই পতিদার এবং ক্রুনালকে ফেরান রশিদ খান। তবে কোহলিকে ঠেকানো যায়নি। মাত্র ২৫ বলেই ফিফটি ছুঁয়েছেন রান তাড়ার অঘোষিত রাজা কোহলি। টিম ডেভিড নেমে ১৭ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন।

 

 

ডেভিডের বিদায়ের পর কোহলির সাথে যোগ দেন জিতেশ শর্মা। ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটে চলেছেন বিরাট কোহলি। মাঝে একবার গিলের হাতে ধরা পড়লেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল লেগে গিয়েছিল মাঠের সাথে। ফলে বেঁচে যান কোহলি। শেষ পর্যন্ত কোহলির ছক্কাতেই শিরোপা জেতে আরসিবি। ১২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। ৪২ বলে ৭৫ রান করে টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন জিতেশ শর্মা।

 

গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাদা এবং আরশাদ খান।

 

 

রামিসা হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে আজ

আজ সোমবার (১ জুন) শুরু হচ্ছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ।

 

আজকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

 

গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল।

 

 

অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।

 

অকটেন-পেট্রলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়লো

অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের মূল্য লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (৩১ মে) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

 

এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রিমূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা লিটার, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

 

সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

 

এর আগে মে মাসে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল

 

হাসপাতালের পচা ডিম-বাসি রুটি খেয়ে দুই রোগী অসুস্থ্য

​মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের সকালের নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম। অস্বাস্থ্যকর এই খাবার খেয়ে অন্তত দুইজন রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ওয়ার্ডের রোগীদের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহকৃত পাউরুটির প্যাকেটে থাকা মেয়াদের তারিখ একদিন আগেই শেষ হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধ ডিমগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় অধিকাংশ রোগীই এই নাস্তা খেতে পারেননি।
রোগী ইব্রাহিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুটিতে ছত্রাক পড়ে গেছে আর ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। হাসপাতালের খাবার খেলে মানুষ সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
​রোগীর স্বজন মানসুরা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাত বছর বয়সী ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। সকালের নাস্তায় যে রুটি দেওয়া হয়েছে তার মেয়াদ গতকালই শেষ হয়েছে। ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার খেয়ে অন্তত একজন নারী রোগী বমি ও অসুস্থ অনুভব করেছেন। কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়ি চলে গেলেন।’
​হাসপাতালে ভর্তি ডায়াবেটিস রোগী হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কি মানুষ নই? গরু-ছাগলকেও কেউ এমন পচা খাবার দেয় না। চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’
জানা গেছে, হাসপাতালে নাস্তা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী নামের ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বরাবরই নির্বিকার।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​এ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার আরশাদ কবির বলেন, ‘একজন রোগী রুটি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি যদি সত্য হয় তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।’
​এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কিশোরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় স্কুলছাত্র নিহত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় মোতালেব হোসেন জীম বাবু (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের ময়দান পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জীম বাবু রনচন্ডী খদ্দারপাড়া গ্রামের আক্তারুল ইসলামের ছেলে। তিনি রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জীম বাবু মোটরসাইকেলযোগে রনচন্ডী বাজার থেকে বড়ভিটা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ময়দান পাড়া এলাকায় পৌঁছালে রংপুরগামী একটি কাভার্ড ভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে পাশ দিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর একটি পিকআপ গাড়ির নিচে চলে যান এবং গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সামনে অত্যন্ত একটি কঠিন সময় অপেক্ষা করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সামনে প্রথমত অত্যন্ত একটি কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের সামনে একইসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে আমাদের হেসেখেলে চলে গেলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। কাজেই শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন; আমরা সে ধারায় চেষ্টা করছি দেশকে পরিচালনা করতে।

 

 

রোববার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

 

বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দল, যার নীতি আছে, আদর্শ আছে, ম্যানিফেস্টো আছে। যেই ম্যানিফেস্টো আমরা মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলাম ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে। দেশের মানুষ এই ম্যানিফেস্টো দেখেছে, ‍বুঝেছে। ১২ তারিখ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য।

 

 

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে প্রায় এক ও অভিন্নভাবে দেখতো। সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছিলেন। সেই পথই অনুসরণ করতে হবে।

 

 

তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

২৪ ঘণ্টায় গৃবধু হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

গণধর্ষণের পর হত্যা নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার মূল রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ পিবিআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, গত ২৯ মে ২০২৩ তারিখে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া থানার জামলদী (হোসেন্দী) গ্রামের মো. মহসিন বেপারীর কন্যা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি চৌকস টিম ৩০ মে ২০২৩ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু কালাম (৪৮), বড় ভাটেরচর এলাকার মো. জামাল হোসেন (৪৪), মো. রাসেল মিয়া (৪৪) এবং মো. আলামিন প্রধান (৫০)।
পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা আক্তারের কাছে আসামি আবু কালামের আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা এবং আসামি রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং আসামি জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সম্মানহানি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসামিরা হালিমা আক্তারকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমা আক্তারকে ডেকে আনা হয়। এরপর একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে গজারিয়ার ‘বড় ভাটেরচর’ চকের ভেতরের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা পর্যায়ক্রমে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে পৈশাচিকতার চরম রূপ হিসেবে হালিমার পরনে থাকা প্যান্ট/টাইটস দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ও আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

জয়পুরহাটে বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার, ৫ নেতাকে শোকজ

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘অসাংগঠনিক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একই কমিটির আরও ৫ নেতাকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
​রোববার (৩১ মে) দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার (৩০ মে) দেশব্যাপী জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম (মাহবুব মেম্বার) কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করেননি। উল্টো তারা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে সোনামুখী ইউনিয়নের জাফরপুর স্কুল মাঠে অশ্লীল নাচ-গান এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ছিলেন। তাদের এই আচরণ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে জেলা বিএনপির নির্দেশে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়।
​এদিকে, একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আরও ৫ নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি। বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহমেদ রানা স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
​শোকজপ্রাপ্ত নেতারা হলেন- সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক এবং ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিনহাজ।
​নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ৩০ মে জাতীয় শোকের দিন থাকা সত্ত্বেও তারা দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শোক পালন না করে জাফরপুর স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে আনন্দ উৎসবে মেতে ছিলেন, যা সংগঠনের নীতিবহির্ভূত ও একটি গর্হিত কাজ। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের কারও সম্মতি নেওয়া হয়নি, যা গুরুতর সংগঠনবিরোধী কাজ।
​আগামী ৭ দিনের মধ্যে নোটিশপ্রাপ্তদের সন্তোষজনক ও যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সিরাজদিখানে ৩ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ আবিরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ইয়াহিয়া (৭০), রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত শরীফ উদ্দিন বেপারীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদ (৬২) এবং মালখানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল কাজী (৬০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইয়াহিয়াকে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরদিকে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদ ও বাবুল কাজীকে উপজেলার ইমামগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে সৈয়দপুর আব্দুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাহমুদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সমর্থকরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন পঞ্চসার ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকাকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোফাজ্জল (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চসার ইউনিয়নের জনৈক এক ব্যক্তির বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন অভিযুক্ত মোফাজ্জল। এই সুবাদে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মোফাজ্জল বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কক্ষে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ মে, ২০২৬ তারিখে। সেদিন রাত ৩টার দিকে মোফাজ্জল যখন কিশোরীকে ধর্ষণ করছিল, তখন ভিকটিমের বাবা-মা বিষয়টি দেখে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মোফাজ্জল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৩০ মে, ২০২৬ রাতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযুক্ত মোফাজ্জলকে ঐ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।ধর্ষক মোফাজ্জল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার মেলাপাড়া গ্রামের মৃত আকরাম শরীফের ছেলে। এই জঘন্য ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চোট নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও নেইমারকে বাদ দিচ্ছে না ব্রাজিল

ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের চোট নিয়ে যতই গুঞ্জন থাকুক না কেন, তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

 

 

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের কাফ ইনজুরি (পায়ের পেশির চোট) নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

 

 

গত ১৭ মে থেকে ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে আছেন নেইমার। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে তিনি ব্রাজিলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি।

 

 

দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহে আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাকেন। শুরুতে নেইমারের ক্লাব সান্তোস জানিয়েছিল, তার পায়ে সামান্য ফোলা রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ফিট হয়ে উঠবেন।

 

 

তবে ব্রাজিল দলে যোগ দেওয়ার পর নতুন পরীক্ষায় দেখা যায়, নেইমারের চোট আসলে ‘গ্রেড-টু’ স্তরের পেশির টান, যার কারণে তাকে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

 

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নেইমারের চোট যে ফোলা নয় বরং ‘গ্রেড-টু’ পর্যায়ের আগে জানলে তিনি তাকে স্কোয়াডে রাখতেন কি না? প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ রসিকতা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার দাদার যদি চাকা থাকত, তবে তিনি আস্ত একটা গাড়ি হতেন! আমি যখনই স্কোয়াড ঠিক করেছি, নেইমার সেই ২৬ জনের মধ্যেই ছিল।


ইতালিয়ান এই কোচ পরিষ্কার করেন, নেইমারকে ২৬ সদস্যের দলে নির্বাচন করার পরই কেবল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তার চিকিৎসার দায়িত্ব হাতে নিয়েছে।

 

 

আনচেলত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নেইমার ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলতে না পারলেও, গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ।

 

 

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই ফিট হয়ে উঠবে। যদি প্রথম ম্যাচে সে ফিট নাও থাকে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই ফিট হয়ে যাবে। এই ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।’

 

 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন করতে যাচ্ছি না। যে ২৬ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই বিশ্বকাপে খেলবেন।’

 

 

আনচেলত্তি জানান, দলে নেইমারের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মাঠে ফেরার জন্য নেইমার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

 

 

১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পর, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৮ জুন হাইতি এবং ২৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

স্বামীর সঙ্গে ফটোশুটে পূর্ণমা

এবার এক মনোমুগ্ধকর ব্রাইডাল ফটোশুটে হাজির হয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমে নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এই নায়িকা যা মুহূর্তেই আলোচনায় চলে আসে নেটদুনিয়ায়।

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, হালকা গোলাপি রঙের ঝলমলে ব্রাইডাল পোশাকে সেজেছেন পূর্ণিমা। সঙ্গে মানানসই সবুজ পাথরের গয়না, কপালে টিকলি এবং পরিপাটি মেকআপে তাকে দেখা গেছে যা এনে দিয়েছে এক রাজকীয় আবহ।

 

কখনও ক্যামেরার দিকে মিষ্টি হাসিতে তাকিয়ে, কখনও ওড়না হাতে খেলাচ্ছলে পোজ দিয়ে নিজের সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, পূর্ণিমা তার স্বামী আশফাকুর রহমানের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়ে রোম্যান্টিক স্টাইলে পোজ নিচ্ছেন। চারপাশে ছড়ানো হচ্ছে গোলাপ ফুলের পাপড়ি। স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে থাকা পূর্ণিমার সেই মুহূর্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভক্তদের।

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। পূর্ণিমার চিরযৌবনা রূপ লাবণ্য নিয়ে এক নেটিজেন লেখেন, ‘হিরোইন কখনো বুড়ো হয় না। কেননা তারা মন থেকেই নিজের সৌন্দর্যকে অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘পূর্ণিমা কি কখনো বুড়ি হবে না?’ আরেকজনের ভাষ্য, ‘ছোটবেলায় যেমন দেখেছি, এখন দেখি তার থেকে বয়স আরও কমে গেছে। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না।’

 

 

আবার স্বামীর সঙ্গে পূর্ণিমার এমন রোম্যান্টিক পোজ দেখে একজন মজা করে লিখেছেন, ‘আপা, দুলাভাইরে দিয়ে একটা রোম্যান্টিক ছবি বানাতে পারেন।’

 

 

উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আসছেন পূর্ণিমা। অভিনয়ের পাশাপাশি তার রূপ সৌন্দর্যও বরাবরই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তিন প্রজন্মের নায়িকা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রীকে ভক্তরা ‘চিরযৌবনা’ বলেও অভিহিত করেন। সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়লেও, পূর্ণিমার সৌন্দর্যের আবেদন যেন এখনো আগের মতোই অটুট।