সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

কিডনি বেঁচেও অভাব ঘোচেনি: ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার ছামছুল

অভাবের তাড়নায় পাঁচ লাখ টাকায় নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০)। তবে এতেও ঘোরেনি তাঁর ভাগ্যের চাকা, ঘোচেনি অভাব। উল্টো ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় পুলিশে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে ঠাঁই হয়েছে তাঁর। হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কালাই উপজেলায়।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ছামছুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি উপজেলার শাইলগুন গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

 

​এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাত্রাই বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ছামছুল। তিনি দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে দুবাই হয়ে ইরানে গিয়ে একটি হাসপাতালে নিজের বাম পাশের কিডনিটি বিক্রি করেন। চট্টগ্রামে একটি কাজে থাকার সময় ‘মাসুম’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই দালালের মাধ্যমেই পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে তাঁর কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয়, যার বিনিময়ে তিনি পান মাত্র পাঁচ লাখ টাকা।

 

 

​স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তারের সময় ছামছুলের কাছে ইরানের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর পেটের বাম পাশে অস্ত্রোপচারের গভীর দাগও দেখা গেছে।

​এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির একটি নির্দিষ্ট মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরই তাঁর কিডনি বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ পায়।

 

​তিনি আরও জানান, মানবদেহের অবৈধ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত দালালদের চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

কিডনি বেঁচেও অভাব ঘোচেনি: ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার ছামছুল

আপডেট টাইম : ০৮:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অভাবের তাড়নায় পাঁচ লাখ টাকায় নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০)। তবে এতেও ঘোরেনি তাঁর ভাগ্যের চাকা, ঘোচেনি অভাব। উল্টো ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় পুলিশে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে ঠাঁই হয়েছে তাঁর। হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কালাই উপজেলায়।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ছামছুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি উপজেলার শাইলগুন গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

 

​এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাত্রাই বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ছামছুল। তিনি দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে দুবাই হয়ে ইরানে গিয়ে একটি হাসপাতালে নিজের বাম পাশের কিডনিটি বিক্রি করেন। চট্টগ্রামে একটি কাজে থাকার সময় ‘মাসুম’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই দালালের মাধ্যমেই পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে তাঁর কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয়, যার বিনিময়ে তিনি পান মাত্র পাঁচ লাখ টাকা।

 

 

​স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তারের সময় ছামছুলের কাছে ইরানের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর পেটের বাম পাশে অস্ত্রোপচারের গভীর দাগও দেখা গেছে।

​এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির একটি নির্দিষ্ট মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরই তাঁর কিডনি বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ পায়।

 

​তিনি আরও জানান, মানবদেহের অবৈধ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত দালালদের চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।