সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

কেরানীগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা মামলায় ভাসুর সবুজ রিমান্ডে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার খেজুরবাগ এলাকায় গৃহবধূ ফারজানা আক্তার (২৪) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তার ভাসুর মো. সবুজ খলিফাকে (৩৬) দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহফুজুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

 

 

কেরানীগঞ্জ জিআর শাখার এসআই আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক তাপস কুমার কুন্ডু আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে, চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১০ এ তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফারজানা আক্তার চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামি সবুজ খলিফাকে গ্রেপ্তারের ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারকে হত্যার ব্যাপারে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।

 

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে। গত জানুয়ারির ১৮ তারিখ সে তার স্বামী রিফাতের সাথে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে। তারপর কেরানীগঞ্জে খেজুরবাগের শ্বশুরের ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভুক্তভোগী ফারজানা তার মাকে ফোনে জানায় বাসায় তার জামাই এবং শ্বশুর কেউ নেই শুধুমাত্র ভাসুর সবুজ আছে। পরবর্তীতে রাত ৯ টায় বাদীকে তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ফোন দিয়ে জানায় যে ফারজানার বড় বিপদ হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীর মা খবর শুনে গাড়ি না পাওয়ার ঘটনাস্থলে আসতে ঘটনাস্থলে আসতে পারেনা। তবে সাথে সাথে অন্য আত্মীয়- স্বজন সেখানে পাঠায় এবং পরেরদিন দুপুর ২ টায় ঘটনাস্থলে আসে। তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ঘটনাস্থলে এসে ফারজানা আক্তারের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড পাঠায়।

 

 

বাদী মাকসুদা আক্তার অভিযোগ করেন, বাসায় কে থায় আঘাত করে এবং গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। পরে আসামি সবুজ খলিফা বোরকা পরে পালানোর সময় তাকে এলাকার লোকজন চোর সন্দেহে ধরে ফেলে এবং কিছুক্ষণ মেরে ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে সে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত পলাতক ছিল।

 

 

ঘটনার পরদিন ১৯ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

কেরানীগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা মামলায় ভাসুর সবুজ রিমান্ডে

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার খেজুরবাগ এলাকায় গৃহবধূ ফারজানা আক্তার (২৪) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তার ভাসুর মো. সবুজ খলিফাকে (৩৬) দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহফুজুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

 

 

কেরানীগঞ্জ জিআর শাখার এসআই আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক তাপস কুমার কুন্ডু আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে, চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১০ এ তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফারজানা আক্তার চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামি সবুজ খলিফাকে গ্রেপ্তারের ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারকে হত্যার ব্যাপারে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।

 

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে। গত জানুয়ারির ১৮ তারিখ সে তার স্বামী রিফাতের সাথে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে। তারপর কেরানীগঞ্জে খেজুরবাগের শ্বশুরের ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভুক্তভোগী ফারজানা তার মাকে ফোনে জানায় বাসায় তার জামাই এবং শ্বশুর কেউ নেই শুধুমাত্র ভাসুর সবুজ আছে। পরবর্তীতে রাত ৯ টায় বাদীকে তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ফোন দিয়ে জানায় যে ফারজানার বড় বিপদ হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীর মা খবর শুনে গাড়ি না পাওয়ার ঘটনাস্থলে আসতে ঘটনাস্থলে আসতে পারেনা। তবে সাথে সাথে অন্য আত্মীয়- স্বজন সেখানে পাঠায় এবং পরেরদিন দুপুর ২ টায় ঘটনাস্থলে আসে। তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ঘটনাস্থলে এসে ফারজানা আক্তারের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড পাঠায়।

 

 

বাদী মাকসুদা আক্তার অভিযোগ করেন, বাসায় কে থায় আঘাত করে এবং গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। পরে আসামি সবুজ খলিফা বোরকা পরে পালানোর সময় তাকে এলাকার লোকজন চোর সন্দেহে ধরে ফেলে এবং কিছুক্ষণ মেরে ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে সে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত পলাতক ছিল।

 

 

ঘটনার পরদিন ১৯ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।